বরফের দেশেও দিব্যি ফলছে! কীভাবে চাষ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই আম?

World's Most Expensive Mangoes : হাজার হাজার টাকা দাম একটি আমের! কোথায় ফলানো হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই আম?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
বরফের দেশেও দিব্যি ফলছে! কীভাবে চাষ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই আম?

কাঁচা আমে পাক ধরতে শুরু করেছে সম্প্রতি। দু একটা ঝড়ে বেশ কিছু পড়েও গিয়েছে। আর যেগুলো পড়েনি সেগুলিই রং পাকিয়ে ইতিমধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করেছে। হিমসাগর, ফজলি, ল্যাংড়া, পেয়ারাফুলি, বোম্বাই, আলফানসো ইত্যাদি আরও কত কত ধরন। কোনটার দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা কোনওটা আবার ২০০! কিন্তু তাই বলে একটি আমের দাম প্রায় ২৫০০০ টাকা! এমনটা শুনেছেন আগে কখনও? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি এই বিশ্বেই এমন একটি আমার চাষ করা হয় যার কেজি প্রতি দাম এমনটাই আকাশছোঁয়া। জানেন কী সেই আম? চাষই বা করা হয় কোথায়?

প্যাচপ্যাচে ঘাম, হাঁসফাঁস পরিস্থিতি, হাজারটা রোগ, মাত্রারিক্ত বিদ্যুতের বিল গরমকালের এই সবকটা খারাপ অনুষঙ্গের পাশে একমাত্র যেটা মনপসন্দ সেটা হল আম। সবকিছু খারাপকে উপেক্ষা করা যায় কেবল এই একটা স্বাদের জন্যই। আম নিয়ে অবশ্য জনতার চিরকালের আদিখ্যেতা। কিছুদিন আগেই মালদহের বাজারে ঝড় তুলেছিল শীতের আম! কমলালেবুর পাশেই জাঁকিয়ে বসেছিল খোদ গরমকালের এই ফল। একটা আম বিকিয়েছিল কড়কড়ে একশো টাকা দামে। কেজি কেজি কেনার সুযোগ না থাকলেও অন্তত এক পিস আম কিনে মন ভরিয়েছিলেন আম প্রিয় বাঙালি। কিন্তু আজ যে আমের কথা বল হবে, তার দাম মোটেই একশো দুশো টাকা নয়, হাজার হাজার টাকা দাম এক কেজি আমের। আক্ষরিক অর্থেই সোনার সমান দামে বিকোয় কেজি প্রতি আম।

যদিও দেশী আমের বাজারে ইনি বিদেশিনী। ২০১১ সাল থেকে জাপানের সবচেয়ে উত্তরের দ্বীপ, তুষারময় টোকাচি অঞ্চলে এই বিশেষ ধরনের ব্যয়বহুল আমের চাষ করে আসছেন নাকাগাওয়া নামের এক ব্যক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম হিসেবে এতদিন মিয়াজাকির নাম বলা হতো। ফলে এই আমটির দাম সামনে আসায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রদ বদল হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টক ডাল থেকে মাছের টক, চাঁদিফাটা গরমে আজও বাঙালির ভরসা এই চিরন্তন রান্নাগুলি

Bengal Traditional Summer Food : এই গরমে স্বস্তি দিতে পারে বাঙালির কিছু ঘরোয়া রান্না, জেনে নিন কীভাবে আম দিয়ে হবে কেল্লাফতে...

হাকুগিন নো তাইয়ো, এটিই নাম এই বিশেষ আমের।যদিও এই আমচাষি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মানুষটি প্রথম থেকেই চাষ করতেন এমনটা নয়। একসময় পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে কাজ করতেন জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের বাসিন্দা হিরোইউকি নাকাগাওয়া। জীবনের প্রায় উপান্তে পৌঁছে তিনি স্থির করেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কাজ ছেড়ে অভিনব চাষ শুরু করবেন। প্রথমে অবশ্য বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাঁকে। এমন শীতের পরিবেশে আম উৎপাদন কীভাবে সম্ভব এই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তো ছিলই। ৬২ বছর বয়সী নাকাগাওয়াকে তাই প্রথমে কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি।

