জন্মের পরই অন্ধ হয়ে যায় মানুষ, এমনকী পশুপাখিও! এই গ্রাম ঘিরে এখনও রয়েছে গভীর রহস্য

Blind Village Mexico : তবে সবকিছুর বাইরে অদ্ভুত এই রহস্যের জন্য গোটা পৃথিবীর কাছে টিলটেপেকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

inscript
৩ মিনিট
জন্মের পরই অন্ধ হয়ে যায় মানুষ, এমনকী পশুপাখিও! এই গ্রাম ঘিরে এখনও রয়েছে গভীর রহস্য

চারিদিকে ঘন জঙ্গল। গাছপালা, লতাপাতার সঙ্গে বিভিন্ন জীবজন্তুর বাস। আলো আঁধারিতে এমনিতেই একটা রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়ে থাকে সেখানে। সেই জঙ্গলের মাঝেই ছোট্ট একটি গ্রাম, নাম টিলটেপেক (Tiltepec)। বাইরে থেকে সাধারণ আর পাঁচটা গ্রামের মতোই দেখতে লাগবে একে। ভেতরে ঢুকলেও তাই। কিন্তু কোথাও যেন একটা অন্যরকম ব্যাপার রয়েছে। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন সেই রহস্য। গ্রামে যে মানুষেরা রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অন্ধ! চোখে দেখতে পান না কেউই! আট থেকে আশি – গোটা গ্রামই অন্ধত্বের কবলে পড়েছে। তাও আজ থেকে নয়, বহু বছর ধরেই নাকি এখানকার ছবিটা এমন।

মধ্য আমেরিকার অন্যতম দেশ মেক্সিকো। ফুটবল থেকে ড্রাগ, বন্যপ্রাণ – নানা কারণে গোটা বিশ্বে এই দেশের নাম ছড়িয়ে রয়েছে। সেই দেশেরই অদ্ভুত একটি গ্রাম এই টিলটেপেক। মেক্সিকোর অন্যতম প্রান্তিক এই গ্রামে বসবাস করেন জাপোটেক গোষ্ঠীর মানুষেরা। আজ থেকে নয়, বহু বছর ধরে এই গ্রাম, এর আশেপাশের জঙ্গলই তাঁদের সহায়সম্বল। ৩০০-রও বেশি মানুষ এখানে বসবাস করেন। গ্রামের অবস্থা যে খুব একটা ভালো, তা নয়। তবে সবকিছুর বাইরে অদ্ভুত এই রহস্যের জন্য গোটা পৃথিবীর কাছে টিলটেপেকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেওয়ালে, দরজায় সর্বত্র আঁকা পুরুষাঙ্গ! ভুটানের এই রহস্যময় রীতির আসল কারণ কী?

Bhutan Phallus Painting: ভুটানে গৃহপ্রবেশের সময়, পুরুষাঙ্গের চিহ্নগুলি ছাদের চারটি কোণে এবং একটি বাড়ির ভিতরে স্থাপন করা হয়।

একটা গ্রামের সমস্ত মানুষ অন্ধ! এমনটা বিশ্বাস করা একটু কঠিন কাজ, তাই না? কিন্তু টিলটেপেকের ছবিটা তাই। তবে রহস্যের এখানেই শেষ নেই। কেবল মানুষই নয়, এই গ্রামের ভেতর যত পশুপাখি রয়েছে, প্রত্যেকেই অন্ধ! কিন্তু শুরুতে নাকি এমন পরিস্থিতি থাকে না! পশুপাখি হোক বা মানুষ, সুস্থ শরীরেই সবাই জন্মগ্রহণ করে। নবজাতকরাও চোখ মেলে পৃথিবীর আলো দেখে। সবকিছুই থাকে স্বাভাবিক। কিন্তু এই ‘আচ্ছে দিন’-এর মেয়াদ মাত্র কয়েকদিনের। তারপরই অন্ধত্ব গ্রাস করে সেই শিশুদের। ‘অজানা কারণে’ জন্মের কয়েকদিন পরই সমস্ত নবজাতক অন্ধ হয়ে যায়। পশু, পাখি, মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী, সবার অবস্থাই এমন। কিন্তু কেন?

বহু বছর ধরে এই রহস্যেরই সমাধান করার চেষ্টায় রয়েছেন মেক্সিকো প্রশাসন ও বিজ্ঞানীরা। টিলটেপেক গ্রামের জাপোটেক গোষ্ঠীর মানুষদের অবশ্য বিশ্বাস অন্য। গ্রামের ভেতরেই ঘুরে বেড়ায় লোককথা। গ্রামবাসীদের দাবি, ঘন জঙ্গলের ভেতর এক প্রকারের গাছ আছে। স্থানীয়রা তাকে ‘লাবজুয়েলা’ বলেন। টিলটেপেকের বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ওই গাছটি অভিশপ্ত। আর সেই অভিশাপের কবলেই পড়েছে গোটা গ্রাম। তাই জন্মের কয়েকদিন পরই সবাই অন্ধ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই তত্ত্ব বিশ্বাস করেননি। এমন কোনও অভিশপ্ত গাছ তাঁদের নজরেও আসেনি। তবে রহস্যের সন্ধানে বেরিয়ে একটু বিশেষ তথ্য পেয়েছেন তাঁরা।

টিলটেপেক গ্রামের চারদিকটা ঘন জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। আর আমেরিকার এই জঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বসবাস করে। সেরকমই একটি প্রাণী হল ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’। সামান্য মাছির মতোই দেখতে, আকারে একটু বড়। কিন্তু স্বভাব আমাদের ঘরে, মিষ্টির দোকানে ঘুরে বেড়ানো মাছিদের মতো নয়। বরং ব্ল্যাক ফ্লাইকে একটু এড়িয়েই চলতে বলেন বিজ্ঞানীরা। তীব্র বিষাক্ত এই মাছি কামড়ানোর ফলে নানা রোগ দেখা যায়। আর এই মাছিই নাকি রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে।

গবেষকরা বলছেন, মেক্সিকোর ওই গ্রামের আশেপাশে ঘন জঙ্গল। আর সেখানে প্রচুর পরিমাণে ব্ল্যাক ফ্লাইয়ের বসবাস। তারা গ্রামেও ঢুকে পড়ে। আর সেই বিষাক্ত মাছির কামড়ের ফলে জীবাণু শরীরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। তার জেরেই নাকি সবাই অন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে আরও গবেষণা চলছে। আরও কিছু কারণ রয়েছে কিনা, সেটা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। মেক্সিকো প্রশাসনও টিলটেপেক গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা। গ্রামের মানুষগুলোই নিজেদের জায়গা ছেড়ে নড়তে চাইছে না। বহু বছর ধরে চলা এই অন্ধত্বের প্রথাকে তাঁরা একপ্রকার ‘বরণ’ করে নিয়েছে। রহস্য তাই এখনও জারি রয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।