ব্রাহ্মণদের এঁটো খাবারের উপর গড়াগড়ি খায় শূদ্ররা! ভারতে এখনও পালিত হয় নিকৃষ্ট এই প্রথা!

Made Snana Ritual: মানুষও বিশ্বাস করেন এঁটো খাবারের উপর গড়াগড়ি দিলে ত্বকের নানা রোগ তো সারবেই, তারা যে পাপ করেছেন তা থেকেও মুক্তি মিলবে।

inscript
৩ মিনিট
ব্রাহ্মণদের এঁটো খাবারের উপর গড়াগড়ি খায় শূদ্ররা! ভারতে এখনও পালিত হয় নিকৃষ্ট এই প্রথা!

ব্রাহ্মণদের 'উচ্ছিষ্ট ভোজন' করে রোগ নিরাময়। শুনে মধ্যযুগের কথা মনে হলেও এ আচার ভারতে এখনও বর্তমান এবং রীতিমতো উৎসবের আকারে বর্তমান। 'জাত' চেনানোর এই আচার এতটাই জনপ্রিয় যে আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও ফের চালু হয়েছে এই উৎসব! কর্ণাটকে এই উৎসবের নাম মাদে স্নান। এই বিচিত্র আচারের অংশ হিসাবে, তপশিলি উপজাতি এবং অন্যান্য নিম্ন বর্ণের ভক্তরা কলাপাতায় ব্রাহ্মণদের এঁটো খাবারের উপর দিয়ে গড়াগড়ি খায়! কারণ তাঁদের বিশ্বাস ব্রাহ্মণদের উচ্ছিষ্ট দেহে মাখলে তা তাদের বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে মুক্তি দেবে।

মন্দিরের মধ্যে ব্রাহ্মণদের যে খাবার পরিবেশন করা হয়, তারই উচ্ছিষ্টের উপর দিয়ে গড়াগড়ি খান শয়ে শয়ে ভক্ত। এটি সুব্রমণ্য মন্দিরে উদযাপিত ষষ্ঠী উৎসব চলাকালীন ঘটে। বিশ্বাসী ভক্তদের অধিকাংশই শূদ্র এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষ, তবে মজার বিষয় হলো অসমর্থিত, 'নিচুস্তরের' ব্রাহ্মণও কম নেই এতে। কিছু মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষিত মানুষও রয়েছেন যারা বিশ্বাস করেন এঁটো খাবারের উপর গড়াগড়ি দিলে ত্বকের নানা রোগ তো সারবেই, তারা যে পাপ করেছেন তা থেকেও মুক্তি মিলবে। মাটিতে এই গড়াগড়ি খাওয়াকে কন্নড় ভাষায় 'উরুলু সেভ' বলা হয়। মাদে স্নানা কথাটির মধ্যে স্থানীয় টুলু ভাষায় মাদে শব্দটি অর্থ হলো এঁটো। স্থানীয়দের দাবি, এই আচার প্রাচীন, বয়স কমপক্ষে পাঁচশো বছর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের এই মন্দিরে পূজিত হয় মোটরবাইক! 'বুলেট বাবা'-র নেপথ্যে রয়েছে গা ছমছমে যে ঘটনা

Bullet Baba Temple: মন্দিরটিতে ওম বান্নার একটি আবক্ষ মূর্তিও রয়েছে। তার পিছনেই রয়েছে সেই বুলেট মোটরসাইকেল।

মাদে স্নানা মূলত কর্ণাটকের সুব্রামণ্য মন্দিরগুলিতে বিশেষ উৎসবের দিনে পালিত হয়, তবে কৃষ্ণমঠ, উদুপির মতো বৈষ্ণব স্থানেও এটি পালিত হয়েছে। তবে কুক্কে সুব্রামণ্য মন্দিরে এবং কালাভরার সুব্রামণ্য মন্দিরে, কুন্ডাপুরার তালুক এবং হাসান জেলার রামনাথাপুরায় এই আচার সবচেয়ে বেশি ও নিয়মিত পালিত হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই জাতীয় আচারকে অব্যাহত রাখারই নির্দেশ দিয়েছে। যেহেতু প্রচলিত মাদে স্নানা অবৈধ, তাই এখন নাম বদলে হয়েছে 'এদে স্নানা'। এটি মাদে স্নানারই পরিবর্তিত সংস্করণ, যেখানে ভক্তরা ব্রাহ্মণের উচ্ছিষ্টের বদলে 'প্রসদা' অর্থাৎ দেবতাদের দেওয়া ভোগ বা গরুর খাওয়া খাবারের উপর গড়াগড়ি দেন।

কর্ণাটকে এই জাতীয় কুসংস্কারমূলক আচারের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত আন্দোলন আগে হয়েছে, তবে ২০১২ সালে সংঘবদ্ধ লড়াই শুরু হয়। শ্রী জি ভি শ্রীরাম রেড্ডির নেতৃত্বে সিপিএম, মাইসোরের কর্ণাটক ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস অ্যাওয়ারনেস ফোরামের শ্রী কে এস শিবরামু এবং কোমু সৌহার্দ্য বৈদিকের সদস্যরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। বিখ্যাত যুক্তিবাদী নরেন্দ্র নায়ক এবং এসডিপিআইয়ের মুনির কাটিপল্যার মতো শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যান্য বিশিষ্ট নেতা।

দাসত্বের প্রতীক হিসাবে চলে আসা এই কুসংস্কারের আচার নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। সাধারণত ব্রাহ্মণ সহ সমস্ত বর্ণের হিন্দুরাই এই উৎসবটিকে সঞ্চালনা করেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি ছিল, উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের, বিশেষত ব্রাহ্মণদের হাতে দলিত নিপীড়নের এই প্রথা কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কীভাবে চলতে পারে, বর্ণবাদ, কুসংস্কার এবং সাম্প্রদায়িকতার উপর ভর করে গড়ে ওঠা এমন আচরণ ভারতের লজ্জা। ২০১০ সালে রাজ্য সরকার কর্তৃক এই অনুষ্ঠানটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে মালেকুদিয়াস নামের স্থানীয় বন উপজাতি এই বিধিনিষেধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। ২০১১ সালে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মন্দিরে তাদের দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করে। তাদের চাপের মুখে নতিস্বীকার করে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ২০১১ সালে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

রাজ্যের প্রগতিশীল নেতা এবং উদারপন্থীদের আন্দোলনের ফলে এই বিতর্কিত আচারকে কর্ণাটক প্রিভেনশন অফ সুপারস্টিশন প্র্যাকটিস বিলে (২০১৩) অন্ধ বিশ্বাস হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করে। কর্ণাটক হাইকোর্ট ২০১২ সালের ২ নভেম্বর তার আদেশে এই আচার পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল, তবে সুপ্রিম কোর্ট কোনও বদলের পক্ষে যায়নি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।