দীর্ঘায়ু হবে প্রিয় পোষ্য! যে চমৎকার ঘটাতে পারে কুকুরদের বয়স কমানোর এই ওষুধ

Anti-Aging Drug for Dogs: কোষের বৃদ্ধি এবং বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত ইনসুলিন-সদৃশ গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ (IGF-1) হরমোন, কুকুর ছানাদের মধ্যে জীবনকালের তারতম্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Madhurima Dutta
৪ মিনিট
দীর্ঘায়ু হবে প্রিয় পোষ্য! যে চমৎকার ঘটাতে পারে কুকুরদের বয়স কমানোর এই ওষুধ

যে পোষ্যই পছন্দের হোক না, পশুপ্রেমীদের সর্বদা একটি ভয় তাড়া করে। এমন মায়ার সম্পর্ক, একদিন তো ছিন্ন হবেই। বিশেষ কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলে, জৈবিকভাবে একদিন প্রিয় পোষ্যই মানুষের চেয়ে আগে মারা যাবে। প্রিয় সঙ্গীকে হারানোর যন্ত্রণা যারা জানেন, তাঁরা এমন বীভৎস দিনের কথা কল্পনাতেও আনতে চান না। মানুষও অমর নয়, একদিন প্রাণের মেয়াদ ফুরোয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কৃপায় মানুষের মেয়াদ আগের চেয়ে ঢের বেড়েছে। তাহলে পোষ্যের ক্ষেত্রে কেন নয়? এমন এক পৃথিবী কি আমরা পেতে পারি না, যেখানে মানুষ আর প্রিয় পোষ্য একই সঙ্গে বড় হবে, বুড়ো হবে? জীবনের শেষ দিনগুলোতে সম্পর্কের সেই উষ্ণ স্পর্শ কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না! কুকুরের ক্ষেত্রে বিশেষ করে, সকলেই প্রায় জানেন, তাদের আয়ুষ্কাল মানুষের আয়ুর এক ভগ্নাংশ মাত্র। বিজ্ঞান কি পশুদের ক্ষেত্রে বার্ধক্যের নিয়ম নতুন করে লিখতে পারে?

শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে, সেই সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত হতে পারে। কুকুরদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা একটি যুগান্তকারী অ্যান্টি-এজিং ওষুধ অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই ওষুধ কুকুরদের আয়ু বাড়াতে পারে, স্বাস্থ্যকর আয়ু পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে কেবল জীবনে আরও কিছু সময়কাল যোগ করার বিষয় নয়; এই ওষুধ জীবনীশক্তি যোগ করতে সক্ষম। কুকুরপ্রেমীদের কাছে এই ওষুধ মন্থনজাত অমৃতের মতোই! পোষ্য সারমেয়র রোগ বা যন্ত্রণামুক্ত দীর্ঘ আয়ু নিশ্চিত করার ওষুধ সম্ভবত তৈরি করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা।

কুকুরের আয়ুর নেপথ্যের বিজ্ঞান

কুকুরের জীবন বেশ ছোট। কিছু ছোট প্রজাতি কিশোর বয়স অবধি ভালোভাবে বাঁচতে পারে, তবে বড় কুকুরদের আয়ু বেশিই কম। যত বয়স বাড়ে অনেকেরই চলাফেরার সমস্যা হয়, চেতনার হ্রাস ঘটে এবং আট-নয় বছর বয়সে পৌঁছনোর সময় নানা অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। পোষ্যের মালিকদের কাছে, প্রিয় সঙ্গীর এমন কষ্ট দেখার চেয়ে বেদনাদায়ক কিছু নেই। একসময়ের উদ্যমী সঙ্গীকে ধীর হয়ে যেতে দেখা, খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে দেখা, ক্লান্ত হয়ে যেতে দেখা বিষণ্ণ করে তোলে। কিন্তু কেন আকারের সঙ্গে আয়ুষ্কাল এমন জড়িয়ে থাকে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বারণ এবার পোষ্যেও! যে কারণে নিষিদ্ধ হল ২৩ প্রজাতির কুকুর

Govt Bans Dog Breeds: একাধিক প্রজাতির কুকুর বিক্রি, পোষা ও ব্রিডিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছে নির্দেশিকা। কোন কোন প্রজাতি রয়েছে সেই তালিকায়?

কুকুর মানুষকে এবং মানুষ কুকুরকে সঙ্গী হিসেবে বহু শতাব্দী আগেই নির্বাচিত করে নিয়েছে। মানুষ বহু শতাব্দী ধরেই কুকুরের নির্বাচিত প্রজনন ঘটিয়েছে যা কেবল তাদের চেহারা এবং মেজাজই নয়, তাদের আয়ুও গঠন করেছে। এর ফলে কুকুরের নানা প্রজাতির মধ্যে আয়ুষ্কালের ব্যবধান বিশাল। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কিছু জেনেটিক দুর্বলতা কুকুরের বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে। যেমন গ্রেট ডেনের মতো বিশালাকার কুকুর কেবল ছয় থেকে আট বছর বাঁচে। অন্যদিকে চিহুয়াহুয়ার মতো ছোট কুকুর কিন্তু ১৮ বছর বয়স অবধিও বাঁচতে পারে৷ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এই পার্থক্য মূলত কুকুরের দেহ কীভাবে বিপাক, বৃদ্ধির এবং বার্ধক্য পরিচালনা করে তার কারণেই ঘটে থাকে। দ্রুত বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় হার বেশি হলে কুকুরের শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে বয়স বেড়ে যায় দ্রুত।

