আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে সতর্ক! বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন অমর্ত্য সেন?

Amartya Sen on Bangladesh: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার উপরেই জোর দিচ্ছেন অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনের যুক্তি, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জায়গায় নেই বাংলাদেশ।

inscript
৩ মিনিট
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে সতর্ক! বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন অমর্ত্য সেন?

বাংলাদেশের ভার এখন একজন অর্থনীতিবিদের হাতেই। হাসিনা পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্মের প্রায় সাত মাস হতে চলল। তবু অস্থিরতা কাটেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেই স্বীকারও করেছেন, পুলিশ প্রশাসন এখনও সক্রিয় নয়। সারা বাংলাদেশ জুড়েই তাই হিংসার নানা নজির ঘটমান। এমন নড়বড়ে রাষ্ট্রে ইসলামিক মৌলবাদের উত্থান নিয়েও আশঙ্কিত অনেকেই। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আরেক বিশ্ববিখ্যাত, নোবেলজয়ী। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের বন্ধু মুহাম্মদ ইউনূস। অমর্ত্য কী চোখে দেখছেন ইউনূসের বাংলাদেশকে? অমর্ত্য সেন বলছেন, তাঁর বন্ধু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ করছেন ঠিকই কিন্তু অচলাবস্থা কাটাতে তাঁকে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।

সদ্য শান্তিনিকেতনে পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, "বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমার উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। কারণ, আমি খুব তীব্রভাবে বাঙালি পরিচয় সত্তাকে ধারণ করি। আমি ঢাকায় অনেক সময় কাটিয়েছি এবং সেখানেই আমার স্কুলের শিক্ষা শুরু। ঢাকার পাশাপাশি মানিকগঞ্জে আমার পৈতৃক বাড়িতে প্রায়ই গিয়েছি। মায়ের দিক থেকে আমি নিয়মিত বিক্রমপুরে, বিশেষ করে সোনারাংয়ে গিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এসব জায়গার খুব গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ তার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে অন্য অনেকের মতোই আমি উদ্বিগ্ন।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত-পাকিস্তান উভয়ের অধীনতাই অস্বীকার করে নতুন বাংলাদেশ : মাহফুজ আলম

Mahfuj Alam Interview: বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে? কেন দেখা যাচ্ছে আইসিস-এর পতাকা? প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মাহফুজ আলম।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের উন্নতিকে কীভাবে দেখছেন অমর্ত্য সেন? বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জন্মহার কমে যাওয়া এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন বলেছেন, বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহিলাদের উন্নয়নের বিষয়টিকে সামনে রাখতে চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আআর এখানেই এখানে সরকারি এবং ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকের মতো বেসরকারি সংস্থা—দুইয়েরই ভূমিকা রয়েছে।

এমনকী বাংলাদেশে সংবাদপত্র ‘তুলনামূলক স্বাধীন’ বলে মনে করেন অমর্ত্য সেন। সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েও যে বাংলাদেশে অনেক সংবাদপত্রই নিরাপদে কাজ করে যেতে পেরেছে সেই উল্লেখ করেছেন অমর্ত্য সেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীরও প্রশংসা করেছেন অমর্ত্য। সেনাশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করার বিষয়টিকে শুভ ইঙ্গিত বলেই মনে করেছেনে এই নোবেলজয়ী। তবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার উপরেই জোর দিচ্ছেন অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনের যুক্তি, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জায়গায় নেই বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে হাসিনা বিরোধীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে, লোগকে নিষিদ্ধ করলে সেই একই দোষে দুষ্ট হবে তারাও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাষা আর ধর্মের জাল থেকে কোনওদিন মুক্ত হতে পারবে বাংলাদেশ?

Bangladesh: ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে, মাহফুজ আলম নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে বাইনারি ভাঙার কথা মুখে বলা যত সোজা, কাজে করা ততোধিক কঠিন।

অমর্ত্য সেন বলছেন, "আমি মনে করি, কোনও একটি গোষ্ঠীকে এক পাশে ঠেলে না দিয়ে বাংলাদেশের উচিত, সবাই একসঙ্গে কাজ করার যে ঐতিহ্য এই দেশের রয়েছে, সেটার সর্বোত্তম ব্যবহার করা। একটি উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। আমি আশা করি যে স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের প্রতি বাঙালি সম্প্রদায়ের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটা টিকে থাকবে। আমি আশা করি, বাংলাদেশে আগে নির্বাচন যেমন হতো বলে অনেকে দাবি করেন, তার চেয়ে আগামীর নির্বাচন দৃশ্যত বেশি অবাধ হবে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে আমি আশাহীন নই।"

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কি নতুন বাংলাদেশকে নতুন দিশা দেখাতে পারবেন? অমর্ত্য সেন বলছেন, "ইউনূস একজন পুরনো বন্ধু। আমি জানি, তিনি খুবই সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং অনেক দিক দিয়ে একজন উল্লেখযোগ্য মানুষ। তিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। এবার আপনি যদি হঠাৎ করে একটি দেশের প্রধান হন, যেমনটি ইউনূসের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সেখানে বিভিন্ন ইসলাপন্থী দল রয়েছে, এখন হিন্দুদেরও বিভিন্ন পক্ষ রয়েছে। ইউনূসের সামর্থ্যের ওপর আমার গভীর আস্থা রয়েছে।"

পাশাপাশি এই সরকারের সমালচনাও করেছেন অমর্ত্য। বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং মন্দিরগুলিতে ভাঙচুরের নিন্দা করে অমর্ত্য সেন জানিয়েছেন, এসব হিংসা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব ছিল সরকার ও জনগণের। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা প্রতিরোধ করা জরুরি। “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণে গর্ব প্রকাশ করেছে এবং জামায়াতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আটকে রাখার প্রচেষ্টা করে এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতেও মসজিদে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশ হোক বা ভারত, বন্ধ করতে হবে,” বলছেন অমর্ত্য।

“নির্বাচিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে সামনে এনে সাম্প্রদায়িকতাকে ইন্ধন দেওয়ার চেয়ে সহজ আর কিছু নেই। এভাবেই ১৯৪০-এর দশকের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বেধেছিল, যার ফলে রক্তপাত ঘটে। আমাদের অতীতকে মাথায় রাখতে হবে এবং সেই আলোকেই আমাদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করতে হবে। নির্বাচনী প্রচার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে,” সতর্ক করেছেন অমর্ত্য সেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।