অজানা ঘোড়ার কথা

Arka Chatterjee
৩ মিনিট
অজানা ঘোড়ার কথা

"আমরা যাই নি মরে আজও, তবু কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়।

মহীনের ঘোড়াগুলি ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে।"

হাজার হাজার জন শুরু করেছে এই লাইন দুটি দিয়ে, ঘোড়াগুলোর কথা বলার সময়, হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেছে, ভালোবাসার আবদার মেটাতে মেটাতে , সে যে পুরোনো হয়না, পাপও লাগে না তার এই যৌবনে।

কথা বলার আকাশ টা হচ্ছে ছোট্ট খাতার মতন, কখন যে শেষ হয় আর কখন যে শুরু সেটা বোঝা দায়।

এই এত্তো এত্তো চিন্তা, এত্তো এত্তো ভাবনা নিয়ে যখন ঘোড়সওয়ার হয়, তখন না হারিয়ে কেউ পারেনা; কারণটা ঘোড়াগুলোকেই যে হাঁপাতে দেখেনি একবিন্দু , সে ছুঁতে চাওয়ার আনন্দে ছুটে চলে আর ফেলে যায় "চৈত্রের কাফন"।

ব্যাপার টা বেশি কাব্যিক হয়ে যাচ্ছে

হালকা করার প্রয়োজন কি আদৌ আছে, নাকি নেই সেটা ভাবনা চিন্তার উর্ধ্বে।

তথ্য বলছে গৌতম চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ(বুলা) চট্টোপাধ্যায়, তাপস(বাপি) দাস, রঞ্জন ঘোষাল, বিশ্বনাথ (বিশু) চট্টোপাধ্যায়, আব্রাহাম মজুমদার,তপেশ ব্যানার্জী ও রাজা ব্যানার্জী,এই মোটমাট ঘোড়াগুলির নাম।

কিন্তু সময় অন্য কথাবলে। বলে.... যে অগুনতি ঘোড়ার মাথা গোঁজার জায়গায় ছিল একটি আস্তাবলে, সেখানে তারা খুঁজে নিত জোছনায় ঘাস খাওয়ার আনন্দ।

১৯৭৫.... বুঝতে পারা যাচ্ছে সময় টা ? ৭১ ও ৭২ এর পরবর্তী সেই সময়ে আগুন বাঙালির পকেটে ও ঠোঁটে। খেলা তো দুরঅস্ত সে আগুন দিয়ে পেটের খিদেও মেটাচ্ছে। 'জ্বলছে জ্বলুক' ভাবধারা কে নিজের না , অন্যের ও না, এই মানসিকতায় গান গেয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন একজন মহান সঙ্গীত রচয়িতা, যার নাম "গৌতম"।

সিদ্ধার্থর মতোই তাঁর অন্য নামে চেনার লোক প্রচুর আর নামটাও যে 'মহিন'।তাই চেনার চেয়ে, চেনানোর মানুষ যখন বেশি হয় তখনই তাকে "কলাকার"(শিল্পী)বলে বোধ হয়।

রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু শূন্যতা।আকাশে তখন থমকিয়ে আছে মেঘ।

একটা সময় আসে যখন নতুন কে নিয়ে পুরোনোর দন্দ বাধে। আবার পুরোনো কে আগলে রাখে, হয়তো এই কারণেই ,যে নতুন জোয়ার হয়তো পুরোনোর বাঁধ ধুয়ে দেবে।তারা হয়তো খুঁজে পাবেনা বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো জায়গা ছাড়তে হবে; নইলে যে নতুনদের কোনো স্থান থাকবে না।

