'সুযোগসন্ধানী নাটক'! মেয়েদের রাত দখল নিয়ে কী বলছেন কুণাল ঘোষ?

Kunal Ghosh on RG Kar Protest: এই আন্দোলন ধর্ষণের বিচার চেয়ে হলেও কুণাল তাতে রাজনীতি টেনেই এনেছেন। টেনে এনেছেন কোন শাসকের কোন জমানায় কে কে ধর্ষিতা হয়েছেন সেই তালিকা।

inscript
৩ মিনিট
'সুযোগসন্ধানী নাটক'! মেয়েদের রাত দখল নিয়ে কী বলছেন কুণাল ঘোষ?

সদ্য বাংলাদেশে আন্দোলনের জেরে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ এবং খুন হয়েছেন তরুণী চিকিৎসক। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার চেয়ে ক্ষোভে উত্তাল সারা বাংলা। আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে মধ্যরাতে শুধুমাত্র নাগরিকদের ডাকে পথে নামছেন মেয়েরা। আন্দোলন আর সীমাবদ্ধ নেই কলকাতায়। ইতিমধ্যেই, বাংলাদেশের মতোই দেখা গেছে পোস্টার, ১ দফা দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ। স্বাভাবিকভাবেই এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে শাসক তৃণমূলের গায়ে আঁচ এসে লেগেছে। আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বদলি থেকেই আঙুল উঠতে থাকে প্রশাসনের দিকে। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা কেউই সেভাবে সরব হননি। তারকা মুখদের মধ্যে দেব নিজের সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ স্থগিত করে দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু বাকিরা চুপ। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এরই মধ্যে জানিয়ে দেন বুধবার মধ্যরাতের আন্দোলনে যোগ দেবেন তিনি। তৃণমূলের বড় কোনও নেতা এই আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও মাঠে নেমে পড়েছেন কুণাল ঘোষ। কেন?

একের পর এক টুইট করেই চলেছেন কুণাল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার দুপুর অবধি এক্স-এ তিনি টুইট করে চলেছেন বিচিত্র সব বার্তা লিখে। আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার অর্থাৎ ১৪ অগাস্ট রাজ্যজুড়ে রাত দখলের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে যাদবপুর, আকাদেমি ও কলেজস্ট্রিট চত্বরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল ঠিকই কিন্তু পরে এই ডাক ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়, আসানসোল, চুঁচুড়া, জলপাইগুড়ি, কৃষ্ণনগর, রানিগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বোলপুর সর্বত্রই প্রাক-স্বাধীনতার রাতে পথে নামছেন মেয়েরা। এই ডাক কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ডাকা হয়নি। তা সত্ত্বেও এর ব্যাপকতা চমকে দেওয়ার মতোই। কুণাল ঘোষ মনে করছেন, মোটেও অরাজনৈতিক না। এ খুব পরিকল্পিত ছক সিপিএম এবং বিজেপির। এই আন্দোলন ধর্ষণের বিচার চেয়ে হলেও কুণাল তাতে রাজনীতি টেনেই এনেছেন। টেনে এনেছেন কোন শাসকের কোন জমানায় কে কে ধর্ষিতা হয়েছেন সেই তালিকা। কুণাল বলছেন, ‘রাম-বামের’ জমানায় বহু ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার নজির রয়েছে। সেই নেতারাই আরজি কর-কাণ্ডে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৫১ বছর আগে ধর্ষণ করে কুকুরের চেন দিয়ে শ্বাসরোধ! মনে পড়ে নার্স অরুণা শানবাগকে?

Aruna Shanbaug Rape Case: হাসপাতালের তৎকালীন ডিন, ডঃ দেশপান্ডে ওই জুনিয়র ডাক্তারকে বাঁচতে 'পায়ুপথে ধর্ষণ' বা সোডোমি-র বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

কুণাল ঘোষ বলছেন, আরজি করের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি তৃণমূলও চায়। কিন্তু তিনি বিজেপি ও সিপিএমের এই মিলিত 'নাটকে' নেই। শুধু তাই না, কুণাল এই মধ্যরাতের বিক্ষোভে শামিল হতেও বারণ করছেন। তিনি লিখেছেন, "বাম-রাম মুখোশ পরে রাতে পথনাটিকা করবে। তাতে শামিল হবেন না। ওরা বানতলা, ধানতলা-সহ অসংখ্য ঘটনার ধারক-বাহক।" কুণাল লিখছেন, "যারা বড় বড় কথা বলে লাফাচ্ছে, কোচবিহার, বানতলা, ধানতলা, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের ধর্ষণ, খুনের পর কোথায় ছিল? সিপিএম, বিজেপির যৌথ রাতজাগার নাটক। প্রতিবাদ আমরাও করছি। সবাই করছি। কিন্তু ওরা অতীত ভুলিয়ে মুখোশ পরে রাজনীতি করছে। ওদের অতীত মনে করান।"

