১৯৭৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহের আয়তন ৪৩১ মিটার কমেছে।
১০ মিলিয়ন মানুষ বিপদে! কেন হিমবাহ হ্রদ ফেটে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমেই?
Glacial Lake Outburst: ২০২৪ সালে নেচার প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে ১০ মিলিয়ন মানুষের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানে এই বছর (২০২৫) থেকে প্রতি ২১ মার্চ পালিত হবে বিশ্ব হিমবাহ দিবস। সারা বিশ্ব জুড়ে হিমবাহগুলি এখন বিপদগ্রস্ত। বিশ্ব-উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত হারে বেড়েছে হিমবাহের গলন। এদিকে সারা বিশ্বজুড়ে বদলাচ্ছে তুষারপাতের ধরন। যার ফলে সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তুষারধস এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হতে পারেন। দ্রুত হিমবাহের গলনের ফলে বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। ফলে যে কেবল পার্বত্য অঞ্চলের মানুষই বিপদের সঙ্গে বাস করছেন তা নয়, সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে সমুদ্রে ঘেরা দ্বীপের মানুষও ঘনঘন বন্যার কবলে পড়ছেন।
২০২৪ সালে প্রথমবার পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও বেশি বেড়েছে। ইওরোপের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে ২০২৪ সালে এরকম অবস্থা টানা ১২ মাস জুড়ে ছিল। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা যত বাড়বে, পাল্লা দিয়ে বাড়বে হিমবাহের গলন।
এশিয়ার উঁচু পর্বতগুলিতে বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই হিমবাহগুলি দ্রুতহারে গলে, আয়তনে কমতে শুরু করেছে। ধরা যাক অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহের কথাই। ১৯৭৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এর আয়তন ৪৩১ মিটার কমেছে। নেচার পত্রিকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, পশ্চিম হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা-সহ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার হিমবাহগুলি কেবল ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫.৪% গিগাটন হ্রাস পেয়েছে এবং মোটের ওপর এই অঞ্চলের হিমবাহ ১৩০ গিগাটন হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ড, নেপাল, সিকিম, ভুটান, অরুণাচলপ্রদেশ-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হিমবাহগুলি এই ২৩ বছরে ৭.৩ গিগাটন কমেছে। মোটের ওপর যার পরিমাণ ১৭৫ গিগাটন। আমরা গিগাটনের পরিমাণ কীভাবে বুঝব? একটু সোজা ভাবে বললে, এক গিগাটন জল ৪ লক্ষ অলিম্পিকের সুইমিং পুলকে ভরিয়ে তুলতে পারে। বা পৃথিবীতে মানুষ বাদে যত স্তন্যপায়ী জীব আছে, তাদের মোট ভর এক গিগাটনের সমান।
আরও পড়ুন- পানীয় জলে দুর্গন্ধ! কলকাতায় যেভাবে বিষের আধার হয়ে উঠছে জলাভূমিগুলি
হিমবাহের গলন ও তুষারধস
হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে, তাদের মধ্যে স্থিরতা হারাচ্ছে, ফলে আকস্মিক ভাবেই হুড়মুড়িয়ে তুষারধস নামছে এশিয়া-সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের বরফে ঢাকা পাহাড়গুলি থেকে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যতই বাড়বে, তুষার গলে তুষারকণার মাঝে বাঁধন কমে যাবে। ফলে আলগা হয়ে যাবে হিমবাহগুলি।
আইআইটি মুম্বই এবং মোনাশ ইউনিভার্সিটির গ্লেসিওলজিস্ট তীর্থঙ্কর ঘোষের মতে,
“অতিরিক্ত তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পাহাড়ের বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের বদলে, ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হিমবাহের বরফ আরই আলগা হয়ে, তাদের গঠন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"
শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার দরুন, বরফ সাধারণত শুষ্ক থাকত। যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ছে, এখন পাহাড়ের অনেক উচ্চতায় থাকা হিমবাহে শীতকালেও জমে থাকা বরফ সহজে গলে যাচ্ছে। ফলে ভেজা-বরফ থেকে তুষারধসের প্রবণতাও বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে ১৯৮৮ সালে ১০টি তুষারধস হতো, ২০২০ সালে এসে তা ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) বদ্রীনাথও এরকম ভয়ঙ্কর এক তুষারধসের সাক্ষী থেকেছে। ২০২১ সালেও অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহ তুষারধসের কবলে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভেজা ও বেশি ঘনত্বের তুষার সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে তুষারধসের ধরনকে বোঝাও অনেকক্ষেত্রে মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, ভেজা বরফ থেকে ঘটা তুষারধস ধীর গতিতে এগোলেও, এদের ভর অনেক বেশি হওয়ায়, ক্ষতি অনেক বেশি হয়।
শুধুই কি হিমবাহের গলন?
