ইরান কেন ইজরায়েলের হাইফা শহরকে টার্গেট করছে?

Haifa: ইজরায়েল-ইরানের মধ্যে সংঘর্ষে ইজরায়েলকে পাল্টা জবাব দিতে হাইফা-সহ একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা। এটি ইজরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ইরান কেন ইজরায়েলের হাইফা শহরকে টার্গেট করছে?

১৩ জুন ভোররাতে ইজরায়েল এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, বরং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, অস্ত্রাগার, পরীক্ষাগার এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবনও টার্গেট ছিল। এই অভিযানের ঠিক তার পরেই ইরানের শীর্ষ নেতা আলি খামেনেই প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তেল আভিভে মিসাইল চালায় তেহরান। ওয়াশিংটন পোস্ট-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ওই শহরটিকে টার্গেট করে গতকাল ১৪ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এ শহরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? কেন ইরানের টার্গেট হাইফা?

ইজরায়েল-ইরানের মধ্যে সংঘর্ষে ইজরায়েলকে পাল্টা জবাব দিতে হাইফা-সহ একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা। এটি ইজরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। হাইফায় ইরানের হামলা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, ১৪ জুন ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলে ছোড়া হয়। সেখানে এও বলা হয় যে, টার্গেট ছিল হাইফা ও তেল আভিভ।

ওয়াশিংটন পোস্ট-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এও জানানো হয় যে, ১৪ জুন হাইফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়া গিয়েছিল। টাইমস অব ইজরায়েল-সহ ইজরায়েলি গণমাধ্যমে হাইফায় বিস্ফোরণের ছবি দিয়ে দাবি করা হয়েছিল এগুলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলাফল। তবে বিবিসি প্রথমে হাইফায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ৫ জনের মৃত্যুর খবর জানালেও পরে ওই সংবাদমাধ্যম জানায়, হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার খবরটি ঠিক নয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, হাইফায় ইজরায়েলের একটি শক্তিশালী নৌঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বেশ কিছু তেল শোধনাগার ও বহু রাসায়নিক কারখানা রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসেও বলা হয়েছে, ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারটি রয়েছে হাইফায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, হাইফা বহু শতাব্দী ধরেই একটি বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইজরায়েলের প্রধান সমুদ্রবন্দর এটি। ইজরায়েলের জলপথে যে সব বানিজ্য হয় তা অনেকটাই এই বন্দর দ্বারা পরিচালিত হয়। ইজরায়েলের মোট পণ্য পরিবহনের প্রায় অর্ধেকই এই বন্দর দিয়ে যায়। প্রতিবেদনে এও বলা হয় যে, ইজরায়েলের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কোনো রকম বাধা না রাখতে হাইফায় আয়রন ডোম স্থাপন-সহ নানা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা করা রয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, হাইফায় যে নৌঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও রাসায়নিক কারখানাগুলো রয়েছে তা তেল আভিভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল–জাজিরা-তে বলা হয়, হাইফায় ইরানের হামলা প্রত্যাশিত ছিলই। প্রতিবেদনে এও বলা হয়, বিশেষ করে ইজরায়েলের হাইফায় ইরানের হামলা আসলে স্পষ্ট বার্তা যে তেহরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। কারণ, ইরানের শীর্ষ নেতারা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইজরায়েল যদি ইরানের বেসামরিক এলাকায় বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে তারাও পাল্টা জবাব দেবে।

ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা ইজরায়েলকে সমর্থন করছে। সেই সন্দেহের থেকে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা। পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বৈঠকও আর হয়নি। ইরান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল তাদের ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত কর্মসূচিতে আমেরিকা যদি রাজি না হয় পরমাণু চুক্তি করা হবে না। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, "ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা জাতীয় স্বার্থের বিরোধী। ইরান কখনও সেই পথে হাঁটবে না।’’ এরই মধ্যে ইজরায়েলি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় তিন ইউরোপীয় দেশ।জার্মানির বিদেশমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল জানিয়েছেন, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন দ্রুত ইরানের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানসূত্র বার করতে চায়। তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন যে ওই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় শুধুমাত্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।