"মহিন" হলো একটি নতুন এর প্রতীক।

আর হলপ করে বলা যায় যে নতুনের রাস্তাটা ভারত-কে প্রথম দেখিয়াছে এই দল টা।

গানের দল বা ব্যান্ড বলতে এর আগে বোঝাতো পালাগান যারা করেন তাদের। তাছাড়া বিদেশে 'বিটলস', 'কুইনস', আরো অনেক। কিন্তু আধুনিক চর্চায় এই ধরনের বাংলা গানের দল বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না এই বঙ্গদেশে । ছিল লোকগান, রবীন্দ্রসঙ্গীত(ছিল-আছে-থাকবে), ছিল আধুনিক গান ও তার অপুর্ব রূপকার সঙ্গীতজ্ঞরা;আর ছিল শোনার আনন্দ । কিন্তু যখন "আমিই রাজা",তখন নিজের প্রশংসা শুনতে শুনতে নতুনকে উঠতে দেখে ভয় হয়। সেই রকম কিছু বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল এই "গানের দল"- টিকে ।

যদিও "গানের দল" এই কনসেপ্ট ও ভাবধারার সঙ্গে পরিচয় অনেক দিনের, তবুও......(এই যেমন ধরুন বাপুজি কেক এর মতো ,কাগজের ওই সবুজ রং আর R চিহ্ন যেমন চোখের খিদেটা মেটায় অনেকটা সেইরকম)।

মানুষ গতানুগিক ভাবধারা ছেড়েছিল বটে, ৮০ দশকে আপন করে নিয়েছিল এই নতুন ভাবধারা কে। দলের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের গানটা লিখে চলেছিল, মানুষ বুঝতে শুরু করলো নতুন বিপ্লব টিকে।

মাথা ঝাঁকানো কে যদিও আবেগ হিসেবে অনেকেই দেখে না, কিন্তু ওইটাও যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ সেটা মানুষকে সময় বুঝিয়ে দিয়েছে।

কান্ডারী নৌকো চালানো শেখায় ও চালায়, এর ধারাবাহিকতা যারা এখনো বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারাও পথিক,রাস্তাটা উনি ঠিক করে দিয়েছিলেন।

বর্তমানে "মহীন ও ঘোড়াগুলি" র অনেক গান মানুষ কে মানুষ চিনতে শেখায়,শেখায় বোকাবাক্স আর বন্দীদশা সমার্থক। ....শেখায় কাল রাত্রি পোহালে , পরীক্ষাটা সকলকেই দিতে হবে,তাই কিন্তু কে মনে পড়া টাই স্বাভাবিক।

আজকে দিনেও সেই শিল্পীসত্বা দেখিয়ে যাওয়া, হওয়ায় ভাসছে অনেক দল ,সত্যিকারের সেই ভাবধারা টুকু বাঁচিয়ে রেখেছে ......"ভূমি, লক্ষ্মীছাড়া, ফসিলস্, চন্দ্রবিন্দু, পৃথিবী"- র মত গানের দলগুলি।

যদিও তারাও বোধ হয় কালের বিবর্তনে পথ হারাচ্ছে।

"বর্ণ অনন্য"ও তার ভাবধারা অনেক টা মেলে বা খাপ খায় মহীনের ঘোড়াগুলি-র সাথে, কারণ তারা কিছু নতুন করছে। করছে-ভাঙছে....ভাঙছে আবার গড়ছে , কিন্তু ফুরোচ্ছে না,মশালের মতোই রয়েছে প্রজ্জ্বলিত।

তথ্য : https://www.youtube.com/c/bornoanonyo

https://en.wikipedia.org/wiki/Moheener_Ghoraguli

লিখেছেন
Arka Chatterjee
Arka Chatterjee
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।

সুকুমার রায়ের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের ভীষণ মিল পাই: স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Sukumar Ray Literature: কেউ যদি অনেক বড় বয়সেও ছোট থাকতে চায়— যেমন আমি বলি যে আমার বয়স বাড়েনি— আর যদি নিজের বয়সটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে ইচ্ছে করে, তবে মনে হয় সুকুমার রায়ের সমগ্র তাঁর সারাজীবন বিছানার পাশে গীতবিতানের মতোই চিরসঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?