১০ মিলিয়ন মানুষ বিপদে! কেন হিমবাহ হ্রদ ফেটে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমেই?

Glacial Lake Outburst: ২০২৪ সালে নেচার প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে ১০ মিলিয়ন মানুষের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Madhurima Pattanayak
৬ মিনিট
১০ মিলিয়ন মানুষ বিপদে! কেন হিমবাহ হ্রদ ফেটে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমেই?

রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানে এই বছর (২০২৫) থেকে প্রতি ২১ মার্চ পালিত হবে বিশ্ব হিমবাহ দিবস। সারা বিশ্ব জুড়ে হিমবাহগুলি এখন বিপদগ্রস্ত। বিশ্ব-উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত হারে বেড়েছে হিমবাহের গলন। এদিকে সারা বিশ্বজুড়ে বদলাচ্ছে তুষারপাতের ধরন। যার ফলে সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তুষারধস এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হতে পারেন। দ্রুত হিমবাহের গলনের ফলে বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। ফলে যে কেবল পার্বত্য অঞ্চলের মানুষই বিপদের সঙ্গে বাস করছেন তা নয়, সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে সমুদ্রে ঘেরা দ্বীপের মানুষও ঘনঘন বন্যার কবলে পড়ছেন।

২০২৪ সালে প্রথমবার পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও বেশি বেড়েছে। ইওরোপের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে ২০২৪ সালে এরকম অবস্থা টানা ১২ মাস জুড়ে ছিল। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা যত বাড়বে, পাল্লা দিয়ে বাড়বে হিমবাহের গলন।

এশিয়ার উঁচু পর্বতগুলিতে বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই হিমবাহগুলি দ্রুতহারে গলে, আয়তনে কমতে শুরু করেছে। ধরা যাক অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহের কথাই। ১৯৭৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এর আয়তন ৪৩১ মিটার কমেছে। নেচার পত্রিকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, পশ্চিম হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা-সহ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার হিমবাহগুলি কেবল ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫.৪% গিগাটন হ্রাস পেয়েছে এবং মোটের ওপর এই অঞ্চলের হিমবাহ ১৩০ গিগাটন হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ড, নেপাল, সিকিম, ভুটান, অরুণাচলপ্রদেশ-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হিমবাহগুলি এই ২৩ বছরে ৭.৩ গিগাটন কমেছে। মোটের ওপর যার পরিমাণ ১৭৫ গিগাটন। আমরা গিগাটনের পরিমাণ কীভাবে বুঝব? একটু সোজা ভাবে বললে, এক গিগাটন জল ৪ লক্ষ অলিম্পিকের সুইমিং পুলকে ভরিয়ে তুলতে পারে। বা পৃথিবীতে মানুষ বাদে যত স্তন্যপায়ী জীব আছে, তাদের মোট ভর এক গিগাটনের সমান।

হিমবাহের গলন ও তুষারধস

হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে, তাদের মধ্যে স্থিরতা হারাচ্ছে, ফলে আকস্মিক ভাবেই হুড়মুড়িয়ে তুষারধস নামছে এশিয়া-সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের বরফে ঢাকা পাহাড়গুলি থেকে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যতই বাড়বে, তুষার গলে তুষারকণার মাঝে বাঁধন কমে যাবে। ফলে আলগা হয়ে যাবে হিমবাহগুলি।

আইআইটি মুম্বই এবং মোনাশ ইউনিভার্সিটির গ্লেসিওলজিস্ট তীর্থঙ্কর ঘোষের মতে,

“অতিরিক্ত তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পাহাড়ের বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের বদলে, ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হিমবাহের বরফ আরই আলগা হয়ে, তাদের গঠন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পানীয় জলে দুর্গন্ধ! কলকাতায় যেভাবে বিষের আধার হয়ে উঠছে জলাভূমিগুলি

Kolkata Wetlands: সুন্দরবনের মতো রামসার সাইটে যেখানে কলকারাখানা গড়ে ওঠে, গড়ে ওঠে বিলাসবহুল পর্যটনক্ষেত্র, আর চোখে পড়ে নদীর জল চিরে বেরিয়ে যাওয়া স্পিড বোটের অশ্লীল যাতায়াত, সেখানে কলকাতার জলাভূমি…

শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার দরুন, বরফ সাধারণত শুষ্ক থাকত। যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ছে, এখন পাহাড়ের অনেক উচ্চতায় থাকা হিমবাহে শীতকালেও জমে থাকা বরফ সহজে গলে যাচ্ছে। ফলে ভেজা-বরফ থেকে তুষারধসের প্রবণতাও বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে ১৯৮৮ সালে ১০টি তুষারধস হতো, ২০২০ সালে এসে তা ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) বদ্রীনাথও এরকম ভয়ঙ্কর এক তুষারধসের সাক্ষী থেকেছে। ২০২১ সালেও অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহ তুষারধসের কবলে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভেজা ও বেশি ঘনত্বের তুষার সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে তুষারধসের ধরনকে বোঝাও অনেকক্ষেত্রে মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, ভেজা বরফ থেকে ঘটা তুষারধস ধীর গতিতে এগোলেও, এদের ভর অনেক বেশি হওয়ায়, ক্ষতি অনেক বেশি হয়।

শুধুই কি হিমবাহের গলন?

