ভারতের প্রথম বেসরকারি ট্রেনের অন্দরে কী কী ব্যবস্থা থাকছে?

ভারতে চালু হল প্রথম বেসরকারি ট্রেন পরিষেবা। প্রথম ট্রেনটি ১৪ তারিখ তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এই ট্রেনটির গন্তব্য মহারাষ্ট্রের সিরিডি। পৌঁছবে বৃহস্পতিবার। আবার সেখান থেকে যাত্রী বোঝাই করে শনিবার কোয়েম্বাটুর ফিরে আসবে ট্রেনটি।

রেল বাজেটে সরকার ঘোষণা করেছিল ১৫০ টি ট্রেনকে বেসরকারি পর্যটন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। রেলের তরফে এই ঘোষণার পরেই অনেক সংস্থার তরফ থেকেই রেলের পরিকাঠামো ব্যবহার করে পর্যটন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় রেল মন্ত্রককে। কর্ণাটক সরকার এবং ওড়িশা সরকার রেলের কাছে বেসরকারি ট্রেন চালানোর আবেদন জানায়।কিন্তু ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল প্রথম তামিলনাড়ু সরকারের।

প্রথম বেসরকারি ট্রেনের খুঁটিনাটি


রেলের তরফে ' সাউথ স্টার ' বলে একটি সংস্থা কে প্রথম বেসরকারি ট্রেন চালানোর বরাত দেওয়া হয়। রেলের ' ভারত গৌরব ' প্রকল্পের অধীনে এই বেসরকারি ট্রেন পরিষেবা শুরু হল। এ অবধি ভারতীয় রেলের ইতিহাসে সব ট্রেনই চালাত রেল অধীনস্থ নিগম আইআরসিটিসি। এই প্রথম কোনো বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে চালু হল ট্রেন।


প্রথম বারের ট্রেন যাত্রায় মোট ১১০০ জন যাত্রী রয়েছেন। তিন ধরনের বাতানুকুল বগির পাশাপাশি পাঁচটি সিপার ক্লাস ও রয়েছে ট্রেনটিতে। এছাড়া ও ট্রেনটিতে রয়েছে প্যান্ট্রি কার। মূলত দেশ বিদেশের যাত্রীদের ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই রেল এই ট্রেনগুলো চালানোর পরিকল্পনা করেছে। সাউথ স্টার সংস্থাটি এই রুটে ট্রেন চালানোর জন্য দক্ষিণ রেলকে এক কোটি টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিয়েছে। এছাড়া ও ট্রেনটির জন্য ওই সংস্থা কে রেলকে বছরে ৩.৩৪ কোটি টাকা দিতে হবে।
অতীতে রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে কোনো সংস্থাই দু বছরের জন্য এই বেসরকারি ট্রেন চালাতে পারবে। রেলের শর্ত ছিল বেসরকারি সরকারি ট্রেনের রুট বাদ দিয়ে এই বেসরকারি ট্রেনগুলো চালাতে হবে।

এই ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে সংস্থাই প্যাকেজ হিসেবে ভাড়া নিতে পারবে। এছাড়া ও কোন কোন রুটে স্টপেজ হবে তা ঠিক করবে সংস্থাই। প্রাথমিক ভাবে আর পি এফ নিরাপত্তা দিলে ও ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ওই নির্দিষ্ট সংস্থাকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

যাত্রাপথ

উত্তর কোয়েম্বাটুর থেকে মহারাষ্ট্রের সাইনগর শিরডি পর্যন্ত চলবে ভারত গৌরব ট্রেনটি। এই গোটা যাত্রাপথে তিরুপপুর, ইরোলাহান, ইয়েলাহানে স্টপেজ পেরিয়ে সকাল ৭.২৫ নাগাদ মহারাষ্ট্রের সিরিডি পৌঁছবে ট্রেনটি। এছাড়া ও মাঝে পড়বে ধর্মভারম, মন্ত্রণালয়ম রোড এবং ওয়াদি স্টেশন।


আরও পড়ুন-চোখ ধাঁধানো আলো-শব্দের খেলা, লক্ষ ভক্তকে চমকে দিতে তৈরি দক্ষিণেশ্বর


মন্ত্রণালয়ম রোড স্টেশনে ট্রেনটি পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়াবে। সেখান থেকে নেমে ট্রেনের তীর্থযাত্রীরা মন্দির দর্শন করে আসতে পারবেন।
রেলের পরিকাঠামো ছাড়াও কোচগুলিকে নিজেদের মত করে ঢেলে সাজিয়েছে সাউথ স্টার সংস্থা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ট্রেনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি।

ট্রেনের অন্দর

যে কোনো ইমারজেন্সি পরিস্থিতির জন্য ট্রেনের সবসময় একজন চিকিৎসক থাকবেন। ট্রেনে সরকারি নিরাপত্তার পাশাপাশি আঁটোসাঁটো ভাবে থাকবে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেনটিতে ইলেকট্রিশিয়ান, এসির ইঞ্জিনিয়ার এবং ফায়ার এন্ড সেফটি অফিসার থাকবেন। এছাড়া ও হাউজকিপিং পরিষেবা প্রদানকারী বিশেষজ্ঞ সংস্থা ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে থাকবে। ট্রেনের তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ নিরামিষ মেনুর ব্যবস্থা থাকবে। রান্নার দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ শেফরা। যাত্রাপথে যাত্রীদের বিনোদনের জন্য থাকবে উন্নত মানের স্পিকার।এছাড়া ও থাকবেন রেলের নিজস্ব জকি। এছাড়া ও বিভিন্ন ভক্তিমূলক গান বাজবে।

বেসরকারি ভাবে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে ও বেসরকারি সংস্থাকে ইচ্ছেমত বগি ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়নি। রেলের ইন্ট্রিগাল ফ্যাক্টরির তৈরি আইসিএফ বগিই ব্যবহার করতে হবে যাতে ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৬০ কি.মি হয়। নিজেদের লোগো বা অন্যান্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে হবে।


বগি থেকে রেললাইন সব কিছু ব্যবহারের জন্যই চার্জ নেবে রেল। রেলের নিয়ম ভাঙলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে রেল মন্ত্রক। থাকবে কড়া জরিমানার ব্যবস্থা। সারা বছরে ৯৫ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা দেখাতে হবে। না হলেই হবে জরিমানা। ট্রেন দেরিতে চললে বিশেষ কোনো কারণ থাকলে তা বিবেচনা করবে রেল। কোনো বেসরকারি সংস্থা বার্ষিক কত টাকা আয় করছে তার তথ্য নেবে রেল।

More Articles

;