গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস আজ!

Godi Media Boycott on Bangla Ja Bhabche : গোদি মিডিয়াকে বাদ দিলেই কি গোদি মিডিয়ার কবল থেকে নিষ্কৃতি পাবে দেশ? সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে কী ভাবছে বাংলা?

inscript
৩ মিনিট
গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস আজ!

গোদি মিডিয়া বয়কট করেছে বিজেপি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া, মিডিয়া না বলে, বলা ভালো মিডিয়ার বাছাই করা সঞ্চালকদের। সেই অর্থে গোদি মিডিয়া বা এই সঞ্চালকরা বিরোধীদের বয়কট করেনি। কিন্তু মোদি-আরএসএস ঘেঁষা সংবাদমাধ্যমে নিজেদের কথা বলতে চাইছেন না বিরোধীরা। গোদি মিডিয়া আসলে কী? মোদির কোলে বসা (হিন্দিতে তাহাই গোদি), মোদির আনুগত্যে বাঁচা সংবাদমাধ্যমকেই বলে গোদি মিডিয়া। একজন গোদি অ্যাঙ্কর বা সঞ্চালককে দেখতে কেমন হয়? অনেককেই বলা হয় গোদি অ্যাঙ্কর, তা এই গোদি অ্যাঙ্কর হতে গেলে যোগ্যতা কী লাগে? একজন ভালো, টাটকা, তেজি গোদি অ্যাঙ্কারের মধ্যে কোন কোন গুণ থাকাটা জরুরি? গোদি মিডিয়াকে আপনি চিনবেন কোন কোন উপায়ে? গোদি মিডিয়া থেকে বাঁচার রাস্তা আছে কি? তার আগে জানা যাক, গোদি মিডিয়ার মুখ কারা?

অর্ণব গোস্বামী, নভিকা কুমার, চিত্রা ত্রিপাঠি, সুধীর চৌধুরী, অমীশ দেবগণ, রুবিকা লিয়াকত, আমন চোপড়া, এ ছা়ড়াও আরও সাত সংবাদ সঞ্চালক। তালিকায় সব মিলিয়ে ১৪ জনের নাম। এদের মুখের উপরেই কালো ধাব্বা মেরেছে আইএনডিআইএ বা ইন্ডিয়া জোট। চ্যানেলগুলোকে বয়কট না, ঘৃণাভাষণ ছড়ানোর অভিযোগে বেছে বেছে এই ১৪ অ্যাঙ্কারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইন্ডিয়া জোট।

দর্শকদের মগজধোলাইয়ের পাল্টা বয়কটের ডাণ্ডা। শোনা যাচ্ছে, এরপর নাকি আর্থিক অবরোধের দাওয়াইও দিতে পারে ইন্ডিয়া জোট। জোট শিবির সূত্রে খবর, কোনও কোনও রাজ্যে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১১ রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটের ঘাঁটি রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ বাদ রাখলে রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং পঞ্জাব সরকার তথাকথিত গোদি মিডিয়ার চ্যানেলগুলোকে বড় অঙ্কের টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

বয়কট ঘোষণা হতেই তথাকথিত গোদি মিডিয়া এবং তাঁদের অ্যাঙ্কররা প্রাইমটাইম শোয়ে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েন। সাংবাদিকদের ধর্ম কী, দায়বদ্ধতা কোথায় তা নিয়ে শোনা যায় হুঙ্কার। পিঠ চুলকোতে মাঠে নামে ভারতীয় জনতা পার্টি।

তালিকা আরও লম্বা করা যায়। তথাকথিত গোদি মিডিয়া সেদিন কোন দায়বদ্ধতা দেখিয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন করা যায়? সেই সালতামামি ঘাঁটলে হয়ত কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে পড়বে কেউটে।