তুষারধসের নেপথ্যে কিন্তু ভূমিকম্প ও অত্যধিক তুষারপাতও অন্যতম দু’টি কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তুষারপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, সঙ্গে দোসর হয়েছে চরম জলবায়ুজনিত ঘটনা। তীর্থঙ্কর ঘোষের মতে, “তুষারধসের পেছনে জলবায়ু ছাড়াও, বরফের গভীরতা আর পাহাড়ের ঢাল-সহ একাধিক কারণ কাজ করে।"
তিনি আরও জানাচ্ছেন,
“হিমালয় যেহেতু ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা, তাই এখানকার হিমবাহ সবসময়েই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। এমনকী ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ের খাড়াই ঢাল থেকে হিমবাহ খসেও তুষারধস ঘটতে পারে।"
২০২৩ সালেরই এপ্রিল মাসে আরেকটি ছোটখাটো তুষারধসের সাক্ষী থেকেছে সিকিম। প্রাণ গেছে অন্তত ৭ জনের, আহত হয়েছিলেন ১৩ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তুষারধসের নেপথ্যে ছিল পশ্চিমাঝঞ্ঝার কারণে ঘটা ভারী তুষারপাত এবং পাশাপাশি, পৃথিবীর ক্রমশ বেড়ে চলা গড় উষ্ণতাকেও দায়ী করেছেন তাঁরা।
বদ্রীনাথের সাম্প্রতিক তুষারধস
২৮ ফেব্রুয়ারি বদ্রীনাথে তুষারধস শুরুর কিছুদিন আগে থেকেই সেই অঞ্চলে অতিরিক্ত তুষারপাত শুরু হয়। এদিকে, ঠিক ওইদিনই নেপালের চৌতারাতে একটি ৫.৫ কম্পাঙ্কের (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির মতে) ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল ও উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্য। অবশ্য রয়টার্স, দ্য হিন্দু, দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট প্রভৃতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, ওইদিন নেপালের ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ছিল ৬.১ কম্পাঙ্ক।
একাধিক ক্ষেত্রে তুষারধসের নেপথ্যে ভূমিকম্প কাজ করলেও, তীর্থঙ্করের মতে, “বদ্রীনাথের ভূমিকম্পের নেপথ্যে টানা কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত তুষারপাতই মূলত দায়ী।" তবে তিনি পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, বদ্রীনাথের তুষারধসের সামগ্রিক কারণ যাচাই করতে এখনও পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার দরকার।
আরও পড়ুন-যে কোনও মুহূর্তে ভাঙবে অ্যান্টার্কটিকার দৈত্যাকার হিমবাহ! ‘মহাপ্রলয়ের’ আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের?
হিমবাহের গলন ও গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড
দ্রুত হারে হিমবাহ গলে তৈরি হচ্ছে গ্লেসিয়াল লেক বা হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ। বরফ যত দ্রুত গলছে, বরফগলা জল থেকে, হিমালয়ের কোল জুড়ে ততই জন্ম নিচ্ছে হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ। গ্লেসিয়াল লেককে ঘিরে থাকা অংশ, আদতেই বেশ ভঙ্গুর। ফলে ভূমিকম্প, তুষারধস, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা বরফপাতের ফলেও, যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে, এরকম হ্রদ।
সেই গ্যালনের পর গ্যালন হ্রদ-ভাঙা জল পাহাড় বেয়ে, ধেয়ে আসে নীচের দিকে। ফলে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্টের মতো ঘটনা ঘটে। যার অর্থ, হিমবাহ থেকে তৈরি হ্রদের ভাঙন। অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহের নীচেই এরকম একটি হ্রদ তৈরি হচ্ছে ২০২০ সাল থেকে। যে কোনও সময়ে সেই হ্রদ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্লেসিওলজিস্টরা।
২০২৪ সালে নেচার প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে ১০ মিলিয়ন মানুষের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবং সেই গবেষণাই বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে এই গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো ঘটনা তিনগুণ বাড়বে।
এর কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যাও দেখা যেতে পারে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড নামেও পরিচিত। ২০১৩ সালে ঠিক এরকমই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কেদারনাথের মন্দাকিনী উপত্যকা। ২০১৩ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে অত্যন্ত ভারী বর্ষণের (২৪ ঘণ্টায় ৩২৫ মিমি বৃষ্টিপাত) ফলে চোরাবারি গ্লেসিয়াল লেক ভেঙে পড়ে। হ্রদভাঙা বিপুল পরিমাণ সেই জলে হড়পাবানে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখহীন হয় কেদারনাথ, রাম্বারা, গৌরিকুণ্ড-সহ একাধিক এলাকা। মন্দাকিনী ও সরস্বতী নদীও গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের প্রভাবে উপচে পড়ে।
