আবার কাজের চাপে যুবতীর মৃত্যু! কীভাবে এত বিষিয়ে গেল ভারতে চাকরির পরিবেশ?

Work Stress India: যারা প্রতি সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করে তাদের অতিরিক্ত কাজের কারণে মারা যাওয়ার প্রবণতা বেশি।

inscript
৩ মিনিট
আবার কাজের চাপে যুবতীর মৃত্যু! কীভাবে এত বিষিয়ে গেল ভারতে চাকরির পরিবেশ?

ভারতে কর্পোরেট কর্মক্ষেত্রে কি ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে? কাজের চাপে প্রতিদিনই কি মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ? কিছুদিন আগেই কাজের চাপে পুনেতে এক যুবতীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং ইন্ডিয়ার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন বছর ২৬-এর আনা সেবাস্তিয়ান পেরাইলের। বিখ্যাত সংস্থায় কাজের প্রবল চাপে যোগ দেওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছিল, এই মৃত্যুর তদন্ত হবে। এই মৃত্যুর কিছুকালের মধ্যেই লখনউয়ের এক মহিলার মৃত্যু! নিজেরই অফিসে নিজের চেয়ার থেকে পড়ে মারা গেলেন তিনি। এবারও নেপথ্যে কাজের চাপ।

ওই যুবতীর নাম সাদাফ ফাতিমা। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন তিনি৷ লখনউয়ের গোমতীনগরে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বিভূতি খণ্ড শাখায় অতিরিক্ত ডেপুটি ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করতেন সাদাফ ফাতিমা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাদাফ অফিসে কাজ করার সময় চেয়ার থেকে পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু হঠাৎ একজন স্বাভাবিক মানুষ কর্তব্যরত অবস্থায় চেয়ার থেকে পড়ে গেলেনই কীভাবে? কীভাবেই বা চেয়ার থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটল তাঁর?

পুলিশ জানাচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে সাদাফের সহকর্মীরা বলছেন, কাজের চাপে রক্তচাপের সমস্যায় দিন তিনেক আগেই শরীর খারাপ হয়ে গেছিল তাঁর। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসা চলে তাঁর। অসুস্থ হওয়াতে তিন দিনের ছুটিতে ছিলেন সাদাফ ফাতিমা। মঙ্গলবারই তিনি আবার কাজ শুরু করেন। আর সেদিনই মারা যান।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলছেন,"দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের প্রতীক" এই মৃত্যু। অখিলেশ লিখেছেন, “সমস্ত কোম্পানি এবং সরকারি দপ্তরকে এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। এটা দেশের মানবসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি। এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যু কাজের পরিবেশের দিকেই প্রশ্ন তোলে। কোনও দেশের অগ্রগতির আসল পরিমাপ পরিষেবা বা পণ্যের পরিসংখ্যান বৃদ্ধি নয় বরং একজন ব্যক্তি কতটা মানসিকভাবে মুক্ত, সুস্থ এবং সুখী।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিখ্যাত সংস্থায় মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে যুবতীর মৃত্যু! কেন তদন্তে নামল কেন্দ্র?

Anna Sebastian Perayil Death Overwork: কাজের চাপে আনা সেবাস্তিয়ান পেরাইলের মৃত্যুর অভিযোগ আসার পর কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছে, যে পরিস্থিতির কারণে মৃত্যু হয়েছে তার তদন্ত হবে

लखनऊ में काम के दबाव और तनाव के कारण एचडीएफ़सी की एक महिलाकर्मी की ऑफिस में ही, कुर्सी से गिरकर, मृत्यु का समाचार बेहद चिंतनीय है।

ऐसे समाचार देश में वर्तमान अर्थव्यवस्था के दबाव के प्रतीक हैं। इस संदर्भ में सभी कंपनियों और सरकारी विभागों तक को गंभीरता से सोचना होगा। ये देश के…

— Akhilesh Yadav (@yadavakhilesh)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হু হু করে বাড়ছে মানসিক রোগ, নতুন মহামারীর সামনে ভারত?

Mental Health: এখনও মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সেই মাত্রায় সচেতন নয়। লোকভয়, লজ্জা এমন নানা শব্দ এসে চেপে ধরে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবতে গেলেও।

অখিলেশ এমন বিষাক্ত কাজের পরিবেশের জন্য অবশ্য বিজেপিরই নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের অর্থনৈতিক নীতিগুলি ব্যর্থ। “বিজেপি সরকারের ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতির কারণে, সংস্থাগুলির ব্যবসা এতটাই কমে গেছে যে তাদের ব্যবসা বাঁচাতে তারা কম লোককে বহুগুণ বেশি কাজ করতে বাধ্য করে। এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর জন্য বিজেপি সরকার ততটাই দায়ী যতটা বিজেপি নেতাদের সেইসব বক্তব্য যা জনসাধারণকে মানসিকভাবে হতাশ করে,” টুইট করেছেন অখিলেশ।

কেরলের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আনা সেবাস্তিয়ান পেরাইল এই বছরেরই মার্চ মাসে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এ যোগ দিয়েছিলেন। প্রবল কাজের চাপ দেওয়া হয়েছিল সেখানে তাঁকে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, সারা রাত জেগে কাজ, অস্বাভাবিক পরিস্থিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনা। আনার মা জানিয়েছিলেন, কোম্পানির কেউ তাঁর মেয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও যোগ দেয়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজের চাপে আনার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পরে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সম্প্রতি পরামর্শ দিয়েছিলেন, কাজের চাপে থাকা যুবক-যুবতীদের 'স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ে পড়াশোনার প্রয়োজন। অখিলেশ বলছেন, কাজের অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে, দেশের যুবক-যুবতীদের মানসিক চাপ সহ্য করার শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন একটি দেশের খোদ অর্থমন্ত্রী, এর চেয়ে হাস্যকর অথচ পীড়াদায়ক আর কীই বা হতে পারে। অখিলেশ বলছেন, "দেশের চাকুরিজীবীদের বিজেপি থেকে কোনও আশা নেই কারণ বিজেপি কেবল পুঁজিপতিদের টাকাতেই বেড়ে উঠেছে, যারা কর্মচারীদের শোষণ করে তাদের মুনাফা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে এবং সেই লাভের গুড় বিজেপিও খায়।"

কিন্তু ভারতে কীভাবে এমন বিষাক্ত কর্মসংস্কৃতি তৈরি হলো? এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত ২০২১ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, যারা প্রতি সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করে তাদের অতিরিক্ত কাজের কারণে মারা যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এতে বলা হয়েছে, ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ এবং স্ট্রোকে প্রতি বছর তিন-চতুর্থাংশ মানুষ কাজের সময় বাড়ানোর কারণে মারা যায়। দীর্ঘস্থায়ী চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর আচরণের ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি বাড়তে পারে কমবয়সিদের মধ্যে। আর ভারতের কাজের পরিবেশ অন্য সব দেশের থেকে বেশ আলাদা। এখানে অতিরিক্ত কাজ করাকে খুব গৌরবের বলে ভাবা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ২০২৪ সালের তথ্য অনুসারে, ভারতে গড় কাজের সময় সপ্তাহে ৪৬ ঘণ্টা। সবচেয়ে দীর্ঘ গড় কাজের ঘণ্টার তালিকায় বিশ্বের প্রথম দিকের দেশগুলির তালিকাতেই আছে ভারত। কেবল ভুটান, লেবানন, লেসোথো, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং পাকিস্তান আছে ভারতেরও উপরে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।