মাত্র একটির দাম ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা! টাটা-আম্বানিরাও যে মুরগি কিনতে হিমশিম খান

World's Expensive Chicken : এই মুরগিটি খেতে নাকি অত্যন্ত সুস্বাদু। কিন্তু তার জন্য আপনাকে পকেট থেকে খসাতে হবে ‘মাত্র’ ২০০০ মার্কিন ডলার।

inscript
২ মিনিট
মাত্র একটির দাম ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা! টাটা-আম্বানিরাও যে মুরগি কিনতে হিমশিম খান

কালো, সাদা, নীল, বাদামি – রংবেরঙের পালকে মোড়া শরীর। ছোট্ট একটা চোখ, ঢাউস একটা চেহারার থেকেও নজর পড়বে অন্য একটি দিকে। একেবারে নিচে ঢাউস দুটো পা, একেবারে হাতির মতো! পেশিবহুল, তেজিয়াল। হঠাৎ এক নজর দেখলে মনে হবে, হয়তো গোদের মতো কোনও রোগ হয়েছে। এমন ভাবনা আসার পর হয়তো তার দিক থেকে চোখও ফিরিয়ে নেবেন। এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা করবেন। না, কোনও ভিনগ্রহের প্রাণী নয়। সামান্য একটি নিরীহ, ভদ্র মুরগি। কিন্তু তার হাতির মতো বিশাল পেশিবহুল পা-ই যাবতীয় সন্দেহের মূলে।

অবশ্য ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তার চেয়ে বরং পরিচয় করে নেওয়া যাক এই বিশেষ অতিথির সঙ্গে। ভালো নাম ডং তাও চিকেন; কিন্তু গোটা পৃথিবী তাকে ভালোবেসে ডাকে ‘ড্রাগন চিকেন’ বলে। রূপকথার ড্রাগনের মতোই অবিশ্বাস্য মোটা, পেশিবহুল দুটি পা নিয়েই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। এদিকে মুরগির কথা বললেই অনেকের মনে চলে আসবে সেই প্রশ্নটি। ‘আচ্ছা, এটি কি খাওয়া যায়?’ তার উত্তর হল, হ্যাঁ, খাওয়াই যায়। আরও ভালো করে বললে, এই মুরগিটি খেতে নাকি অত্যন্ত সুস্বাদু। কিন্তু তার জন্য আপনাকে পকেট থেকে খসাতে হবে ‘মাত্র’ ২০০০ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুরগির মাংস খেলেই ম্যাচে হার! ফুটবলের বিচিত্র কুসংস্কারের এই ইতিহাস অজানাই

Superstitions of Football: মাঠে ঢোকার সময় অনেক খেলোয়াড়ই ডান পা-টা আগে বাড়ায়। অনেকে মাঠে ঢুকে সোজা ফাঁকা গোলের সামনে গিয়ে একটা শট নেয়, কিংবা বারপোস্টে চুমু খায়।

মাত্র একটি মুরগির দাম দেড় লাখ টাকারও বেশি! হ্যাঁ, এখানেই গোটা বিশ্বের যাবতীয় মুরগির থেকে আলাদা এই ড্রাগন চিকেন। আসল বাড়ি ভিয়েতনামে। এই দেশের হ্যানয় প্রদেশের মধ্যেই কিছু কিছু জায়গায় এই বিশেষ মুরগির চাষ হয়। আর প্রধানত বংশানুক্রমিক ভাবেই এই মুরগির চাষ করা হয়। কেন? কারণ প্রাচীন সময় স্রেফ ভিয়েতনামের রাজ পরিবারের জন্যই এই মুরগি নিয়ে যাওয়া হতো। সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল ড্রাগন চিকেন। এখন অবশ্য সেই রাজপাট নেই, আমজনতাও এই মুরগির মাংস বাড়ি এনে দিব্যি রান্না করে বানিয়ে খেতে পারেন। কিন্তু ভীষণ ধনী না হলে এই মাংস তো কেনাই যাবে না। এক ধাক্কায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করার মতো কজনই বা আছে!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অল্প পুঁজিতে বিশেষ মুরগি পালন, লক্ষ টাকা রোজগারের হাতছানি, জেনে নিন কীভাবে

যদি আপনি শুধুমাত্র শীতকালে ভালোভাবে ব্যবসা করেন, তাহলে ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারবেন খুব সহজেই।

কিন্তু কেন এত দাম? ডং তাও মুরগির মধ্যে কী এমন বিশেষত্ব আছে? দেখতেও বেশ কুৎসিত, তাহলে এত দাম কেন? আসলে, খুব কম জায়গায় এই মুরগির চাষ করা হয়। আর সাধারণ মুরগি চাষের মতো নিয়ম মানলে এখানে হবে না। ড্রাগন চিকেনের পরিচর্যা করতে হবে যত্ন নিয়ে, ধৈর্য ধরে। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এদের পা। সাধারণত জন্মানোর পরই এই মুরগিকে বাইরে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই, যত বেশি পারে ও দৌড়াক, হাঁটুক। যত বেশি চলাচল করবে, ততই মজবুত, শক্তিশালী আর মোটা হবে এদের পা। লাল রঙের পুরু এই পা-ই এদের ইউএসপি।

এছাড়াও যত্ন নিয়ে চাষ না করলে, খাওয়ার দিকে নজর না রাখলে এই মুরগির মাংস সুস্বাদু হয় না। কেবল মাংস নয়, ড্রাগন চিকেনের ওই মোটা পা-ও রান্না করে খান ভিয়েতনামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে লুনার নিউ ইয়ারের সময় এই মুরগির মাংস আর পা রান্না করে খাওয়া হয়। তার ওপর চাষও হয় সামান্য কিছু জায়গায় এতকিছুর জন্যই এই মুরগির দাম এতটা বেশি। ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে একবার খেয়ে দেখবেন নাকি এই মুরগি!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।