চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে সয়াসস! সুস্বাদু সস যেভাবে প্রাণ নিতে পারে আপনারও...

Soy Sauce Hazards: যেখানে এই সয়া সসের উদ্ভাবন সেই পূর্ব এশিয়ায় বহু মানুষই সয়া সস খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

inscript
৩ মিনিট
চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে সয়াসস! সুস্বাদু সস যেভাবে প্রাণ নিতে পারে আপনারও...

চকোলেট খেয়ে মৃত্যুর কথা অনেকেরই জানা, কিন্তু অত্যধিক সয়া সস থেকেও আপনার মৃত্যু ঘটতে পারে- এই বিষয়টি বোধহয় আগে জানা ছিল না। শুনতে খুবই উদ্ভট মনে হলেও বিষয়টি জলবৎ তরলং! সয়াবিন বাড়ির রান্নাঘরে নিরাপদ এক সামগ্রী। বহুমুখী তার গুণমাহাত্ম্য। সয়াবিন পুষ্টির আকর তো বটেই, পাশাপাশি এই সয়াবিন থেকেই মেলে সয়া দুধ। নিরামিষভোজীদের নির্ভরযোগ্য খাবার সয়াবিন। চটজলদি সুস্বাদু তরকারি মানেই সয়াবিন ভরসা। ওদিকে সয়াবিন থেকে তৈরি সয়া সস বাজারে না থাকলে, সাধের চাউমিন-পাস্তায় এমন স্বাদই বা জোগাত কে? সুস্বাদু নোনতা এই সস প্রথম তৈরি হয় দুই হাজারেরও বেশি বছর আগে এবং তখন থেকেই প্রায় সমগ্র বিশ্ব জয় করেছে সয়া সস। এটি এক এমন উপাদান যা সরাসরি খাবারে যোগ করা যেতে পারে; ভাতে হোক বা নুডলসে, সুশি হোক বা পাস্তা; কিছু জায়গায় আইসক্রিমের উপরেও যোগ করা হয় সয়া সস।

কিন্তু ধরুন, এসব না করে আপনার ইচ্ছা হলো, ঢকঢক করে সটান বোতল থেকে সয়া সস খাবেন। খেতেই পারেন, সরাসরি কোমায় চলে যাওয়ার এর চেয়ে সহজ উপায় আর হতে পারে না। অর্থাৎ আপনার রান্নাঘরেই মজুত আছে বিপজ্জনক এই প্রাণঘাতী উপাদান যা খেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন মানুষ। স্যাচুরেটেড লবণের দ্রবণ অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে মৃত্যুর বিবিধ ঘটনা অনেকেরই জানা। এমনকী যেখানে এই সয়া সসের উদ্ভাবন, সেই পূর্ব এশিয়ায় বহু মানুষই সয়া সস খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সায়ানাইডের চেয়ে ১২০০ গুণ বিষাক্ত! এই মাছ খাওয়া মাত্রই কোমাতে স্বামী, স্ত্রীর মৃত্যু!

Dangerous Puffer Fish: পাফার ফিশ এক জনপ্রিয় জাপানি খাবার। এতে শক্তিশালী এবং মারাত্মক বিষ টেট্রোডোটক্সিন এবং স্যাক্সিটক্সিন থাকতে পারে।

সয়া সস যে কারণে এত সুস্বাদু, ঠিক একই কারণে সেটি এত বিষাক্ত! এতে লবণের পরিমাণ যা, তা মাত্রাছাড়া। মাত্র এক টেবিল চামচ সয়া সসে আপনার দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি সোডিয়াম থাকে। ফলে অতিরিক্ত সোডিয়াম মানেই, বুঝতেই পারছেন। বছর দশেক আগে, ২০১৩ সালে ১৯ বছরের এক যুবক প্রায় এক লিটার সয়া সস ঢকঢক করে খেয়ে ফেলেন! কালবিলম্ব না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শার্লটসভিলের ভার্জিনিয়া মেডিকেল সেন্টারের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া মেডিক্যাল সেন্টারে এই সয়া সস দুর্ঘটনার চিকিৎসক ডেভিড জে কার্লবার্গ সেই সময়ে জানান, অসুস্থ ওই যুবককে যে যে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল সেগুলির কোনওটিতেই তিনি সাড়া দেননি। মূল স্নায়ুতন্ত্র একেবারেই কাজ করছিল না ওই যুবকের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাত পাতলেই মেলে ‘চাউমিন’ প্রসাদ, যেভাবে কলকাতার কালী মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন চিনারা

Kolkata chinese kali temple : ট্যাংরার চিনাপট্টির মোড়ে একচিলতে কালীমন্দির

রক্তে অত্যধিক লবণের কারণে হাইপারনেট্রেমিয়া নামক একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় রক্তের মধ্যে লবণের মাত্রা সমান করার প্রয়াসে শরীরের টিস্যু থেকে জল বেরিয়ে যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ফুসফুসের মতো জায়গায় মারাত্মক তরল জমার অন্যতম কারণ তো বটেই, পাশাপাশি জল মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গটি সঙ্কুচিত হয়ে গিয়ে রক্তপাতও হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি এবং অচেতনতার মতো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দেয়।

১৯ বছরের ওই রোগীর খুব দ্রুতই চিকিত্সা করা হয়েছিল। সয়া সস খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে, তাঁর দেহে সোডিয়ামের মাত্রা কমানোর জন্য IV-এর মাধ্যমে ৬ লিটার (১.৫ গ্যালন) চিনিযুক্ত তরল খাওয়ানো হয়েছিল। এটি দ্রুত কাজ করে। এক ঘণ্টায় ৪ লিটারের (১ গ্যালন) বেশি প্রস্রাব করার পরে, রোগীর সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। যদিও তাঁর চেতন এবং মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও অনেকদিনই সময় লেগেছিল।

ওই মেডিকেল সেন্টারে যখন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল, দেখা যায় তাঁর রক্তের সোডিয়ামের স্তর ছিল মারাত্মক, কোনও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যত হতে পারে, তার চেয়েও ঢের বেশি। এই অবস্থায় হয় আক্রান্তের মৃত্যু ঘটে বা স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি হয়। কলেজে চ্যালেঞ্জ করে এই মারাত্মক খেলা তাঁর জীবন নেয়নি, এটাই আশ্চর্যের! সুতরাং, সাবধান। নুডলসে বা রাইসে একটু বেশি সয়া সস দিতে মন চাইলে এই ঘটনাটির কথা মনে পড়লে ভালো। খাবারের স্বাদ বাড়াতে গিয়ে আজীবনের মতো জীবনের স্বাদ যেন হারিয়ে না যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।