ভোট হলে ক্ষমতায় আসবে কে? যা উঠে এল বাংলাদেশের সমীক্ষায়

Bangladesh Election: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন 'পিছিয়ে যাবে'।

Tanvia Barua
৪ মিনিট
ভোট হলে ক্ষমতায় আসবে কে? যা উঠে এল বাংলাদেশের সমীক্ষায়

বাংলাদেশে ২০২৪ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পায় আওয়ামী লীগ সরকার। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই সেই সরকারের পতনও হয়। তারপর থেকে ক্ষমতায় রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বহুবার বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি তুলেছে। চাপের মুখে পড়েই সরকারকে আশ্বাস দিতে হয়েছে বলেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জনমত সমীক্ষা চালিয়েছে, ইনভিশন কনসালটিং বাংলাদেশ। এই সমীক্ষায় ব্রেন এবং মুক্তচিন্তার প্ল্যাটফর্ম 'ভয়েস ফর রিফর্ম' সহযোগিতা করেছে। তারা তাদের সমীক্ষার রিপোর্টে তুলে ধরেছে বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের সম্ভবনা। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দ্রুত ভোট চাইছেন বাংলাদেশের জনগণ।

ইনভিশন কনসালটিং বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সংস্থা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচনী দৃষ্টিভঙ্গি কী, তারা কবে নির্বাচন চান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাছ থেকে তাদের কী প্রত্যাশা, তারা তাকে ভোট দিতে চান, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ এই সব কিছু উঠে এসেছে জনমত সমীক্ষায়। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ১০,৬৯৬ জন সম্ভাব্য ভোটারের উপর পরিচালিত হয়েছে এই সমীক্ষা।

প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি জানিয়েছেন ৫৫.১% ভোটার। আর ৪২.৩৩% ভোটারের মতামত, প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ২.৬২% ভোটার জানিয়েছেন সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে ৫৮.২% ভোটার জানিয়েছেন প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, ৪০.৩৩% ভোটার বলেছেন আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে। ১.৪% ভোটার বলেছেন সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে। ৭৪.২১% ভোটার বলেছেন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হয়েছে, ২৪.৩৪% ভোটার বলেছেন এই ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং ১.২% ভোটার বলেছেন সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে। ৪১% উত্তরদাতা জানিয়েছেন ৬ মাসে চাঁদাবাজি অনেকটাই বেড়েছে, ২৯.৮% ভোটার বলেছেন চাঁদাবাজি কমেছে, ১৭.৮% ভোটাররা বলেছেন আগের মতোই চাঁদাবাজি চলছে এবং ১১.৪% ভোটার কোনও মন্তব্য করেননি।

অধিকাংশ ভোটাররাই স্পষ্ট জানিয়েয়েছেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবায় স্বচ্ছতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আনার মতো বিষয়গুলিতেই তাদের মূল মাথাব্যথা। ৭১% ভোটার জানাচ্ছেন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ৫২% ভোটার জানাচ্ছেন সরকারকে দ্রুত গতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যদিকে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি চান ৪০% ভোটার, সরকারি পরিষেবায় দুর্নীতি বন্ধ হোক জোর গলায় বলছেন ৩৩% ভোটার, ২২% ভোটার জানাচ্ছেন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করতে হবে তড়িঘড়ি, সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি চান ২১% ভোটার এবং ১৯% ভোটার জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

কবে হবে নির্বাচন?

এতদিন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় নিয়ে নানারকম বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। চাপের মুখে পড়েই সরকারকে আশ্বাস দিতে হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ডিসেম্বর বা জুনে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১.৬% ভোটাররা ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন চাইছেন এবং ২৬.৫% ভোটার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন চাইছেন। উল্লেখ্য, শহরাঞ্চলের ২৩.৯৫% ভোটাররা এবং গ্রামাঞ্চলের ৩৪.৪১% ভোটাররা চাইছেন ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যেই নির্বাচন হোক।

৩৪.৩% ভোটার কাকে ভোট দেবেন তা জানাননি। বাকি ৬৫.৭% ভোটারের মতামতে দেখা গিয়েছে, ৪১.৭% ভোট পাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ৩১.৬% ভোট পাবে জামায়ত ইসলামী, ১৩.৯% ভোট পাবে আওয়ামী লীগ, ৫.১% ভোট পাবে ছাত্র নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল, আর ৭.৬% ভোট পাবে অন্যান্যরা। বরিশাল (৩১.৬৬%), চট্টগ্রাম (৪৭.৮২%), ঢাকা (৪৪.৭১%), ময়মনসিংহ (৪৪.৭১%), রাজশাহী (৪২.৬৮%), সিলেটে (৫১.০২%) সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে, খুলনায় (৪৬.৩২%) এবং রংপুরে (৪৪.৯১%) জামায়ত ইসলামী এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকবে এবং জমায়েত ইসলামী তাদের প্রধান বিরোধী দল হতে পারে। নতুন ছাত্র নেতৃত্বাধীন দল সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে চট্টগ্রামে (৭.৩৫%)। তবে প্রার্থী তালিকা নির্বাচনের ফলে বদলও আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে দলের চেয়ে প্রার্থী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২১% ভোটার জানিয়েছেন তাঁরা দল দেখে ভোট দেন। আবার ৩৮.১% ভোটার মত দিয়েছেন তাঁদের কাছে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দল এবং প্রার্থীর বাইরে তৃণমূল রাজনীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে আদর্শিক অবস্থানের বিষয়গুলিও প্রভাব ফেলতে পারে। ২৬.৬% ভোটার তৃণমূল রাজনীতি, ২০.৫% ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, ১৬.৪% জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে আদর্শিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেবেন বলে মতামত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেখানে সব দলের মধ্যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজস্ব রাজনীতি আর কৌশলে বেশি জোর দিতে দেখা গিয়েছে। বিএনপি শুরু থেকেই দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, জামায়ত ইসলামী চাইছে, সংস্কার শেষ হলে 'যৌক্তিক সময়ের' মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচনের সময় নিয়ে বাকি দলগুলোর কেউ জামায়ত ইসলামীর দাবি আবার কেউ বিএনপির দাবিগুলিই সামনে রাখছে। কিন্তু গণপরিষদ নির্বাচন হলে জাতীয় নির্বাচন পেছোতে হবে কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছিলই। সম্প্রতি বিবিসি-র একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন 'পিছিয়ে যাবে'। ফলে জাতীয় সংসদ, গণপরিষদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে সেই উত্তর এখনও অধরা।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।