এর পরের দাবি:

দিনে ভোট হলে আমরা হারি, তাই রাতে ভোট চাই।

ভোটার, রাত দখল করো।

সৌজন্যে: রাম-বাম।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাত দখলের পর নিরাপদে ঘরে ফিরবেন তো মেয়েরা? থাকছে ওলা, উবের

RG Kar Midnight Protest: মধ্যরাতের জমায়েত সেরে মেয়েরা যখন বাড়ি ফিরবেন, তারা নিরাপদ তো?

কুণাল বলছেন, আরজি করের পাশাপাশি কোচবিহার, বানতলা, ধানতলা, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, উন্নাও, হাথরাস, বিলকিস ধর্ষণকেও রাখতে হবে। বাম জমানায় ধর্ষণ করে খুন-করা স্বাস্থ্য অধিকর্তা অনিতা দেওয়ানের বাড়ির সামনে পোস্টার নিয়ে ধর্না দিতেও বসে পড়েন কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল লিখেছেন, সিপিএমের বিপ্লবীরা আগে বর্ণালী দত্ত, ডাঃ অনিতা দেওয়ান, তাপসী মালিক, ধানতলা, নন্দীগ্রামের হিসেব দিক। আর রাতের জমায়েত? রোজ রাত আর ভোরে এই বাংলায় অসংখ্য মা, বোন যাতায়াত করেন। গ্রাম থেকে স্টেশন, রেল ধরে শহর। কতরকম কাজ। দেখুন। বুঝুন। রাত জমায়েতের নাটক দরকার নেই।"

এত নিরাপদ শহর হলে কীভাবে আরজি কর হাসপাতালের মধ্যে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করা হলো? সেই বিষয়ে যুক্তি কুণাল ঘোষের কাছে চাওয়া যদিও অন্য বিড়ম্বনা। তাঁর একাধিক পোস্টেই তাঁর বার্তায় যুক্তিসঙ্গত কথা পাওয়া যায়নি। যেমন একটি টুইটে তিনি লিখেছেন, "এর পরের দাবি: দিনে ভোট হলে আমরা হারি, তাই রাতে ভোট চাই। ভোটার, রাত দখল করো। সৌজন্যে: রাম-বাম।" একটি গুরুতর অপরাধ, তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, মহিলাদের উদ্যোগকে তিনি কেন হাস্যরসাত্মক করে তুলতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের বাকি নেতারা কেউই সরাসরি এই বিক্ষোভের বিরোধিতায় নামেননি। কুণাল ঘোষকে কি বকলমে দল থেকে বিরোধিতার দায়িত্ব দেওয়া হলো? নাকি তিনি প্রচারের আলো টানার কাজটিতে নিজেকে দড় প্রমাণ করতেই ধারাবাহিক টুইটগুচ্ছ প্রকাশ করছেন? নাহলে বুধবার দুপুরে কেনই বা তিনি লিখতে গেলেন, "এরপর থানায় বধূনির্যাতন, বধূহত্যা বা শাশুড়ি নির্যাতনের মামলা এলে পুলিশ সংশ্লিষ্ট শাশুড়ি, ননদ, বউমাকে পুলিশ ধরবে না তো? সবাই তো মহিলা।"

এরপর থানায় বধূনির্যাতন, বধূহত্যা বা শাশুড়ি নির্যাতনের মামলা এলে পুলিশ সংশ্লিষ্ট শাশুড়ি, ননদ, বউমাকে পুলিশ ধরবে না তো?

সবাই তো মহিলা।

আজ যারা নাটকের ইভেন্টে যাবেন, সেই বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

RGKar. প্রতিবাদ আমাদেরও। দোষীদের শাস্তি আমরাও চাই। তবে রামবামের সুযোগসন্ধানী নাটকে নেই।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

রাজনীতিতে সত্যিই ভদ্রজনোচিত আচরণের ইতি যে ঘটেছে কুণাল তাই প্রমাণ করে ফেলছেন না তো?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।