শেষ খড়কুটো ধরতে মরিয়া! ভারতের প্রত্যাঘাত এড়াতে যেভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে পাকিস্তান

India Pakistan Relation: পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সময়, ভারতের আরেকটু দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত, বলছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

inscript
৩ মিনিট
শেষ খড়কুটো ধরতে মরিয়া! ভারতের প্রত্যাঘাত এড়াতে যেভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে পাকিস্তান

ভারতকে বোঝাতে হবে যে এই মুহূর্তে বাকবিতণ্ডা থেকে সরে আসা উচিত তাদের। বদলে পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সময়, ভারতের আরেকটু দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত। বক্তা, পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শ্রোতা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। সাম্প্রতিককালে এই অঞ্চলে এমন নৃশংস হামলা আর ঘটেনি। ঘটনার দায় স্বীকার করেছে পাক সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। পাকিস্তান বলছে, এতে কোনওভাবেই তাদের 'হাত' নেই, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবেই সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, পাকিস্তান তার সেনা বাহিনীকে শক্তিশালী করছে এবং নরেন্দ্র মোদি সেনাবাহিনীকে এই হামলা মোকাবিলায় 'সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার 'সম্পূর্ণ স্বাধীনতা' দিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ততর হচ্ছে। এমতাবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে এমন সংকট নিরসনের জন্য দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান মরিয়া হয়ে পাশে চাইছে আমেরিকাকে। শুধু মধ্যস্থতার জন্য এই আকুতি নয়, নিজেদের টলমলে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ভারতের থেকে যে কোনওরকমের প্রত্যাঘাত আটকাতে এখন পাকিস্তানের শেষ সম্বল আমেরিকাই!

পাক প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফোন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ওই ফোনালাপেই ভারতকে বাকবিতণ্ডা কমাতে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য চাপ দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন। শেহবাজ শরিফ বলেছেন, “ভারতের উত্তেজনাকর এবং উস্কানিমূলক আচরণকে গভীরভাবে হতাশাজনক এবং উদ্বেগজনক। সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করতে পাকিস্তান যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, বিশেষ করে আইএসকেপি (ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ), টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এবং বিএলএ (বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি)-কে ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রয়াসকে প্রত্যাখ্যান করছে ভারতের এই উস্কানি"। সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তান এক বিবৃতিতে বলছে, "সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন ভূমিকা এবং ৯০,০০০-এরও বেশি জীবন এবং ১৫২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির উপর জোর দিয়েছেন।”

সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে ভারত জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জীবনরেখা।” পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানই দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়। বিবৃতি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিককে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এবং আমেরিকা গত সাত দশক ধরে একসঙ্গে কাজ করেছে এবং দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বর্ধিত অর্থনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের আক্রমণ আসন্ন, তৈরি পাক বাহিনী? যা জানাচ্ছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Pahalgam Tensions: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সোমবার জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ভারতের তরফে সামরিক আগ্রাসন 'আসন্ন’।

View this post on Instagram

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুবিও "এই অযৌক্তিক হামলার তদন্তে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।" পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানিয়েছেন, রুবিও বুধবার ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গেও কথা বলেছেন। পহেলগাঁও হামলায় প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতকে উত্তেজনা হ্রাস এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন রুবিও। পাক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও মার্কিন প্রশাসন আলোচনা করেছে।

পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই, জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ভারত পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলির জন্য ভারতের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত সরকারের জারি করা বিমানবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বিমানের উপর এই নিষেধাজ্ঞা ৩০ এপ্রিল থেকে ২৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। পাকিস্তান সরকারের সূত্র জানাচ্ছে, গোয়েন্দাদের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ভারত আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।