স্ট্যালিন পুত্রের মাথা কাটলেই ১০ কোটি দেবেন এই ধর্মগুরু! কেন?

Udhayanidhi Stalin Sanatan Dharma: উদয়নিধি প্রশ্ন তুলছেন, সনাতন কী? সনাতন মানে স্থবির। যা চিরকাল চলে আসছে, কিছুই পরিবর্তন করা উচিত নয়।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
স্ট্যালিন পুত্রের মাথা কাটলেই ১০ কোটি দেবেন এই ধর্মগুরু! কেন?

সনাতন ধর্মের কেবল বিরোধিতাই করা উচিত না, উচিত একে নির্মূল করা! মোদির দেশে খোদ সনাতন ধর্ম নিয়ে এমন চূড়ান্ত বিতর্কিত কথা বলেছেন ডিএমকে নেতা উদয়নিধি। উদয়নিধি স্ট্যালিন হচ্ছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির নাতি এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পুত্র। ডিএমকে মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম বড় শরিক। সেই দলের নেতার এই সনাতন ধর্ম বিরোধিতাকে 'হিন্দু বিরোধিতা' হিসেবে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। বিজেপি বলছে, ধর্ম কি মশা নাকি! ডেঙ্গু নির্মূল, ম্যালেরিয়া নির্মূল, করোনা নির্মূলের মতো বলে, আসলে সনাতন ধর্মের অপমান করা হয়েছে। সে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক হানাহানি হতেই পারে। বিষয়টাকে একেবারে 'শাস্তিযোগ্য' অপরাধ করে তুলেছেন অযোধ্যার তপস্বী ছাউনি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহন্ত পরমহংস দাস। তিনি 'শিরচ্ছেদ' করার নির্দেশ দিয়েছেন উদয়নিধি স্ট্যালিনের। যে শিরচ্ছেদ করবে তার জন্য ১০ কোটি টাকা নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। এত টাকা একজন তপস্বী পাবেন কোত্থেকে? পরমহংস বলছেন, "আমি ৫০০ কোটির মালিক, ১০ কোটি টাকা দেওয়া আমার কাছে কোনও ব্যাপারই নয়!”

সত্যিই ব্যাপার নয়। মহন্ত পরমহংস দাস এর আগেও বহু মানুষের মাথার দাম নির্ধারণ করেছেন। এই বছরের জানুয়ারিতেই ৫০০ টাকা দেবেন বলেন (১০ কোটি নাই বা হলো, টাকা তো!)। তুলসীদাসের রামচরিতমানসকে অসম্মান করার জন্য সমাজবাদী পার্টির স্বামী প্রসাদ মৌর্যের মাথা আনলেই ৫০০ টাকা! সে যাই হোক, বিজেপির অন্য নেতারাও বসে নেই। পাল্টা নানা আক্রমণ, মামলার গল্প চলছেই। কিন্তু উদয়নিধিই বা হঠাৎ এমন মন্তব্য করলেন কেন? উদয়নিধি স্টালিন বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাই দায়ের হোক না কেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন না। বরং বিজেপি ইন্ডিয়া জোটকে ভয় পাচ্ছে বলেই তাঁর মূল বক্তব্যকে বিকৃত করে ব্যবহার করছে। তিনি কেবল সনাতন ধর্মের সমালোচনা করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধির সম্পর্ক আসলে কেমন? যা প্রমাণে মরিয়া বিজেপি...

Rahul Gandhi Priyanka Gandhi : মহাভারতের ট্র্যাডিশন মেনেই তেজস্বী যাদব আর তেজ প্রতাপের মধ্যে লড়াই হয়েছে, সুপ্রিয়া শুলে আর অজিত পাওয়ারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশাল।

উদয়নিধি বলছেন, তিনি সনাতন ধর্মের সমালোচনা করেই বলেছেন সনাতন ধর্মকে নির্মূল করা উচিত। এবং তিনি বারেবারেই এই কথাই বলবেন। অনেকে মনে করছেন সনাতন ধর্ম নির্মূল করা মানে গণহত্যার ডাক দেওয়া! পাল্টা প্রশ্ন স্টালিনের, অন্যরা যখন যে দ্রাবিড়ম নির্মূলের কথা বলছেন, তার মানে কি ডিএমকে পন্থীদের হত্যা করার কথা বলা হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন 'কংগ্রেস মুক্ত ভারত' বলেন, তার মানে কি কংগ্রেসিদের হত্যা করা?