সিকিম ও গ্লেসিয়াল লেক
কেদারনাথের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিকিমও ঠিক এই ঘটনারই সাক্ষী থেকেছে। সিকিমের দক্ষিণ লোনাক নামের একটি গ্লেসিয়াল লেক ফেটে বন্যার সৃষ্টি হয়। যার তোড়ে উত্তর সিকিমের ষাট মিটার উঁচু কংক্রিটের চুংথাং জলাধার ভেঙে, সিকিম-সহ পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার কিছু অংশ হড়পাবানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
২০২৪ সালে রিমোট সেন্সিং অ্যাপ্লিকেশন সোসাইটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সিকিম-সহ পূর্ব হিমালয় রেঞ্জে এরকমই অনেক গ্লেসিয়াল লেক তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে একটি হ্রদ অত্যন্ত বিপজ্জনক, ৮টি বিপজ্জনক, ২২টি মাঝারি বিপজ্জনক, ৫৬টি সামান্য বিপজ্জনক এবং ১৮টি অতি সামান্য বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ লোনাক সহ কানচুং লেক এবং জা লা লেক বিশেষভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড মডেলিং থেকে গবেষকদের আশঙ্কা সিকিম-হিমালয় অঞ্চলে গ্লেসিয়াল-লেক ফেটে বন্যা হলে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। বিপর্যস্ত হতে পারে ১৯০০-র বেশি জনবসতি। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে সিকিমের দু’টি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
আরও পড়ুন-গ্লোবাল ওয়ার্মিং আসলে একটি বিশুদ্ধ মিথ্যা? চমকে দেবে বিজ্ঞানীদের এই ব্যাখ্যা
সতর্কীকরণ
বিশেষজ্ঞদের মতে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সিস্টেম আর অ্যানালিটিক্যাল হায়ারার্কিয়াল প্রসেস তুষারধস-প্রবণ অঞ্চলকে চিনতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে আগাম সতর্ক করা যেতে পারে এই অঞ্চল এবং তার নিকটবর্তী এলাকার মানুষদেরকেও। এর আগে একাধিক গবেষক জানিয়েছেন, রিয়েল-টাইমে আবহাওয়ার গতিবিধি বুঝতে তুষারধস এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট প্রবণ এলাকায় আরও বেশি করে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন স্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি তাপমাত্রা, বাতাসে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের সাপ্তাহিক ও দৈনিক ধরন, ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দেখে আগেভাগেই মানুষকে সতর্ক করার জন্য আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম গড়ে তোলা উচিত। গড়ে তোলা উচিত তুষারধসের পূর্বাভাস পাওয়ার মডেল। যে মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজন বাতাসের গতিবেগ এবং তুষারের গভীরতা সংক্রান্ত তথ্য।
হিমালয় যেহেতু ভূমিকম্প ও ধসপ্রবণ অঞ্চল এবং পশ্চিমিঝঞ্ঝা ও এল নিনোর প্রভাবে এই অঞ্চল প্রায়শই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের শিকার হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে হিমালয়ের কোনও অংশেই যেন ভারী নির্মাণের কাজ না হয়। অথচ হিমালয়ের পশ্চিম থেকে পূর্বে, কাশ্মীর থেকে অরুণাচল প্রদেশজুড়ে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে নানা দেশি ও বিদেশি সংস্থার অধীনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠছে। তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, সতলুজ জলবিদ্যুৎ নিগম,নর্থ-ইস্ট ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কোম্পানি, এনটিপিসি-হাইড্রো, টাটা পাওয়ার, জল পাওয়ার কর্পোরেশন, প্যান হিমালয় এনার্জি লিমিটেড, তিস্তা উর্জা লিমিটেড, প্রভৃতি। ভবিষ্যতে হিমবাহের অবস্থা কোন দিকে এগোবে― যার উপর নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যত― তা কিন্তু এখনও রয়েছে আমাদের হাতে। তীর্থঙ্করের মতে,
“বিশ্ব উষ্ণায়ন বন্ধ করতে কোন আর্থ-সামাজিক পথকে বেছে নিচ্ছি, তাই কিন্তু নির্ধারণ করবে প্রকৃতি ও হিমবাহের ভবিষ্যত।"