৩০ দিনে ৪,১০৪ শিশুর মৃত্যু! কেন এত শিশু মারা যাচ্ছে গাজার যুদ্ধে?

Gaza Children Death : পৃথিবীতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বোমা এসে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে শিশুর দেহ।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
৩০ দিনে ৪,১০৪ শিশুর মৃত্যু! কেন এত শিশু মারা যাচ্ছে গাজার যুদ্ধে?

হামাস ইজরায়েলের ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছিল। হত্যার বদলা চিরকালই হত্যা, রাষ্ট্রশক্তির কাছে তো বটেই। তাই বদলা নিয়েছে ইজরায়েল। ১৪০০-র বদলা ১০০০০! গত ৪ সপ্তাহে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। এই ১০ হাজারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিশু। ছোট্ট দেহ, ছোট্ট লাশ। বরাবরই যে কোনও যুদ্ধের 'সফট' টার্গেট মহিলা ও শিশু। ধর্ষণ ও শিশুমৃত্যু যুদ্ধের কতখানি অংশ জুড়ে থাকে সেই পরিসংখ্যান যে কোনও যুদ্ধের ইতিহাস অল্প ঘাঁটলেই পাওয়া যাবে। রাশিয়া আর ইউক্রেনের যুদ্ধ কিন্তু এখনও চলছে। সেখানেও এত বেশি শিশু কিন্তু প্রাণ হারায়নি। কেন ইজরায়েল হামাসের দ্বন্দ্বে পড়ে গাজার ছোট শিশুরা হাজারে হাজারে মারা যাচ্ছে?

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রক আরও জানাচ্ছে, ৭ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই কেবল ২,৯০০ শিশু নিহত হয়েছে। এই মুহূর্তে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই শিশুমৃত্যু। ইউক্রেনে কিন্তু তুলনামূলকভাবে দু'টি অনেক বড় শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। দীর্ঘ সময়ের এই যুদ্ধে প্রায় ৯,৮০০ নাগরিকের প্রাণ গিয়েছে, কিন্তু শিশুর সংখ্যা ৫৫০-রও কম। গাজার তাহলে এত পরিমাণ শিশু মৃত্যু কেন? গাজা বিশ্বের তৃতীয় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এবং এখানে তরুণ জনসংখ্যাই বেশি। ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২০ বছরের কম বয়সি। ইরাক, নামিবিয়া এবং থাইল্যান্ডের মতো অন্যান্য উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশগুলির গড়ের তুলনাতেও অনেক বেশি এই হার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লাশের স্তূপ মর্গে! ৮,০০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধ ঘোষণা ইজরায়েলের

Gaza Children Death Toll : সঠিক অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ এবং অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। মর্গে মৃতদেহ স্তূপ হয়ে যাচ্ছে।

শিশু জনসংখ্যা কেন এত বেশি তার মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে উচ্চ প্রজনন হারের উপর। অর্থাৎ একজন মহিলা তাঁর জীবদ্দশায় কতগুলি সন্তান জন্ম দিতে পারবেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের জনসংখ্যা বিভাগ অনুসারে, ২০২১ সালে গাজা (মোট জনসংখ্যা ২ মিলিয়ন) এবং ওয়েস্টব্যাঙ্ক (৩ মিলিয়ন) সহ ফিলিস্তিনি অঞ্চলে এই প্রজনন হার ছিল ৩.৪%। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তা ছিল ৩.৮।

গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন। কিন্তু জনসংখ্যা বিভাগের মতে, সেই সময়ে গাজার জন্মহার ছিল ৩.৯%। এই হারগুলি প্রতিবেশী দেশ ইজরায়েল, জর্ডান বা মিশরের তুলনায় অনেক বেশি। উচ্চ প্রজনন হারের নেপথ্যে থাকে স্বল্প আয়ু, দারিদ্র্য এবং নারী শিক্ষার হার কম হওয়ার মতো কারণ। কিন্তু ফিলিস্তিনি অঞ্চলে এই সমস্যা ছিল না। প্যালেস্তাইনে জনপ্রতি গড় আয় প্রতি বছর ৪,৬০০ ডলার, যা মিশর এবং জর্ডনের তুলনায় বেশি। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় ছেলেদের চেয়ে বেশি মেয়ে ভর্তি হয় প্যালেস্তাইনে। উচ্চ-মধ্য স্তরের আয় আবার উচ্চ প্রজনন হার, প্যালেস্তাইনের এই বিষয়টি বেশ অন্যরকম। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ইজরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং হামাসের প্রভাব (গাজাকে হামাস শাসন করে কিন্তু ওয়েস্ট ব্যাঙ্ককে নয়) এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় সাদা ফসফরাস ছড়াচ্ছে ইজরায়েল! কতটা মারাত্মক এই 'নিষিদ্ধ অস্ত্র'?

Israel White Phosphorus Attack : সাদা ফসফরাস মানুষকে সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিতে পারে, এমনকী হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে কারণ এটি অত্যন্ত দ্রবণীয়।

প্যালেস্তাইনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত একবার বলেছিলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ফিলিস্তিনি পরিচয় এবং নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করার একটি উপায়। ২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হামাস উচ্চ জন্মহার বজায় রাখার চেষ্টা করে গিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১০০০ শিশু নিখোঁজ, হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে তারা। ৬০০০-এর বেশি শিশু আহত। বিদ্যুতের অভাবের পাশাপাশি পাওয়ার জেনারেটরগুলিতে জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলির অবস্থা এমনিই তথৈবচ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানিও না থাকায় গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা শিশুদের জীবনকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে। সদ্যোজাতরা পরিচর্যা পাচ্ছে না বিন্দুমাত্র। পৃথিবীতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বোমা এসে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে শিশুর দেহ। ইজরায়েল কেবল সংখ্যা গুনছে, ৮০০১, ৮০০২, ৯০০০...

ঠিক ১০০ বছর আগে শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করেন এগ্লান্টিন জেব, আন্তর্জাতিক সেভ দ্য চিলড্রেন ইউনিয়ন তা প্রকাশ করে। ওই খসড়াতে বলা হয়, বিপর্যয়ের সময় প্রথম ত্রাণ পাবে অবশ্যই একজন শিশু। যে শিশুটি ক্ষুধার্ত তাকে অবশ্যই প্রথমে খাওয়াতে হবে।অসুস্থ শিশুকে অবশ্যই লালন-পালন করতে হবে এবং অনাথকে আশ্রয় দিতে হবে। এই এক শতাব্দীর পর, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিতে শিশুরাই এখনও সবচেয়ে বেশি ভুগছে।

প্রতি ছয়জনে একজন শিশু (৩০ বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ) সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাস করে এবং মারা যায়। ২০২১ সালের হিসেব বলছে, যুদ্ধের শিকার হিসাবে প্রতিদিন ২২ জন করে শিশু নিহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।