এক তপস্বীর কৃচ্ছসাধন কাহিনি

Narendra Modi at Ram Mandir : কনকনে শীতে প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরে ধ্যান করেছেন। এত কৃচ্ছসাধন কীসের জন্য? রাম না ভোট?

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
এক তপস্বীর কৃচ্ছসাধন কাহিনি

তিনি প্রধানমন্ত্রী, না কি তিনি উপাসক! তিনি মানুষের সেবক না কি ঈশ্বরের? মানুষের মোদি, না মন্দিরের? একটি ইতিহাস কাঁপানো রামমন্দির দেখল ভারত। ২০২৪ সালের পাখির চোখে মোক্ষম তিরটি মেরেছেন নরেন্দ্র মোদি। তির মারার আগে প্রস্তুত হয়েছেন, বহু বছর ধরে। ১৯৯২ সালে বাবরি ধ্বংস হওয়া থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামের জন্মভূমি বলে 'প্রমাণ' করে দেওয়া অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, কঠোর রাজনৈতিক শৃঙ্খলায় চলেছে সবটা। জনগণের কাছে রাম নন, খোদ নিজেই যেন হয়ে উঠেছেন অবতার! কেন দেবতাকে হাতিয়ার করতে হলো ভোট জিততে? না কি এই নিষ্ঠাপালন, এই মন্দির দেখে বিহ্বলতা মোদির নিজেরই অন্তরের?

নরেন্দ্র মোদির রাম মন্দিরের এই বিশেষ ক্ষণের আগে ১১ দিন উপবাস করেছেন। মেনে চলেছেন কঠোর আচার-অনুষ্ঠান। টানা ১১ দিন, এই শীতের কালে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন মোদির। নুন খাননি এক ফোঁটাও। ডাবের জল খেয়েছেন। রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পুজোয় বসেছিলেন যে যে পুরোহিতরা, তাঁদের মতে অযোধ্যার রাম মন্দিরে অভিষেক অনুষ্ঠানের সময় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন মোদি।

১২ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিনের উপবাসের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ৪০টি নিয়ম মেনে চলেছিলেন৷ শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থের স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজের মতে, আচার অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবেই প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সময়ে কোনও বিদেশ ভ্রমণ করতে পারেননি, তবে দেশের ধর্মীয় স্থানগুলি ঘুরেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন দক্ষিণ ভারতীয় প্রতিমার ছাঁচে গড়া রামলালার মূর্তি?

Ram lalla Idol South Indian Style : পেরিয়ারের 'রামায়ণ পাথিরঙ্গল' ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। শূদ্র হওয়ার কারণে রাম শম্বুককে হত্যা করেছিলেন।

ডাবের জল খেয়ে প্রধানমন্ত্রী উপোস পালন করেছেন। বলা হয়েছিল দিন তিনেক এইসব আচার পালন করলেই হবে। কিন্তু মোদি অটল! তিনি ১১ দিনের নিয়মই মানবেন। রাম মন্দিরের শিশু রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে তাই দেশবাসীকে নিজের কড়া সাধনার ছবি দেখিয়েছেন তিনি।

পণ্ডিত সদানন্দ পাঠকের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর এই একাদশ দিনের উপবাসের সময় সমস্ত এক ফোঁটা নুনও ছুঁয়ে দেখেননি। সৈন্ধব লবণ খাওয়া যেত ঠিকই, ফলমূলও খাওয়া যেত। কিন্তু মোদি বলেছেন, কেবল ডাবের জল! এই মাঘের শীতে বিছানায় নয় মেঝেতে শুয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। আচার অনুযায়ী, বিছানায় ঘুমানো বা বসা নিষেধ। পাশাপাশি গো সেবা করেছেন তিনি। গরুদের খাইয়েছেন। ঈশ্বরের কাছে ভোগ নিবেদন করার পর নৈবেদ্য নিয়েছেন। এই ১১ দিন দাড়ি কামানো এবং নখ কাটাও রীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ ছিল। কনকনে শীতে প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরে ধ্যান করেছেন। এত কৃচ্ছসাধন কীসের জন্য? রাম না ভোট?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২২ জানুয়ারিই বজরং দলের হাতে হত্যা হয় পাদ্রীর! প্রাণ প্রতিষ্ঠার আড়ালে হারাচ্ছে যে ঘটনার স্মৃতি

Babri Masjid and Ram Mandir : ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারির ভোর রাতে এই অস্ট্রেলিয়ান পাদ্রী, যিনি ১৯৬৫ সাল থেকে ওড়িশার কুষ্ঠরোগীদের জন্য কাজ করতেন, তাঁকে পুড়িয়ে মেরেছিল বজরং দল।

তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির মুখ। দেশের মানুষের অর্ধেক আস্থা জিতে বসেই আছেন। এর পরেও এমন সনাতনী ঋষির আচরণ তাঁকে কেন করতে হচ্ছে?

তড়িঘড়ি অসমাপ্ত রাম মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ- এরা কী প্রমাণ করতে চাইলেন? প্রধানমন্ত্রীকে 'মহাপুরুষ' বলেছেন গোবিন্দ গিরি দেব। বলেছেন, এমন সাত্ত্বিক রাষ্ট্রনেতা পাওয়া দেশের সৌভাগ্য! একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে 'সাত্ত্বিক' প্রধানমন্ত্রীর দরকারই বা পড়ছে কেন? যোগী আদিত্যনাথ বলছেন, অযোধ্যা বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী হতে চলেছে। রামমন্দিরই ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ঘটাবে। মন্দির কীভাবে কোনও দেশের ‘সংস্কৃতি’ নির্ধারণ করতে পারে? তাও ভারতের মতো এমন বিচিত্র ভাষা, পোশাক, খাদ্য, জীবনের দেশে?

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের চেয়েও কি তবে রামমন্দির বেশি কার্যকরী? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেকেই তাই 'অবতার', ‘মহাপুরুষ' করে তুলতে হচ্ছে তাঁকে? অরি রামভক্তি কীসের লক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা গলাদের থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় স্লোগানে।

মোদি তো বলেই দিয়েছেন, রামের রূপে এ রাষ্ট্রচেতনার মন্দির। রামই ভারতের চেতনা, রামই ভারতের বিধান, রামই নীতি, রামই নিত্যতা, রামই জ্ঞাপক, রামই বিশ্ব, রামই বিশ্বাত্মা। ভারতবর্ষ অর্থাৎ রাম- এই যদি প্রমাণের চেষ্টা হয় তাহলে বলা বাহুল্য সাংবিধানিক কোনও নীতি, কোনও মৌলিক অধিকার ইত্যাদির প্রশ্ন সেখানে খাটেই না। বিজেপি এমন হিন্দুরাষ্ট্রই চেয়েছিল। রামই দেশের চালক, মোদি খানিক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পেয়েছেন। রামেরই রাজ্য শাসন করছেন একজম যার ইতিহাসে রয়েছে গুজরাতের ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা। শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য নয়, চাকরি নয়। কেবল রামকে ধরিয়ে দিলেন তিনি ১৪০ কোটির হাতে। ধর্মনিরপেক্ষতা নেই, গণতান্ত্রিক দেশে নেতা না হয়ে সাত্ত্বিক প্রধানমন্ত্রী, অবতার প্রধানমন্ত্রী হতে হচ্ছে একজনকে! জনতার রাজা তিনি, রাজ্য তারই! কিন্তু প্রশ্ন তবু উঁকি দেয়, অতিভক্তি কীসের যেন লক্ষণ!

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।