তুষারধসের নেপথ্যে কিন্তু ভূমিকম্প ও অত্যধিক তুষারপাতও অন্যতম দু’টি কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তুষারপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, সঙ্গে দোসর হয়েছে চরম জলবায়ুজনিত ঘটনা। তীর্থঙ্কর ঘোষের মতে, “তুষারধসের পেছনে জলবায়ু ছাড়াও, বরফের গভীরতা আর পাহাড়ের ঢাল-সহ একাধিক কারণ কাজ করে।"

তিনি আরও জানাচ্ছেন,

“হিমালয় যেহেতু ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা, তাই এখানকার হিমবাহ সবসময়েই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। এমনকী ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ের খাড়াই ঢাল থেকে হিমবাহ খসেও তুষারধস ঘটতে পারে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে কোনও মুহূর্তে ভাঙবে অ্যান্টার্কটিকার দৈত্যাকার হিমবাহ! 'মহাপ্রলয়ের' আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের?

Antarctica Thwaites Glacier Melting : যদি এটা হয়, তাহলে পৃথিবীর অনেক বড় শহর, দেশ জলের তলায় চলে যাবে। সত্যিই কি মহাপ্রলয় আসন্ন?

২০২৩ সালেরই এপ্রিল মাসে আরেকটি ছোটখাটো তুষারধসের সাক্ষী থেকেছে সিকিম। প্রাণ গেছে অন্তত ৭ জনের, আহত হয়েছিলেন ১৩ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তুষারধসের নেপথ্যে ছিল পশ্চিমাঝঞ্ঝার কারণে ঘটা ভারী তুষারপাত এবং পাশাপাশি, পৃথিবীর ক্রমশ বেড়ে চলা গড় উষ্ণতাকেও দায়ী করেছেন তাঁরা।

বদ্রীনাথের সাম্প্রতিক তুষারধস

২৮ ফেব্রুয়ারি বদ্রীনাথে তুষারধস শুরুর কিছুদিন আগে থেকেই সেই অঞ্চলে অতিরিক্ত তুষারপাত শুরু হয়। এদিকে, ঠিক ওইদিনই নেপালের চৌতারাতে একটি ৫.৫ কম্পাঙ্কের (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির মতে) ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল ও উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্য। অবশ্য রয়টার্স, দ্য হিন্দু, দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট প্রভৃতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, ওইদিন নেপালের ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ছিল ৬.১ কম্পাঙ্ক।

একাধিক ক্ষেত্রে তুষারধসের নেপথ্যে ভূমিকম্প কাজ করলেও, তীর্থঙ্করের মতে, “বদ্রীনাথের ভূমিকম্পের নেপথ্যে টানা কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত তুষারপাতই মূলত দায়ী।" তবে তিনি পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, বদ্রীনাথের তুষারধসের সামগ্রিক কারণ যাচাই করতে এখনও পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার দরকার।

হিমবাহের গলন ও গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড

দ্রুত হারে হিমবাহ গলে তৈরি হচ্ছে গ্লেসিয়াল লেক বা হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ। বরফ যত দ্রুত গলছে, বরফগলা জল থেকে, হিমালয়ের কোল জুড়ে ততই জন্ম নিচ্ছে হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ। গ্লেসিয়াল লেককে ঘিরে থাকা অংশ, আদতেই বেশ ভঙ্গুর। ফলে ভূমিকম্প, তুষারধস, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা বরফপাতের ফলেও, যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে, এরকম হ্রদ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গ্লোবাল ওয়ার্মিং আসলে একটি বিশুদ্ধ মিথ্যা? চমকে দেবে বিজ্ঞানীদের এই ব্যাখ্যা

Global Warming: গ্লোবাল ওয়ার্মিং যদি সত্য ঘটনা হয়, তবে ২০১৯ সালে আমেরিকায় মাইনাস ৬০ ডিগ্রি কি ভূতুড়ে গল্প ছিল? কিংবা সারা পৃথিবীতে এত বৃষ্টিপাত? এমনকী এদেশের কাশ্মীরেও বন্যা কেন?