প্রথমে মিয়াজাকি আমের আরেকজন আম চাষীর নির্দেশনায় কাজ শুরু করেন তিনি। তিনিই প্রথম তাঁকে সাহস দেন যে, শীতের সময়েও আমের ফলন সম্ভব। ফলে সেই একই প্রক্রিয়ায় নাকাগাওয়া তাঁর নিজের খামারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, পাশাপাশি তাঁর স্টার্টআপ নোরাওয়ার্কস জাপান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টকজলের বদলে পাকা আমের কাথ! অভিনব আম-ফুচকার বহরে চোখ কপালে উঠবে আপনারও

Mango Pani Puri Shot : টক জলের বদলে আমের পাল্প দিয়ে ফুচকা, ভাইরাল পদটি অবাক করবে আপনাকেও

শীতকালেও কীভাবে আমের ফলন সম্ভব হল? কোন পদ্ধতির সাহায্যে পাক ধরালেন আমে?

নাকাগাওয়া এই সাফল্যের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদকেই মূলত ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। একদিকে হোক্কাইডোর বিখ্যাত তুষার এবং অন্য দিকে উষ্ণ প্রস্রবণ, তিনি এই দুইকেই সঠিক ভাবে ব্যবহার করেছে বিশেষ আম চাষের ক্ষেত্রে। একদিকে শীতকালীন সময় থেকে তুষার সঞ্চয় তা দিয়ে গ্রীষ্মকালে গ্রিনহাউসগুলিকে ঠান্ডা করেতেন, অন্যদিকে শীতকালে তিনি গ্রিনহাউস গরম করার জন্য ব্যবহার করতেন প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ।গ্রিনহাউজের ভেতরটা শীতল থাকায় আমের মুকুল আসে দেরিতে। অপরদিকে শীতকালে তিনি বসন্তের প্রাকৃতিক উষ্ণতায় গ্রিনহাউজকে উষ্ণ রাখেন। আর এভাবেই তিনি নির্দিষ্ট কোনও মরশুম ছাড়াই প্রায় ৫ হাজার আম সংগ্রহ করতে পারেন।

এমন অদ্ভুত পদ্ধতির কারণেই এই বিশেষ আমটি পাকে শীতকালে। ওই সময় পাকার মূল সুবিধাটি হল, বাতাসে সেইসময় বিশেষ পোকামাকড়ের উৎপাত থাকে না। ফলে কোনো কীটনাশক ছাড়াই দিব্যি ফলন হয়। তাছাড়া শীতকালে ফল তোলায় তাকে শ্রমিকের সংকটেও পড়তে হয় না। অথচ ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় জাপানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে কৃষিসহ প্রায় সব বিষয় বাধাগ্রস্ত হয়। যদিও চাষ করার শুরুর সময় তিনি নিজেও জানতেন না যে একদিন এই আমি বিশ্বব্যাপী নাম করে উঠতে পারবে। প্রথম কয়েক বছরের ফলন সফল হওয়ার পর তিনি এই আমের ব্র্যান্ডকে ‘হাকুগিন নো তাইয়ো’ হিসাবে ট্রেডমার্ক করেন, যার বাংলায় অনুবাদ করলে হয় ‘তুষারের মধ্যে সূর্য’। বরফের দেশে এই সোনালী ফলকে এভাবেই ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন তিনি।

সাধারণ আমের তুলনায় এতে প্রায় ১৫ ডিগ্রী ব্রিক্সের উচ্চ চিনির স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে এটি মুখে দিলেই মাখনের মতো মসৃণ একটি খাবারের সমান স্বাদ উপভোগ করা যায়। নাকাগাওয়ার এই বিশেষ আমের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন এশিয়ার সেরা মহিলা শেফ নাসতুকো সুজি সহ আরো অনেক নামজাদা রেস্তোরাঁর শেফেরাই। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কেক তৈরির সময় এই বিশেষ আম ব্যবহার করেন। শুধু জাপান নয়, বাইরে বদেশেও প্রচুর গ্রাহক রয়েছে এই আমার। পাশাপাশি হংকং-এর সিটি’সুপারের মতো উচ্চমানের খুচরো বিক্রেতাদের কাছেও এই আম পাঠানো হয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।