হঠাৎ ঘুম ভাঙল চাণক্য মুকুলের, খেলায় ফিরবেন না কি তলিয়েই যাবেন

তিনি মুকুল রায়। তুখড় বুদ্ধি এবং ঘড়ি ধরে কৌশল কার্যকর করার দক্ষতা দেখে অনেকেই তাঁকে 'চাণক্য' বলতে পছন্দ করেন।

Kanad Dasgupta
৪ মিনিট
হঠাৎ ঘুম ভাঙল চাণক্য মুকুলের, খেলায় ফিরবেন না কি তলিয়েই যাবেন

দীর্ঘদিন অন্তরালে। স্ত্রী-বিয়োগ, অসুস্থতা, রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে আইনি জটিলতা ইত্যাদি নানা কারনেই ইদানীং রাজনীতির মূল স্রোতের বাইরে তিনি। ফলে সর্বস্তরেই একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, রাজনীতিতে ফেরার আর বোধহয় ইচ্ছেই নেই তাঁর।

তিনি মুকুল রায়। তুখড় বুদ্ধি এবং ঘড়ি ধরে কৌশল কার্যকর করার দক্ষতা দেখে অনেকেই তাঁকে 'চাণক্য' বলতে পছন্দ করেন। এই মুহূর্তে তিনি স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি। একুশের বিধানসভা ভোটেই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন। তবে জিতেছেন বিজেপির প্রতীকে, পরে ফিরে গিয়েছেন নিজের পুরনো সংসার তৃণমূলেই। আর এই কারণেই তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করতে 'পিলার টু পোস্ট' দৌড়ে চলেছে বঙ্গ বিজেপির একাংশ। বিধানসভার স্পিকার থেকে হাই কোর্টের বিচারপতি, সবখানেই একই আর্জি পেশ করা হয়েছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দীর্ঘ শুনানির পর জানিয়ে দিয়েছেন, মুকুল রায় দলত্যাগ করেননি। বিজেপিতেই রয়েছেন। কিন্তু এতেও মুকুলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক কমেনি। কলকাতা হাই কোর্ট বিধানসভার অধ্যক্ষকে সেই রায় পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। ওদিকে এরই মধ্যে মুকুল রায়ের দু’টি ছবি ও ভিডিও ট্যুইট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তা নিয়ে ফের নতুন করে শোরগোল পড়ে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। অবশ্য এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কিন্তু এই সবে খুব একটা তাপ-উত্তাপ নেই মুকুল রায়ের। কারণ, সংসদীয় রাজনীতিতে মুকুল রায় তেমন আগ্রহী নন। আগ্রহ থাকলে ২০১১ বা ২০১৬ সালেই তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কোনও দপ্তরের মন্ত্রী হতে পারতেন। তেমনটি হলে তাঁর নিজের এবং রাজ্য বিজেপির ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। আসলে সেই অর্থে মুকুল রায় কখনওই জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা নন, ভোট-ক্যাচার বা দুরন্ত বক্তাও নন। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, সেখান থেকেই দেশের রেলমন্ত্রী-সহ একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী হন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুল রায়কে প্রায় জোর করেই কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করে। মুকুলবাবু জয়ী হন ৩৫ হাজার ভোটে। এর পরে একদিন মুকুলবাবু যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তৃণমূল তাঁকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান পদটি সাধারণত বিরোধী দলের বিধায়করাই পেয়ে থাকেন। খাতায়-কলমে আজও মুকুল রায় বিরোধী বিজেপি-র বিধায়ক। ফলে বিধানসভার 'কনভেনশন' লঙ্ঘিত হয়নি, এমনই বলছেন তৃণমূল পরিষদীয় দল। কিন্তু আরও অনেক তথাকথিত যুক্তি সামনে এনে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। দাবি তোলা হয়, যেহেতু মুকুল রায় দল বদল করেছেন, তাই এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করতে হবে। বিজেপি নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে সদা সর্বদা নজর রাখছে মুকুল রায়ের ওপর। কখন তিনি পুরনো তৃণমূল ভবনে গিয়েছিলেন, কবে, কখন তিনি নতুন তৃণমূল ভবনে পা রেখেছেন, কখন কী বলছেন, সবই আজ বিজেপির স্ক্যানারে উঠে আসছে। কিন্তু এর একটিও ওঁর বিধায়ক পদ খারিজ করার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নয়। যে কোনও কারণেই হোক এক দলের বিধায়ক অন্য দলের সদর দপ্তরে যেতেই পারেন। তবে এসব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, থাকবেও।