সেই গ্যালনের পর গ্যালন হ্রদ-ভাঙা জল পাহাড় বেয়ে, ধেয়ে আসে নীচের দিকে। ফলে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্টের মতো ঘটনা ঘটে। যার অর্থ, হিমবাহ থেকে তৈরি হ্রদের ভাঙন। অন্নপূর্ণা ২ হিমবাহের নীচেই এরকম একটি হ্রদ তৈরি হচ্ছে ২০২০ সাল থেকে। যে কোনও সময়ে সেই হ্রদ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্লেসিওলজিস্টরা।

২০২৪ সালে নেচার প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে ১০ মিলিয়ন মানুষের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবং সেই গবেষণাই বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে এই গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের মতো ঘটনা তিনগুণ বাড়বে।

এর কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যাও দেখা যেতে পারে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড নামেও পরিচিত। ২০১৩ সালে ঠিক এরকমই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কেদারনাথের মন্দাকিনী উপত্যকা। ২০১৩ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে অত্যন্ত ভারী বর্ষণের (২৪ ঘণ্টায় ৩২৫ মিমি বৃষ্টিপাত) ফলে চোরাবারি গ্লেসিয়াল লেক ভেঙে পড়ে। হ্রদভাঙা বিপুল পরিমাণ সেই জলে হড়পাবানে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখহীন হয় কেদারনাথ, রাম্বারা, গৌরিকুণ্ড-সহ একাধিক এলাকা। মন্দাকিনী ও সরস্বতী নদীও গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের প্রভাবে উপচে পড়ে।

সিকিম ও গ্লেসিয়াল লেক

কেদারনাথের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিকিমও ঠিক এই ঘটনারই সাক্ষী থেকেছে। সিকিমের দক্ষিণ লোনাক নামের একটি গ্লেসিয়াল লেক ফেটে বন্যার সৃষ্টি হয়। যার তোড়ে উত্তর সিকিমের ষাট মিটার উঁচু কংক্রিটের চুংথাং জলাধার ভেঙে, সিকিম-সহ পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার কিছু অংশ হড়পাবানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২০২৪ সালে রিমোট সেন্সিং অ্যাপ্লিকেশন সোসাইটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সিকিম-সহ পূর্ব হিমালয় রেঞ্জে এরকমই অনেক গ্লেসিয়াল লেক তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে একটি হ্রদ অত্যন্ত বিপজ্জনক, ৮টি বিপজ্জনক, ২২টি মাঝারি বিপজ্জনক, ৫৬টি সামান্য বিপজ্জনক এবং ১৮টি অতি সামান্য বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ লোনাক সহ কানচুং লেক এবং জা লা লেক বিশেষভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড মডেলিং থেকে গবেষকদের আশঙ্কা সিকিম-হিমালয় অঞ্চলে গ্লেসিয়াল-লেক ফেটে বন্যা হলে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। বিপর্যস্ত হতে পারে ১৯০০-র বেশি জনবসতি। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে সিকিমের দু’টি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।

সতর্কীকরণ

বিশেষজ্ঞদের মতে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সিস্টেম আর অ্যানালিটিক্যাল হায়ারার্কিয়াল প্রসেস তুষারধস-প্রবণ অঞ্চলকে চিনতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে আগাম সতর্ক করা যেতে পারে এই অঞ্চল এবং তার নিকটবর্তী এলাকার মানুষদেরকেও। এর আগে একাধিক গবেষক জানিয়েছেন, রিয়েল-টাইমে আবহাওয়ার গতিবিধি বুঝতে তুষারধস এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট প্রবণ এলাকায় আরও বেশি করে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন স্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি তাপমাত্রা, বাতাসে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের সাপ্তাহিক ও দৈনিক ধরন, ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দেখে আগেভাগেই মানুষকে সতর্ক করার জন্য আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম গড়ে তোলা উচিত। গড়ে তোলা উচিত তুষারধসের পূর্বাভাস পাওয়ার মডেল। যে মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজন বাতাসের গতিবেগ এবং তুষারের গভীরতা সংক্রান্ত তথ্য।

হিমালয় যেহেতু ভূমিকম্প ও ধসপ্রবণ অঞ্চল এবং পশ্চিমিঝঞ্ঝা ও এল নিনোর প্রভাবে এই অঞ্চল প্রায়শই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের শিকার হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে হিমালয়ের কোনও অংশেই যেন ভারী নির্মাণের কাজ না হয়। অথচ হিমালয়ের পশ্চিম থেকে পূর্বে, কাশ্মীর থেকে অরুণাচল প্রদেশজুড়ে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে নানা দেশি ও বিদেশি সংস্থার অধীনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠছে। তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, সতলুজ জলবিদ্যুৎ নিগম,নর্থ-ইস্ট ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কোম্পানি, এনটিপিসি-হাইড্রো, টাটা পাওয়ার, জল পাওয়ার কর্পোরেশন, প্যান হিমালয় এনার্জি লিমিটেড, তিস্তা উর্জা লিমিটেড, প্রভৃতি। ভবিষ্যতে হিমবাহের অবস্থা কোন দিকে এগোবে― যার উপর নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যত― তা কিন্তু এখনও রয়েছে আমাদের হাতে। তীর্থঙ্করের মতে,

“বিশ্ব উষ্ণায়ন বন্ধ করতে কোন আর্থ-সামাজিক পথকে বেছে নিচ্ছি, তাই কিন্তু নির্ধারণ করবে প্রকৃতি ও হিমবাহের ভবিষ্যত।"

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।