কেন অভয়া কাণ্ডের পরও তৃণমূল কংগ্রেস ধাক্কা খেল না?

WestbengalBy-election2024:দ্রোহের সময় কেন তৃণমূল কংগ্রেস ধাক্কা খেল না?গ্রাম বাংলার মানুষ অবধি কি সেভাবে পৌঁছতেই পারেনি অভয়া আন্দোলন?লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া থেকেই কি বদলানো গেল না পরিস্থিতি?

Tanvia Barua
৩ মিনিট
কেন অভয়া কাণ্ডের পরও তৃণমূল কংগ্রেস ধাক্কা খেল না?

পশ্চিমবঙ্গের ৬টি আসনেই উপনির্বাচনের ফল ছিল আজ। বেলা গড়াতে বোঝা গেল তৃণমূল জিতছে। অভয়া কাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নির্বাচনের সুযোগ এসেছিল। অনেকের কৌতূহল ছিল এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। উপনির্বাচনের ফল বলে দিচ্ছে আরজি কর কাণ্ড প্রত্যাশিত দাগ কাটতে পারল না। শেষ হাসি হাসল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ৬টি আসনেই তাদের জয়জয়কার। প্রথমবার আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট কেন্দ্রে ২৮১৬৮ ভোট ব্যবধানে জয়প্রকাশ টোপ্পো, কোচবিহারের সিতাই কেন্দ্রে ১৩০৬৩৬ ভোট ব্যবধানে সঙ্গীতা রায়, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর কেন্দ্রে ৩৩৯৯৬ ভোট ব্যবধানে সুজয় হাজরা , উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় ১৩১২৮৪ ভোট ব্যবধানে শেখ রাবিউল ইসলাম এবং নৈহাটি কেন্দ্রে ৪৯২৭৭ ভোট ব্যবধানে সনৎ দে ও বাঁকুড়ার তালডাংরা কেন্দ্রে ৩৪০৮২ ভোট ব্যবধানে ফাল্গুনী সিংহ বাবু জয়ী হয়েছেন।

গত কয়েক মাসে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আরজি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভয়া আন্দোলন, সম্পূর্ণ ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন ছিল না। কোনো রাজনৈতিক দলের ঝান্ডার তলায় নয়, মানুষ বেড়িয়েছিল স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। কিছু মাস ধরে নাগরিকদের ব্যাপক রকম বিক্ষোভ প্রতিদিন হয়ে গিয়েছে। দিন-রাত জুনিয়ার ডাক্তারদের বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনা কিন্তু এর আগে কখনও হয়নি।

১৪ ই অগস্টের রাত দখল, তারপর ৪ সেপ্টেম্বর, ৯ সেপ্টেম্বর এবং দ্রোহের কার্নিভালের দিন যা হল তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পার্ক স্ট্রিটের একটি দামী রেস্তোরাঁয় ৯ মিনিট ধরে কোনো খাবার পরিবেশন করা হয়নি, কফি হাউসেও নিষ্প্রদীপ করে রেখে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল, দলে দলে মানুষ এসে বিক্ষোভ করেছিল। এখানে কোনো দল ছিল না, কোনো ঝান্ডা ছিল না। একটা সময় পর আন্দোলনের রাশ চলে যায় ডাক্তারদের হাতে। অনেকেই দাবি করেছেন, মূল দাবি থেকে ডাক্তাররা সরে যাচ্ছেন। কিন্তু এও ভুলে গেলে চলবে না যে ডাক্তাররা গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বৃত্তায়ন প্রকাশ্যে এনেছেন।

এখন এই নাগরিক আন্দোলন প্রায় থিতিয়ে গিয়েছে। অভয়া আন্দোলনের সময় স্বাধীন মতের বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ, মিটিং-মিছিল-সমাবেশে আক্রমণও চালিয়েছিল শাসকদলের ঘনিষ্ঠরা। তবুও আন্দোলন থামেনি আরও জোরালো হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, এটার একটা নেতিবাচক দিকও আছে। তাদের মত ছিল, কোনো একটি রাজনৈতিক ঘটনার পরিবর্তন আনতে চাইলে রাজনৈতিক অভিমুখ থাকা উচিত। এই গণ-আন্দোলনের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক অভিমুখ ছিল না। তাহলে, তার জন্যই কি এই আন্দোলন বিরাট কোনো টার্ন নিতে পারল না?

বলে রাখা ভাল, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ চলতে চলতেই রাজ্যে আরও ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু কলকাতার বেশিরভাগ নাগরিক মিছিলেই স্লোগান 'জাস্টিস ফর আরজি কর' এই আটকে ছিল। যদি ১০% মানুষের মধ্যে স্লোগান উঠত 'জয়নগর টু আরজিকর', বাকি ৯০%-র মুখেই ছিল 'জাস্টিস ফর আরজি কর'। স্লোগানেই খানিক আন্দাজ করা যায় যে, একই ঘটনা শহরে এবং মফস্বলে ঘটলেও, শহরের ঘটনাটির মতো অভিঘাত মফস্বলের ঘটনা তৈরি করতে পারেনি। তাই জয়নগররের মতো মফস্বল এবং গ্রাম বাংলার ঘটনা প্রত্যাশিত আলোড়নও তৈরি করতে পারেনি। অনেকেই মনে করছেন, এর জন্য যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক দুই প্রেক্ষাপটই রয়েছে।

এই নির্বাচনকে কাটাছেঁড়া করে দেখলে বোঝা যাবে তৃণমূল কংগ্রেস ৬টা আসনই পেয়েছে অবশ্যই। কিন্তু সেই নির্বাচনী ফলাফলের গভীরে কী লুকিয়ে আছে? ৬টি আসনের মধ্যে নৈহাটি ও মেদিনীপুর শহরাঞ্চল। এখানে কিছু পঞ্চায়েত এলাকা থাকলেও তা শহরঘেঁষা। আর বাকি ৪কেন্দ্র সিতাই, মাদারিহাট, তালড্যাংরা এবং হায়োড়া গ্রামাঞ্চল। নির্বাচনী ফলাফলে এর কোনো প্রভাব গ্রাম বাংলায় দেখা যাচ্ছে না। অনেকেরই মত ছিল এই আন্দোলন ছিল নগরকেন্দ্রিক। গ্রামাঞ্চলে এই আন্দোলনের স্বতস্ফূর্ততা দেখা যায়নি। অন্যদিকে, লক্ষীর ভাণ্ডার, বিনামূল্যে রেশন, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী মতো প্রকল্প চলে রাজ্যে। নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস বার বার এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে, বিরোধীরা এই যুক্তিও দিচ্ছে যে বাংলায় স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া হয় না।

দ্রোহের সময় কেন তৃণমূল কংগ্রেস ধাক্কা খেল না? অভয়া আন্দোলন শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে? গ্রাম বাংলার মানুষ অবধি কি সেভাবে পৌঁছতেই পারেনি অভয়া আন্দোলন? প্রশ্ন এও থাকছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া থেকেই কি বদলানো গেল না পরিস্থিতি?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।