এটা মনে রাখা দরকার, গৌতম আদানি এনডিটিভি অধিগ্রহণের আগে, চ্যানেলে কোনও বক্তা পাঠাত না বিজেপি। তামিলনাডুর সমস্ত সংবাদ চ্যানেল বয়কট করে থাকে বিজেপি। কংগ্রেস অনেক আগে থেকেই রিপাবলিক চ্যানেলে কোনও প্রতিনিধি পাঠায় না। প্রেস কনফারেন্সেও রিপাবলিক চ্যানেলকে আমন্ত্রণ জানায় না। তবে এটাও ঠিক। মিডিয়া বা অ্যাঙ্কর বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের ভিতরেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিকদের মধ্যেও।

একটা ছোট তথ্য দেওয়া যাক, দেশ তখনও স্বাধীন হয়নি। ১৯২৬। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে খবরের কাগজ বয়কট করার আবেদন রাখেন মহাত্মা গান্ধি। বলেন, খবরের কাগজে উস্কানিমূলক রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। দেশ কোনও কিছু হারাবে না যদি ছাপা কাগজের অন্তত নব্বই শতাংশ ফেলে দেওয়া যায়।

গোদি অ্যাঙ্কর কারা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গোদি মিডিয়ার সুধীর ভাই আর তাঁর সাংবাদিকতা

Journalist Sudhir Chaudhury: বিজেপি ঘনিষ্ঠ মিডিয়ার অত্যন্ত পরিচিত মুখ এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কর্ণাটক পুলিশ।

একজন আদর্শ গোদি অ্যাঙ্কর সরকারের বকলস পরে থাকেন। সাধারণ মানুষের হয়ে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেন না। স্টুডিয়োর আলোচনায় বিশেষ একটি দলেরই ঝোল খায়।

গোদি অ্যাঙ্করের যোগ্যতা কী?

আত্মাকে পচা খালে ভাসিয়ে দিতে হবে। দেশ যাচ্ছে শেঠের হাতে, চাকরি বেচছে রাজার পেয়াদা, সংবিধান ছিঁড়ে ভর্তা বানাচ্ছে, সমাজে ঘৃণার আগুন, অথচ শ্রেষ্ঠ গোদি অ্যাঙ্করের চোখে ঠুলি।

গোদি অ্যাঙ্কর চেনার উপায়?

কঠিন কাজ না। রাজাকে যে তেলমালিশ করেন। জনতা এবং বিরোধী দলকে প্রশ্ন যে করেন। সরকারি প্রোপাগান্ডা যার শোয়ে ব্রেকিং নিউজ তিনিই গোদি অ্যাঙ্কর।

কোন কোন সংবাদপাঠক বা সঞ্চালক রয়েছেন সেই তালিকায়?

অদিতি ত্যাগী

আমন চোপড়া

অমীশ দেবগন

আনন্দ নরসিংহ

অর্ণব গোস্বামী

অশোক শ্রীবাস্তব

চিত্রা ত্রিপাঠী

গৌরব সাওয়ান্ত

নভিকা কুমার

প্রাচী পরাশর

রুবিকা লিয়াকত

শিব আরুর

সুধীর চৌধুরী

সুশান্ত সিনহা

সামনেই লোকসভা ভোট। প্রশ্ন উঠেছে, তার আগে জোট ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্ত কি কিছুটা হলেও বিরোধী জোটের প্রচারের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না? এর আগেও ২০১৯ সালেও কংগ্রেস এমনই পদক্ষেপ করেছিল বেশ কয়েকটি পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। প্রায় এক মাসের জন্য বেশ কয়েকটি টেলিভিশন শো বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় দল। কর্মীদের দলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁরা সেই সব চ্য়ানেলের শো-তে অংশ না নেয়। কিন্তু গোদি মিডিয়াকে বাদ দিলেই কি গোদি মিডিয়ার কবল থেকে নিষ্কৃতি পাবে দেশ? সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে কী ভাবছে বাংলা? প্রতি সোম,বুধ,শুক্র সন্ধে ৭ টা থেকে - কলকাতা ২৪x৭ এর ইউটিউব চ্যানেল এবং inscript.me এর ফেসবুক পেজে। সঙ্গে থাকুন, দেখতে থাকুন সমাজ-রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত, বিশ্লেষণ। আজকের পর্ব- গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস? বাংলা কী ভাবছে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।