‘মেয়েদের রাত দখল’-এর রাতেই শক্তিগড়ে আদিবাসী তরুণীর গলা কেটে খুন!
Shaktigarh Murder: ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার। ১৪ অগাস্ট। যেদিন রাজ্যজুড়ে ‘মেয়েদের রাত দখল’ করার কর্মসূচি ছিল।

অপরাধ থামে না। পোশাক বদলে, ধরন বদলে সে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে। ভয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ইত্যাদি দাবিগুলি ফিকে হয়ে যায়। কারণ অপরাধপ্রবণতা শাস্তিতে কমে না। ধরা পড়ার ভয়ে অপরাধ কমে যাওয়ার ইতিহাস নেই। থাকলে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের পর ফের আরেক তরুণীর খুন হতো না। এবার বর্ধমানে ঘটেছে মর্মান্তিক এই খুন। এক আদিবাসী তরুণীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত তরুণীর নাম প্রিয়াঙ্কা হাঁসদা, বয়স (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর বাড়ির কাছেই একটি মাঠে তাঁর গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। আর আরও আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার। ১৪ অগাস্ট। যেদিন রাজ্যজুড়ে ‘মেয়েদের রাত দখল’ করার কর্মসূচি ছিল। মেয়েরা যখন নির্ভয়ে রাতে নামতে চাইছে পথে, নামছেও, তখনও কোনও এক অখ্যাত শহর-গ্রাম-শহরতলিতে খুন হয়ে যাচ্ছেন অন্য আরেক তরুণী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Rape Victim: চশমা ভেঙে গুঁড়িয়ে চোখ রক্তারক্তি করে দেওয়া হয়েছে, শ্বাস রোধ করে দেওয়া হয়েছে তারপর চলেছে ধর্ষণ! একজন স্বপ্নদর্শী তরুণী এই চেয়েছিলেন?
পুলিশ জানাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা শক্তিগড়ের নাদুর ঝাপানতলা আদিবাসী এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা সুকান্ত হাঁসদার একটি দর্জির দোকান রয়েছে। দু'বছর আগে প্রিয়াঙ্কা বেঙ্গালুরুতে শপিং মলে কাজ করতে যান। গত ১২ অগাস্ট বেঙ্গালুরু থেকে শক্তিগড়ের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ তিনি মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও তরুণী বাড়ি ফিরে না আসায় তাঁর খোঁজ শুরু হয়।

অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর অন্ধকার মাঠে ওই তরুণীর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। দোষীদের শাস্তির দাবি বৃহস্পতিবার বর্ধমান থানা ঘেরাও করেন আদিবাসীরা। আদিবাসী পুরুষ-মহিলারা জমায়েতে অংশ নেন। মেয়েদের হাতে তির-ধনুক-সহ নানা অস্ত্রসস্ত্রও ছিল। জমায়েত চলাকালীন রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দোষীদের ধরার দাবিতে নিশ্চয়ই আরও কেউ কেউ কথা বলবেন। আশঙ্কা, আরজি কর কাণ্ডের আড়ালে গুরুত্ব হারাবে এই ঘটনা। কিন্তু পথে নামলেও, না নামলেও, বাড়িতেও, রাস্তাতেও মহিলাদের অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হবে কি? প্রশ্ন সহজ ছিল চিরকালই। উত্তরও তো জানাই আমাদের।















