বাম ঘরানা থেকে বিজেপি, এখন কোন পথে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

Abhijit Gangopadhyay: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেই রাম-বামের একটি আদর্শ উদাহরণ। যিনি নিজেকে বামপন্থী বলে পরিচয় দিলেও যখন-তখন রামের জ্যাকেটটা গায়ে পরে নিতে পারেন।

inscript
৩ মিনিট
বাম ঘরানা থেকে বিজেপি, এখন কোন পথে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

তৃণমূলের বিরোধিতা ছিল তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। সেই বিরোধিতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়েই তিনি যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কিন্তু এক বছরের মাথায় যেন দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখন শুধু বিরোধিতার মুখ নন, তিনি হয়ে উঠেছেন দলের ভেতরের এক অস্বস্তির কারণ। একের পর এক মন্তব্যে স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় বিজেপির নীতি এবং বাংলায় দলের রাজনীতি নিয়ে তিনি গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

অভিজিতের অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে; কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত হাত গুটিয়ে বসে আছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক তীব্র হতাশা— “বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইলে কেন্দ্রের সদিচ্ছাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু সেটা দেখা যায়নি।” শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি কটাক্ষ করেছেন দিল্লির নেতৃত্বকে— “হিন্দি বলয়ের নেতাদের এনে বাংলায় ভোট করানো যাবে না। দিল্লির নেতারা বাংলার রাজনীতি ও সংস্কৃতি বোঝেন না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'গো ব্যাক' স্লোগানের মুখে চাকরিপ্রার্থীদের সেই 'মসিহা'! কেন অভিজিতের এই পরিণতি?

Doctor's Protest on RG Kar: এরই মধ্যে চিকিৎসকদের মিছিলে পৌঁছেছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়। তবে কার্যত মিছিলে গিয়ে গো-ব্যাক স্লোগান শুনেই ফিরতে হল অভিজিৎকে।

এই বক্তব্যই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাঁর উত্তরও জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন ছিল, বিজেপি কি সত্যিই তৃণমূলকে সরাতে চায়, না কি চায় না? জবাবে অভিজিৎ বলেন, “বিজেপি সরাতে চায় কি চায় না— এটা অনেক গভীর প্রশ্ন। আজ সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না।” তারপরই তিনি যোগ করেন, “কিছু দিন বাদে হয়ত যাব।” এর পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল— তাহলে কি দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন সেনগুপ্ত ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলেন,অভিজিৎ গাঙ্গুলি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে, এখানকার গোদী মিডিয়া তাঁকে ভগবান বানিয়েছিল। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনিই যেন মূর্ত প্রতিবাদ, এমনটা অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে বাম মহলেও উৎসাহের অন্ত ছিল না। তিনি যখন বিজেপিতে যোগ দিলেন, তখন বাম মহল ও মূষড়ে পরে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি দেখলেন বঙ্গ বিজেপি বলে কিছু নেই, পুরো বিজেপিকেই চালনা করা হয় দিল্লি থেকে, সঠিকভাবে বলতে গেলে মোদী এবং অমিত শাহ এই দু'জনেই বিজেপিকে পরিচালনা করেন।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কখনও রোহিঙ্গা, কখনও নারীত্ব নিয়ে প্রশ্ন! মমতাকে যে চোখে দেখেন অভিজিৎ

Abhijit Ganguly vs Mamata Banerjee: বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ বলেন, "তৃণমূল বলছে, রেখা পাত্রকে কেনা হয়েছিল ২০০০ টাকায়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তুমি কত টাকায় বিক্রি হও?”

তিনি আরও বলেন, "তাঁর রাজনৈতিক অপরিপক্বতা তাঁকে এই বোধ দেয়নি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে যদি তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বা এই রাজ্যে ৩৫৫ ধারা লাগু হয়। অভিজিৎ বাবু হয়ত আশা করেছিলেন তাঁকে মুখ করে বঙ্গ বিজেপি বাংলায় লড়বে, সেটাও না হওয়াতে তিনি হয়ত আশাহতও হয়েছেন। সেই জন্যেই এখন শূন্যে ছড়ি ঘুরিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখানোর চেষ্টা ছাড়া তাঁর কথার কোনো মূল্য নেই বাঙলার রাজনীতিতে।"

রাজনীতির শুরুটা অবশ্য তাঁর ছিল একেবারে অন্য। একসময় তিনি বামপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় ধীরে ধীরে গা ভাসান ডানপন্থায়। গত কয়েক বছরে বাংলায় চালু হয়েছে রাম-বাম নামক লব্জ। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেই রাম-বামের একটি আদর্শ উদাহরণ। যিনি নিজেকে বামপন্থী বলে পরিচয় দিলেও যখন-তখন রামের জ্যাকেটটা গায়ে পরে নিতে পারেন। একদিকে বাম রাজনীতি থেকে দূরে সরে আসা, অন্যদিকে বিজেপির ‘হিন্দি বলয়’-নির্ভর নীতিতে হতাশা— দুইয়ের মাঝখানেই আজ যেন দোদুল্যমান তিনি।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানো হবে। কিন্তু এই সরানো মানে কী? আসলে তো গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন জয় লাভ করে ক্ষমতায় আসতে হয়। প্রশ্ন উঠছে, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কি সরাসরি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারির ইঙ্গিত দিচ্ছেন? তেমন আশ্বাস আদায় করেই কি তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অভীপ্সায় বিজেপির টিকিট নিয়েছিলেন। বামের পথ থেকে ডানের পথে এসেছিলেন কিঞ্চিৎ লাভের আশায়?

তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো দেখে অনেকেই বলছেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আজ রাজনৈতিক সঙ্কটে দাঁড়িয়ে। বাম থেকে ডান, দুই পথই তিনি হেঁটেছেন, কিন্তু কোনো দিকেই যেন স্থিতি পাননি। বিরোধিতা তাঁর পরিচয়, কিন্তু সেই বিরোধিতার রাজনীতিতেই যেন আজ নিজের অবস্থান হারিয়ে ফেলছেন তিনি। রাজনীতির মঞ্চে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখন ক্ষোভ, সংশয় এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝখানে। প্রশ্ন একটাই, তিনি কি এবার নতুন কোনো পথ বেছে নেবেন, নাকি এই ক্ষোভ থেকেই শেষ পর্যন্ত আরও এক নতুন রাজনৈতিক মোড় নেবেন?

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

জেন-জির হাত ধরে যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির মানচিত্র

Gen Z politics: ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমাজমাধ্যমকে শুধু আড্ডা বা ছবি দেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেনি; বরং শাসকের অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।

নাগা সন্ন্যাসীরা কি শুধুই ধর্মীয় তপস্বী ছিলেন? ইতিহাস কী বলছে?

History of naga sadhus: প্রয়াগরাজের শাহী স্নানে ছাইমাখা নাগা সন্ন্যাসীরা আজও লক্ষ ভক্তের ভিড়ে প্রথম ডুব দেন। কিন্তু এই জটাজুটের আড়ালে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, টাকা, ভূমি-রাজনীতি, দাসত্ব আর সাম্প্রদায়িক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস। অনুপগিরি গোসাঁই থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কুম্ভমেলা দখল—উইলিয়াম পিঞ্চ ও ধীরেন্দ্র ঝার গবেষণায় উঠে এসেছে, ইতিহাসের সেই অজানা অধ্যায়।