সব মিলিয়ে এই কারণে এবং অবশ্যই শারীরিক কারণে এতদিন রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে ছিলেন মুকুল রায়। নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলেও এতদিন সেভাবে হাজিরাও দেননি তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎই তিনি ভেসে উঠলেন। নিজেই একটি ট্যুইট করেছেন মুকুল রায়। সাধারণ কোনও বিষয় নিয়ে এই ট্যুইট নয়। একদমই রাজনৈতিক ট্যুইট৷ ট্যুইটে সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকেই। মোদিকে উদ্দেশ্য করে মুকুল রায় লিখেছেন,

"মাননীয় ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী মহোদয়,

ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব

পঙ্গু অর্থনীতি

মুদ্রাস্ফীতি

এইসব বিষয় নিয়ে আপনার ভাবনা-চিন্তা ঠিক কী?

'অমৃত কাল' নিয়ে বড় বড় বক্তৃতা দেওয়া ছাড়া, আপনার অপশাসনের জেরে ভারতের জনগণ প্রতিদিন যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে আপনি কি কিছু করছেন?

না, কিছুই করেননি।"

Mr. Busy Prime Minister, what are your thoughts on -

RISING UNEMPLOYMENT

CRIPPLING ECONOMY

INFLATION

Beyond big lectures about 'Amrit Kaal', are you doing anything about the issues that people of India face on a daily basis owing to YOUR MISGOVERNANCE?

NO.

— Mukul Roy (@MukulR_Official)

একেবারে শেষে লিখেছেন, "জুমলাক্রেসির ৮ বছর।"

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের ২৬ মে তারিখেই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৮ বছর পূর্ণ করলেন মোদি। নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের ৮ বছর পূর্তিকে সাংগঠনিক স্তরে পালন করছে বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বুথ স্তরে দলের সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তিনি ঘোষণা করেছেন, বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ শুরু হয়েছে, দেশজুড়েই চলবে। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’‌‌।

এক সময়ে সর্বভারতীয় বিজেপির সহ-সভাপতি পদে থাকা মুকুল রায় এই ইস্যুতেই নিশানা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীকে‌।

আর এই ট্যুইট নজরে আসামাত্রই মুকুলের বিরুদ্ধে তাদের আনা পুরনো অভিযোগ নিয়ে বিজেপির একটি অংশ ফের ঝাঁপিয়েছে। এরা ফের বলছে, এই তো তৃণমূলের সুরে কথা বলছেন মুকুল রায়। বিজেপির বিধায়ক হয়েও ট্যুইটে কঠোর সমালোচনা করেছেন মোদিজির। এর মানে মুকুল রায় এখন আর বিজেপিতে নেই৷ এর অর্থ তিনি বিধায়ক পদে ইস্তফা না দিয়েই তৃণমূলের সুরে কথা বলছেন। তাহলে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ কেন খারিজ হবে না?

তবে এসব কথা অর্থহীন। অর্থহীন এই কারণেই যে এতে কিছুই প্রমাণ হয় না। ওদিকে তৃণমূল শিবির আহ্লাদিত, ফের 'স্বমহিমা'-য় বোধহয় ফিরছেন চাণক্য।

জানা নেই, নিজের আমলে 'অসুস্থ' চাণক্য সেইভাবে পারফর্ম করতে আদৌ সফল হয়েছিলেন কি না!

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?