মার্কিন গোয়েন্দা দফতরের ভার, কেন প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট তুলসিকে এত ভরসা ট্রাম্পের?

Tulsi Gabbard: তুলসি গ্যাবার্ডকে দেশের গোয়েন্দা বিভাগের নতুন অধিকর্তা তথা ডিরেক্টর জেনারেল অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (DNI) নির্বাচন করেছেন ট্রাম্প।

Sohini Das
৩ মিনিট
মার্কিন গোয়েন্দা দফতরের ভার, কেন প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট তুলসিকে এত ভরসা ট্রাম্পের?

মার্কিন জনগণের ভোটে ব্য়াপক জয় পেয়ে দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউজের দখল নিতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই নিজের মন্ত্রিসভা তৈরির কাজও প্রায় সেরে ফেলেছেন রিপাবলিকান নেটা ট্রাম্প। সেই মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছে এলন মাস্কের মতো সদস্য, তেমনই জায়গা করে নিয়েছেন এককালে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থক তুলসি গ্যাবার্ডও। আপাতত দুনিয়া মজেছে সেই আলোচনাতেই। গ্যাবার্ডকে দেশের গোয়েন্দা বিভাগের নতুন অধিকর্তা তথা ডিরেক্টর জেনারেল অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (DNI) নির্বাচন করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুপ্তচর সংস্থার তত্ত্বাবধানের ভার থাকতে চলেছে তাঁর হাতেই।

কার্যত কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু সদস্য তুলসি। উল্লেখ্য যে মোদির বন্ধু হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে এই তুলসি গ্যাবার্ডের। আর ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বন্ধুত্বের গল্প তো কারওরই অজানা নয়। গোয়েন্দা প্রধানের মতো জরুরি দায়িত্বের জন্য সেই মোদির পছন্দের ব্যক্তিকেই বেছে নিলেন ট্রাম্প। আর তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা।

তুলসির নাম দেখে অবশ্য তাঁকে অনেকেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেবে ভুল করে ফেলেন। কিন্তু আদতে ভারতের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই তাঁর। তবে মার্কিন কংগ্রেসের একমাত্র হিন্দু সদস্য হওয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত সমাজে বেশ জনপ্রিয় তুলসি। একটা সময় তিনি ছিলেন কট্টোর ডেমোক্র্যাট। তবে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্টো জো বাইডেনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী কার্যকলাপের অভিযোগে ডেমোক্র্যটদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। যদিও তারও আগে ২০২০ সাল নাগাদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ছিলেন তুলসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্টির অন্দরেই পিছিয়ে পড়েন তুলসী। এগিয়ে যান বাইডেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি এবার মার্কিন প্রশাসনে! যেভাবে বিশ্ব দখলের পথে এগোচ্ছেন মাস্ক

Elon Musk Life: মাস্কের যখন বছর আটেক বয়স, বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়।

২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। এ বছর নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে তুলসির। গত অগস্টে ফ্লরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রচার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানেও হাজির ছিলেন তুলসি। প্রেসিডেন্ট ভোটে রানিং মেট হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প, এমন কথাবার্তাও ঘুরছিল আমেরিকা জুড়ে। তবে, শেষ পর্যন্ত সেই রানিং মেট হওয়ার দৌড়ে পৌঁছতে পারেননি তুলসি। তার বদলে বরং গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বই এসে জুটল তুলসির কাঁধে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটে জেতানোর পুরস্কার! ট্রাম্পের প্রশাসনে যে দায়িত্ব পেলেন এলন মাস্ক

Donald Trump-Elon Musk: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এলন মাস্ক 'সরকারি দক্ষতা বিভাগ'-এর নেতৃত্ব দেবেন।

১৯৮১ সালের ১২ এপ্রিল আমেরিকার সামোয়ার এলএ-তে জন্ম তুলসির। তাঁর যখন মাত্র দু'বছর বয়স তখন হাওয়াইতে চলে যায় তাঁর পরিবার। পরিবেশ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই কাজ করতে চাইতেন তুলসি। সেখান থেকেই হেলদি হাওয়াই কোলিশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করেন কিশোরী বয়সেই। ২০০৯ সালে হাওয়াই পেসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে B.S.B.A শেষ করেন। তাঁর বাবা মাইক গ্যাবার্ড প্রাথমিক ভাবে ছিলেন রিপাবলিকান। পরে ডেমোক্র্যাট দলে যোগ দেন ও হাওয়াইয়ের সেনেটর হন। তুলসি বিয়ে করেছেন পেশায় সিনেমাটোগ্রাফার আব্রাহাম উইলিয়ামসকে । প্রায় দু'দশক আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে কাজ করেছেন তুলসী, মোতায়েন ছিলেন ইরান ও কুয়েতে। ইরাকি ফ্রিডম থ্রি-র যুদ্ধে তাঁর কৃতিত্বর জন্য পেয়েছেন কমব্যাট মেডিক্যাল ব্যাজ। তবে অতীতের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের অধিকর্তাদের মতো সেই ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা নেই। সরকারে কোনও শীর্ষস্থানীয় পদেও আগে কখনও ছিলেন না তিনি। কিন্তু হাউজ হোম ল্যান্ড সিকিওরিটি কমিটিতে দু'বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

২০২১ সালে হাওয়াইয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তুলসি কিন্তু সে সময় ইরাকের যুদ্ধে চলে যেতে হয় তাঁকে। তবে পরে তিনি কংগ্রেসে ফের নির্বাচিত হয়ে হাওয়াইয়ের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনিই ছিলেন হাউজের প্রথম হিন্দু সদস্য, যিনি ভগবদ্গীতার উপর হাত রেখে শপথ নেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মার্কিন সামোয়ানও ছিলেন তিনি। ২০২২ সালে বাইডেনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ এনে ডেমোক্র্যাটিকদের সঙ্গ বর্জন ও ট্রাম্পের পক্ষপাতিত্বের শেষপর্যন্ত ফলাফল পেয়েছেন তুলসি। যুদ্ধক্ষেত্রে এতবছরের অভিজ্ঞতাও যে তাঁকে এই গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব পেতে সাহায্য় করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে ইউক্রেনকে মার্কিনি সাহায্যের বিরুদ্ধে একাধিক বার সরব হতে দেখা গিয়েছে তুলসিকে। ট্রাম্পও একই রকম ভাবে ইউক্রেনে আমেরিকার সাহায্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ক্ষমতায় এসেই। কার্যত এই সুযোগের জন্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তুলসি।

তুলসিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পরে আমেরিকার ৫৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি জানি যে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগে ভয়ডরহীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবেন তুলসি। যে ভয়ডরহীন মনোভাব তাঁর উজ্জ্বল কেরিয়ারের পরিচয় দেয়।' সেইসঙ্গে ট্রাম্প এ-ও বলেন, 'দু'দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের দেশের জন্য় এবং প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য লড়াই করেছেন তুলসি।' এখন দেখার আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন তুলসি? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের বেয়ারা

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।