কেন রাজ্যের সরকারী আধিকারিকদের বরখাস্ত করছে নির্বাচন কমিশন?

West Bengal Election: তাঁরা দায়িত্ত্বে থাকাকালীনই ভোটার তথ্য যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অসততা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপির তথ্য সামনে এসেছে। এই তথ্য পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করে কমিশন।

inscript
৩ মিনিট
কেন রাজ্যের সরকারী আধিকারিকদের বরখাস্ত করছে নির্বাচন কমিশন?

রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ‘নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক’ (‘ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ বা ইআরও) এবং ‘সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক’ (‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ বা এইআরও)। আর এই নিয়ে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ চলছে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মধ্যে৷ কেন সরকারী কর্মীদের বরখাস্ত করার সুপারিশ দিল নির্বাচন কমিশন?

ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। রাজ্য মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের তদন্তে উঠে এসেছিল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন নাম তোলার অভিযোগে তলব করা হয়েছিল চারজন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে। এরপরই দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

অভিযোগ, বারুইপুর ও ময়নার ভোটার তালিকায় অনেকের নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিভাবে ঢোকানো হয়েছিল। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগেই দুই ইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। পাসওয়ার্ড ও আইডি অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৬৮ জন ভোটারের ঠিকানা বার! ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ

Election Commission : সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি শুধু দাবিই করেননি ভোটার তালিকাও দেখিয়েছেন। ওই তালিকায় দেখা গিয়েছে, চারটি ভিন্ন ভোটকেন্দ্রেই একটি ব্যক্তির নাম রয়েছে।

ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা দায়িত্ত্বে থাকাকালীনই ভোটার তথ্য যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অসততা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপির তথ্য সামনে এসেছে। এই তথ্য পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করে কমিশন।

এর আগে রাজ্যের নন্দকুমারে ৫৯ জন এবং রাজারহাট গোপালপুরের ৪৩ জন ভোটারের নামে জালিয়াতি ছিল বলে অভিযোগ। কমিশন এই অঞ্চলগুলির দফতরের সব বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, ভোটার তালিকায় খতিয়ে দেখতে হবে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কাজ করলে তাঁদের সাসপেন্ডও করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। এবার সেই মতোই পদক্ষেপ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
WB Electoral Roll : নির্বাচন কমিশনের অভূতপূর্ব নির্বাচনী তালিকা সংশোধন এবার বঙ্গেও

West Bengal Election : ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজ্যের আধিকারিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনী তালিকার বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে শীঘ্রই।

যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সেই নির্দেশ তিনি মানবেন না। কাউকে তিনি বরখাস্ত করবেন না। ৬ অগাস্ট ঝাড়গ্রামে এক সভা থেকে তিনি বললেন, “বাংলার সরকারি অফিসারদের বলব নিশ্চিন্তে থাকবেন। আমরা আপনাদের জীবন দিয়ে রক্ষা করব।”

নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মমতার বার্তা, “সরকারী কর্মচারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কালকে আমার দুই অফিসারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কি না, তাঁদের সাসপেন্ড করা হলো। আমরা বলি, তোমার নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়েছে? কোন আইনের বলে তুমি নোটিস পাঠাচ্ছ? সাসপেন্ড করছ। আর বলে দিচ্ছ, এফআইআর করতে হবে। হবে না। আমি কারও পানিশমেন্ট হতে দেব না। এটা মাথায় রাখবেন।” প্রশ্ন হলো, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদ করতেই পারেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কী অমান্য করতে পারবেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্য সরকার কমিশনের নিদের্শ মেনে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন(SIR) হবে। এ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রাজ্য সরকার আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব। যদিও বিহারের স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন(SIR) নিয়েও বিতর্ক আছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপি বিরোধী জাতীয় স্তরের সব দলই প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকার এই সমীক্ষা আসলে ঘুরপথে এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টা। এসবের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বাসিন্দা অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের নোটিসও পেয়েছেন। সেখানে তাঁদের নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আবার ভোটার তালিকার জন্যও নথি দেখাতে হচ্ছে ভোটারদের। এছাড়া বিহারে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন(SIR)-এর প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বিহারের শাসকদল বিজেপিকে সুবিধে করে দিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এখন দেখার অভিযোগ ওঠা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার? এবং নির্বাচন কমিশন বনাম রাজ্য — এই ন্যারেটিভকে খাড়া করতে পারে কিনা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।