বাংলায় এত অবাঙালি প্রার্থী কেন তৃণমূলের?

TMC Non Bengali Candidate List: গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, তৃণমূল অবাঙালিকে দাঁড় করাচ্ছে এই ধারণা থেকেই যে আসানসোল, কুলটি এই পশ্চিমাঞ্চল তো আসলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মানুষেরই জায়গা।

inscript
৩ মিনিট
বাংলায় এত অবাঙালি প্রার্থী কেন তৃণমূলের?

ব্রিগেডে জনগর্জন সভায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। পাঁজি দেখে কালীঘাট থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার যে চিরাচরিত নিয়ম তা এবার দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, প্রার্থী তালিকাও অভিনব। দুর্গাপুর বর্ধমান আসনে তৃণমূলের প্রার্থী কীর্তি আজাদ। বহরমপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনগর্জন সভার মঞ্চ থেকে বলেছিলেন, এবারের রায় বহিরাগত বিদায়। বিরোধীরা তাঁর যুক্তিকে ঢাল করেই প্রশ্ন করছে কীর্তি বা ইউসুফ কি বহিরাগত নন?

কুণাল ঘোষের যুক্তি, বহিরাগত শব্দটা ভৌগোলিক ভাবে ভাবলে চলবে না। এটা রূপক মাত্র। যারা ১০০ দিনের টাকা দেয় না, বাংলার মনীষীদের অপমান করে তারাই বহিরাগত।

কোন অঙ্কে কীর্তি আজাদকে এই আসনে দাঁড় করাল তৃণমূল? যুক্তি বলছে, এই আসনে বিজেপির হয়ে জয়লাভ করেছিলেন সুরিন্দর সিং অহলুআলিয়া। এলাকায় তাঁকে দেখা যায় না বলে 'নিখোঁজ' পোস্টার পড়েছিল। সুরিন্দরে বিক্ষুব্ধ অবাঙালি ভোট টানতেই কীর্তিকে বেছে নেওয়া। তবে কীর্তির কীর্তির কোনও শেষ নেই। অতীতে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্রিকেট দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর পদ যায়। তারপর নাম লিখিয়েছিলেন কংগ্রেসে। শেষে এসে তরী ভিড়েছে তৃণমূলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোভীদের স্বর্গরাজ্য তৃণমূল, টিকিট না পেলেই আলবিদা বলেন যারা

TMC Candidate List 2024: মমতা নিজে দেবকে প্রার্থী করতে চান। তাই মত বদলে নেন দেব। ফের ঘাটালে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তবে মিমির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।

একই সুরে তৃণমূলকে বিঁধছে বিজেপি, সিপিএমও। দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, বাংলায় কি লোক নেই? মহম্মদ সেলিম বলছেন, নায়ক-গায়ক কোটা শেষ হয়ে গিয়েছে তাই এবার বাইরের রাজ্য থেকে লোক ধরে আনতে হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে ইউসুফ পাঠানকে নিয়েও। একদিকে যেমন অধীর চৌধুরীর মতো দাপুটে রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে তিনি কীভাবে দাঁড়াবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে, তেমনই আবার কথা বোঝার সমস্যাও মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বহরমপুর বাংলাভাষী মুসলিম অধ্যুষিত। হিন্দিভাষী ইউসুফ কীভাবে তাদের সঙ্গে সংলাপ করবেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলা ভাষা বাঁচাতে বাংলাপক্ষ আদৌ প্রয়োজনীয়?

Bangla Paksha : ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ যা আজ নিপীড়িত, লুণ্ঠিত, প্রতারিত বাঙালির পেশি ও কণ্ঠস্বর।

বাংলায় বাঙালি প্রার্থী দিতে হিমশিম খাচ্ছে তৃণমূল! প্রার্থীভাণ্ডারের এমন দেউলিয়া দশা হলো কেন তাঁদের? বাংলাপক্ষর তরফে গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, পশ্চিম বর্ধমানের দুই কেন্দ্রেই অর্থাৎ আসানসোল এবং বর্ধমান দুর্গাপুরে দুইজন প্রার্থীই, অর্থাৎ শত্রুঘ্ন সিনহা ও কীর্তি আজাদ অবাঙালি, বিহারি। ইউসূফ পাঠান গুজরাতের মানুষ। কৃষ্ণকল্যাণীও বাঙালি নন। "এটা কি অন্য কোনও রাজ্যে ঘটে? কোনও বাঙালিকে কি গুজরাতে, তামিলনাড়ুতে, রাজস্থানে প্রার্থী করা হবে? তাহলে বাংলায় এমন মঙ্গলগ্রহসুলভ নিয়ম কেন?" প্রশ্ন গর্গর।

গর্গ বলছেন, আসানসোল কেন্দ্রে বিজেপি পবন সিং নামের একজন বাঙালি বিদ্বেষী, বাঙালি মহিলা বিদ্বেষীকে প্রার্থী করেছিল। বিজেপি তো পবন সিংকে হারানোর জন্য নয়, জেতানোর জন্যই দাঁড় করিয়েছিল। তার অর্থ কি তাহলে এই যে বাংলায় বহিরাগত জনসংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে তারাই এখন ভোটের নির্ণায়ক! গর্গর ব্যাখ্যা, তৃণমূলও এসব আসনে অবাঙালিকে দাঁড় করাচ্ছে এই ধারণা থেকেই যে আসানসোল, কুলটি এই পশ্চিমাঞ্চল তো আসলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা মানুষেরই জায়গা। তাই অবাঙালিই বেশি। আসানসোলে দোলা সেন বাঙালি প্রার্থী ছিলেন, হেরে গেছেন, মুনমুন সেন বাঙালি প্রার্থী ছিলেন, হেরে গেছেন। বাবুল সুপ্রিয়কে বহিরাগত বিজেপির লোকই ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিয়েছে। এবার যদি শত্রুঘ্ন সিনহা বনাম পবন সিং লড়াই হতো তাহলে তা হতো বাংলার মানুষের জন্য দুই অবাঙালির লড়াই! গর্গ সাফ বলছেন, "বহিরাগত তোষণ বন্ধ না হলে বিপদ। কোনও বহিরাগতকে ভোট দেওয়া চলবে না। বিজেপির তো কাউকেই নয়, তৃণমূল বা সিপিএম বা কংগ্রেস যারই বহিরাগত প্রার্থী হোক, ভোট দেওয়া যাবে না। বহরমপুর কেন্দ্রে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাঁড়ালে, ইউসূফ পাঠান নন অধীরকেই জয়যুক্ত করা হোক।"

যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, সিএএ চালু হওয়ার মানে তীব্র মেরুকরণ। এক্ষেত্রে মুসলিম সমাজ প্রার্থী দেখে ভোট দেবে না। মোদি বিরোধী মুসলিম ভোট সবটাই যাবে তৃণমূলে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী মুসলিম হলে সুবিধেই বেশি।

বহিরাগত ট্যাগ ত্যাগ করতে চেয়ে কীর্তি আজাদ অবশ্য বলছেন, "আমি মিথিলাঞ্চলের লোক। মৈথিলের সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির অনেক কিছুই মেলে। বাংলা ভাষাটা আমি শিখে নেব।" বাংলার উন্নয়নে তৃণমূলের এই অবাঙালি আস্থা কি ধীরে ধীরে বিজেপির জমিই প্রস্তুত করে দিচ্ছে না?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?