উদয়নিধি প্রশ্ন তুলছেন, সনাতন কী? সনাতন মানে স্থবির। যা চিরকাল চলে আসছে, কিছুই পরিবর্তন করা উচিত নয়। কিন্তু দ্রাবিড় মডেল পরিবর্তনের ডাক দেয়, সকলের সমান হওয়া উচিত বলে মনে করে। বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করছে বলে দাবি তাঁর। বিজেপি কী বলছে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উগ্র হিন্দুত্বর বিরুদ্ধে জেহাদ! দলিত জাগরণের নেপথ্যের নায়ক পেরিয়ার

Periyar Erode Venkatappa Ramasamy: ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ব্রিটিশ শাসকরা ক্ষমতা থেকে সরলে তিনি ঘটনাটিকে ‘উচ্চবর্ণীয় হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর’ বলে ‘মৌনদিবস’ পালন করেছিলেন।

বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা সোজা তির ঘুরিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির দিকে। তাঁর বক্তব্য, রাহুল, যিনি কিনা নিজেকে 'মহব্বত কি দুকান' বলে প্রচার করেন তিনি আসলে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন এবং ইন্ডিয়া জোট আসন্ন নির্বাচনে হিন্দুবিরোধী কৌশলই ব্যবহার করতে চলেছে। উদয়নিধি স্টালিনকে আক্রমণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। ডিএমকে এবং কংগ্রেস নেতারা শুধু ভোটব্যাঙ্কের জন্য 'সনাতন ধর্ম'-কে শেষ করার কথা বলছেন বলেই তাঁর দাবি। রাহুল গান্ধি, নীতীশ কুমার, লালু যাদবের মতো ইন্ডিয়া জোটের বাকি নেতারা কেন চুপ এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি বলছেন, সনাতন ধর্ম আসলে কোনও দল, অঞ্চল বা ধর্মের অন্তর্গতই নয়, এটি ভারতের ধর্ম। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই এই সনাতন ধর্ম অনুসরণ করে এবং বিশ্বাস করে। অন্যদিকে ডিএমকে মুখপাত্র টিএসকে এলাঙ্গোভানিস বলেছেন, দেশে অন্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, তপশিলি জাতি/উপজাতি সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল কারণ তাদের দীর্ঘকাল ধরে পড়াশোনা করতে দেওয়া হয়নি। উত্তর ভারতে এখনও মানুষ এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আম্বেদকর এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। উত্তরে কর্পুরী ঠাকুর সহ অনেক নেতাই এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। বিজেপি বলতে পারে যে ডিএমকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে অথচ এদেশের ৯০ শতাংশ হিন্দুর জন্য কাজ করছে ডিএমকেই। কাজ করছে যাতে তারা পড়াশোনা করতে পারে, অন্য সম্প্রদায়ের মতো চাকরি করতে পারে। উদয়নিধির বক্তব্য সেই কথাই বলছে।

ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের সমর্থনে থিরুমাবলাভান বলছেন, সনাতন ধর্ম সম্পর্কে উদয়নিধির মন্তব্য হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় বরং হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে যা বিজেপি এবং আরএসএসের রাজনৈতিক এজেন্ডা।

বিজেপির হিন্দুত্ব-র উল্টোপিঠে ডিএমকে সযত্নে পেরিয়ার এবং আম্বেদকরের মতাদর্শকে সামনে তুলে আনছে। ডিএমকে বলছে, বাবাসাহেব আম্বেদকর বলেছেন 'সনাতন ধর্ম' বা হিন্দু ধর্ম একটি ছোঁয়াচে রোগ। ভবিষ্যতে এটি নির্মূল করা উচিত এবং ধ্বংস করা উচিত। তাহলেই আমরা মানুষের মধ্যে সমতা অর্জন করতে পারব। সেই পথেই কথা বলছেন উদয়নিধি। পরমহংস ১০ কোটি আদৌ খরচা করতে পারবেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।