কলকাতার কাছেই স্বর্গের হাতছানি, সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ করবে ‘মিনি তিব্বত’, জানেন কোথায়?
Off beat Tourist spot : এই ছত্তিশগড়ের অন্তর্গত একটি জায়গা হল মাইনপাট। সাজানো গোছানো একটি শৈলশহর হল এটি। জায়গাটি অবশ্য বেশি পরিচিত ‘মিনি তিব্বত’ নামেই। কী কী রয়েছে এখানে?

পাহাড় প্রেমে বাঙালির অন্যরকম উন্মাদনা। আর তার সঙ্গে যদি যোগ হয় জঙ্গলের রহস্য, তবে তো ষোলোকলা পূর্ণ। যদিও ব্যস্ত জীবনে ছুটি নামক বস্তুটাই বিষম। লম্বা ছুটি পাওয়ার সুযোগ প্রায় অস্তাচলে, ফলে সপ্তাহান্তের ছুটিটুকুই কেবল ভরসা। তাই ভ্রমণ নিয়ে আমাদের এতদিনের ধারণা ক্রমশ বদলেছে। এখন আর পরিচিত ঘিঞ্জি এলাকায় ভ্রমণ করতে চান না কেউই। বদলে ঝোঁক বেড়েছে অফবিট ভ্রমণের প্রতি। বাঙালির দিপুদা নিয়ে যতোই আগ্রহ থাকুক না কেন, সপ্তাহান্তের ছুটিতে নতুন জায়গার খোঁজে বেরিয়ে পড়াই এখন নয়া ট্রেন্ড।
ব্যস্ত জীবনের এই ছুটিটুকুই হল পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। তাই বছরের শুরুতে ছুটির তালিকা হাতে পেয়েই অনেকে হিসেবে করে সাজিয়ে নেন ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান। দূরে কোথাও ভ্রমণ করার বদলে এখন কাছাকাছি ভ্রমণকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন সকলে। আর সেই তালিকাতেই রোজই নতুন করে সংযোজিত হচ্ছে এমন কিছু জায়গা যা এতদিন ছিল প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। এরকমই একটি অফবিট জায়গার খোঁজ রয়েছে কলকাতার খুব কাছেই। তিব্বত ভ্রমণের সাধ পূরণ হবে এবার মিনি তিব্বতে, জানেন কোথায় রয়েছে এমন জায়গা?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mini Goa : মাত্র দুই দিনের ছুটিতে মন ভালো করার এমন উপায় অবশ্য হাত ছাড়া করার নয়। কিন্তু জানেন কি কোথায় রয়েছে এই মিনি গোয়া?
ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ছত্রিশগড়ের নাম বিশেষ করে প্রাধান্য পায়নি কোনও দিনই, অথচ এই রাজ্যের অন্দরে রয়েছে এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যা নিমেষে অবাক করবে আপনাদেরও। এই ছত্তিশগড়ের অন্তর্গত একটি জায়গা হল মাইনপাট। সাজানো গোছানো একটি শৈলশহর হল এটি। জায়গাটি অবশ্য বেশি পরিচিত ‘মিনি তিব্বত’ নামেই। দু-একদিনের ছুটি কাটানোর জন্য এক্কেবারে যথার্থ হতে পারে এই জায়গাটি। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এমন নাম এই জায়গার, কীভাবেই বা পৌঁছবেন?
ছত্তিশগড়ের রাজধানী বিলাশপুর থেকে মাত্র ২৫০ কিলোমিটারের পথ। চারিদিকে সবুজের সমারোহ, তারই মাঝে পাহাড়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি। সামনে থেকে দেখলে মনে হবে সাক্ষাৎ কোনও ছবির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। এই যে গরম কাল আসন্ন কলকাতায়, তার এক্কেবারে বিপরীতে অবস্থান করছে এই স্থানটি। গ্রীষ্মের প্যাচপ্যাচে আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা এই সুন্দর জায়গাটি হতে পারে দারুণ বিকল্প।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
IRCTC new rule : এবার থেকে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে রিজার্ভেশন টিকিট কাটতে চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে যাত্রীদের। রেলের তরফে দেওয়া হয়েছে একটি নতুন ডিভাইস।
সারা বছরই বেশ মনোরম আবহাওয়া থাকে ছত্তিশগড়ের এই শৈলশহরে। গ্রীষ্মের সময় গেলে একটা হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা আমেজ অনুভূত হয়, তবে শীতে এখানেই তুষার পাত হয়। অর্থাৎ ঘরের কাছেই বরফ দেখতে চাইলে এই জায়গাটি বেছে নিতে পারেন শীতের ভ্রমণ তালিকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫০০ ফুট ওপরে বিন্ধ্য পর্বতের কোলে অবস্থিত এই জায়গাটি। একেই ‘মিনি তিব্বত’ বলা হয়।
সময়টা ১৯৬২ সাল, বহু তিব্বতি উদ্বাস্তু এই সময় উঠে আসেন ছত্রিশগড়ের মাইনপাটে। এখানেই স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন তাঁরা। এখানে আজও রয়েছে বিখ্যাত বৌদ্ধমঠ। মাইনপাটের অন্যতম আকর্ষণই হল ভগবান বুদ্ধের এই মঠ। সেখান থেকে এই স্থানটির নাম হয়ে গিয়েছে ‘মিনি তিব্বত’। পাশেই রয়েছে সুন্দরী ঝর্না, অপরূপ শোভা মন কেড়ে নেবে। এছাড়াও এখানে ঘোরার তালিকায় রয়েছে অপূর্ব ‘টাইগার পয়েন্ট’। শোনা যায়, এখানে নাকি একসময় বাঘেরা জল খেতে আসত। ব্যস্ত শহুরে কোলাহল থেকে সাময়িক বিরতি পেতে আদর্শ এই মাইনপাট।
কীভাবে যাবেন?
অম্বিকাপুর থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে মাইনপাট। আপনি যদি গাড়ি ভাড়া করে যান তাহলে ময়নাপাট অম্বিকাপুর-সীতাপুর হয়ে মাইনপাট যেতে পারেন। আর অন্যপথে যেতে চাইলে দারিমা গ্রাম হয়েও যেতে পারেন। কলকাতা থেকে খুবই কম দূরত্ব এই জায়গাটির।
