সাম্প্রতিককালে, গবেষকরা কুকুরের বার্ধক্যজনিত জৈবিক কারণগুলি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। নির্দিষ্ট জেনেটিক এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়া কীভাবে বয়সের বৃদ্ধির কারণ হয় তা খতিয়ে দেখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষের বৃদ্ধি এবং বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত ইনসুলিন-সদৃশ গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ (IGF-1) হরমোন, কুকুর ছানাদের মধ্যে জীবনকালের তারতম্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বড় কুকুরদের দেহ বেশি IGF-1 উত্পাদন করে, যা দ্রুত বয়স বৃদ্ধির কারণ হয়। বিজ্ঞানীরা কুকুরের বার্ধক্য কমানোর উপায় খুঁজতে থাকেন। শুধু বয়স কমানো নয়, সুস্থ, সক্রিয় জীবনযাপনের মেয়াদ বাড়ানোও ছিল তাঁদের লক্ষ্য৷ এই গবেষণার ফলেই বার্ধক্য কমানোর ওষুধ তৈরি হলো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুকুরের দিকে তাকালেই তাদের মস্তিষ্কের সঙ্গে জুড়ে যায় মানুষের মস্তিষ্ক? কী বলছে গবেষণা?

Dog Human Relation: দেখা গেছে কুকুর মানুষের দিকে তাকালে দুইক্ষেত্রেই একইরকম যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করবে এই ওষুধ?

অনেক বছর ধরেই, বিজ্ঞানীরা মানুষের মধ্যে বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করার উপায় খুঁজেছেন। সেই সাফল্য থেকেই পোষ্যের কথাও ভাবা। লয়াল নামে এক বায়োটেক কোম্পানি কুকুরের জীবনকাল বাড়ানোর বিষয় নিয়ে কাজ করে। তাদের পরীক্ষামূলক ওষুধ, LOY-001, বিশেষভাবে বড় আকারের কুকুরের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাদের ওজন ৪০ পাউন্ডের বেশি, যাদের সবচেয়ে কম আয়ু। সফল হলে, এই ওষুধটির ফলে বড় কুকুররা অতিরিক্ত, স্বাস্থ্যকর জীবন কাটাতে পারবে।

LOY-001 সেই অন্তর্নিহিত জৈবিক প্রক্রিয়াগুলির উপর কাজ করে যা কুকুরদের দ্রুত বুড়িয়ে দেয়। শরীরের আকার এবং জীবনকাল দুইয়ের সঙ্গে যুক্ত ইনসুলিন-সদৃশ গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ (IGF-1) হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। বড় কুকুর স্বাভাবিকভাবেই বেশি IGF-1 উৎপন্ন করে, যা ছানা অবস্থাতেই দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করা, কুকুরদের জীবনীশক্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করাই LOY-001-এর লক্ষ্য।

লয়ালের গবেষণা অনুসারে, জাত এবং জেনেটিক কারণের উপর নির্ভর করে এই ওষুধটি কুকুরের স্বাস্থ্যকর জীবনকাল এক বছর বা তার বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। মনে হতেই পারে যে, এক বছর আয়ু বাড়িয়ে আর এমন কী হবে! তবে মনে রাখতে হবে, কুকুরের জীবনে একটি অতিরিক্ত বছর বৃদ্ধি মানুষের জীবনের সাত থেকে দশ বছরের সমতুল্য। এও মনে রাখতে হবে, ওষুধের লক্ষ্য কেবল আয়ু বাড়ানো নয়, ওই অতিরিক্ত বছরগুলিতে জীবনের গুণমানও বৃদ্ধি করা, কুকুরদের সচল, সতর্ক এবং সক্রিয় রাখা। ইঁদুর থেকে শুরু করে বাঁদর, অন্যান্য প্রজাতির উপর গবেষণায় দেখা গেছে যে IGF-1 মাত্রা কমিয়ে দিলে তা আয়ু বাড়াতে পারে এবং বয়স-সম্পর্কিত রোগকেও পিছিয়ে দিতে পারে। অনুমোদন পেতে পরীক্ষার একাধিক পর্যায় পেরোতে হবে LOY-001-কে। কীভাবে ওষুধটি IGF-1 মাত্রাকে প্রভাবিত করে তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

এখন ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যে FDA অনুমোদন পাওয়ার পথে রয়েছে LOY-001। যদি তা অনুমোদন পেয়ে যায় তবে ভেটেরিনারি ওষুধের জগতে তা এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। বার্ধক্য অনিবার্যতা ঠিকই, তবে বিজ্ঞানের মাধ্যমে তা ধীর করা যেতেই পারে। মানুষের ক্ষেত্রেও, পশুর ক্ষেত্রেও।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।