ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ, অশনির অভিশাপ বদলে গেল বর্ষার আশীর্বাদে

ভারতবর্ষের মূল ভূখন্ডেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ দিন আগেই বর্ষার আগমন হবে বলেই মত বিজ্ঞানীদের। কিন্তু কীভাবে অশনি এগিয়ে নিয়ে এল বর্ষাকে ? বুঝে নেওয়া যাক -

Piya Saha
৩ মিনিট
ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ, অশনির অভিশাপ বদলে গেল বর্ষার আশীর্বাদে

গরমের হাসফাসানির হাত থেকে বাঁচতে একটা সুখবই যথেষ্ট। শীঘ্রই বর্ষা আসছে ভারতে। আর এখানেই শেষ নয়। এই আগাম বর্ষা আগমনের কৃতিত্ব অশনি ঘুর্নিঝড়ের। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশে আগমন ঘটবে বর্ষার।ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় অশনির কারণে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঢুকে পড়বে ভারতীয় স্থলভাগে। বর্ষা এখন ২২ মে তারিখের পরিবর্তে ১৫ মে,২০২২ তারিখে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা। স্বভাবতই, ভারতবর্ষের মূল ভূখন্ডেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ দিন আগেই বর্ষার আগমন হবে বলেই মত বিজ্ঞানীদের। কিন্তু কীভাবে অশনি এগিয়ে নিয়ে এল বর্ষাকে ? বুঝে নেওয়া যাক -

আবহাওয়া দফতর কী বলছে?

ভারতীয় হাওয়া অফিসের মতে, এবছর দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটবে সময়ের আগেই। আগামী ১৫ মে তারিখে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এই মরশুমের প্রথম বৃষ্টি শুরু হবে'। তারা আরও জানিয়েছে, সাধারণত ১৫ মে তারিখের পর থেকে মৌসুমী বায়ু ঘনীভূত হতে শুরু করে। এরপর ২২ মে তারিখের মধ্যে আন্দামানের একেবারে উত্তরভাগ মায়াবন্দরে প্রবেশ করে প্রথম।

আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেছেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে। সাথে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে এই সময়ে। প্রথম বৃষ্টি শুরু হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে কেরল, লাক্ষাদ্বীপে বৃষ্টি শুরু হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের নাম কেন 'অশনি'? নামের মধ্যেই কি লুকিয়ে বিপদের পূর্বাভাস?

এবার মার্চে ঘূর্ণিঝড় অশনি ধেয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে মার্চ মাসের চেয়ে এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কেন বর্ষা এগিয়ে আসছে?

বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে খানিক স্বস্তি দিয়েছে অশনি ঘূর্ণিঝড়। বর্ষাকালের একেবারে গা ঘেঁষে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি সৃষ্টি হয় সেগুলি সাধারণত বায়ুপ্রবাহকে প্রভাবিত করে। ফলে মৌসুমী বায়ুর আগমন দেরিতে ঘটে ।কিন্তু যে ঘূর্ণিঝড় বর্ষার আগমণের বেশ কিছু সময় আগে তৈরি হয় তার প্রভাব একেবারে বিপরীত ।অর্থাৎ এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়গুলি জলীয় বাষ্প আকর্ষণ করে ফলে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই বর্ষা শুরু হতে পারে। ঠিক যেমনটা এবছর হবে বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

বর্ষার শুরুয়াত

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আন্দামানে এ মাসের ১৫ তারিখ বর্ষা ঢুকে পড়লেও ভারতের মূল ভূখণ্ডে অর্থাৎ কেরলে ঠিক কবে বর্ষা ঢুকবে তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সাধারণত কেরল উপকূলে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঢোকে জুন মাসের প্রথমদিনে। তবে গতবছর ৩ রা জুন মৌসুমী বায়ু এসে পৌঁছায় কেরলে কিন্তু এবছর তার আগেই আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।ফলে এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে এবছর প্রায় চার মাসব্যাপী বর্ষাকাল চলবে দেশে।

তথ্য বলছে, ২০২১ সালে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতে সাধারণের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারত সাধারণের তুলনায় বেশি বৃষ্টি পেয়েছে।

অশনি ও করিম

হাওয়া অফিসের রিপোর্ট আগেই জানিয়েছিল, শক্তি হারিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘুর্নিঝড় অশনি।অন্যদিকে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে ৮ মে তারিখে তৈরি হয়েছে ঘুর্নিঝড় করিম।তবে আবহাওয়াবিদদের মতে করিম হল দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি হ্যারিকেন।

নাসার প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে যে অশনি এবং করিম দুটিই নিরক্ষরেখা থেকে প্রায় সমান দূরত্বে থাকলেও একে অপরের বিপরীতে অবস্থিত। ঘূর্ণিঝড়ের হাওয়া উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে দিকে ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের সাথেই আশেপাশের অঞ্চল থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করেছে যে কারণে এবছর আগেই বর্ষার আগমণ ঘটছে। এবছর দেশে শতকরা ৯৪ থেকে ১০৪ ভাগ বৃষ্টিপাত হবেই বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের অধ্যাপক রঘু মুর্তুগুডের মতে, অনেক সময় বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া ঘুর্নিঝড়ের কারণে বর্ষা শুরু হতে দেরি হয়।কিন্তু এ বছর উল্টো প্রভাব পড়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,২০১৯ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত টানা তিনবার দেশে সঠিক সময়েই শুরু হয়েছিল বর্ষার বৃষ্টি। তবে এবছর অশনি এবং করিমের প্রভাবে আগেভাগেই প্রবেশ ঘটছে মৌসুমী বায়ুর।এদিকে উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে । রাজস্থানের বারমেঢ়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি পার করে গেছে।

দেশে স্বাভাবিক বর্ষার আগমণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চাষীদের মুখেও হাসি ফুটবে। খারিফ ফসলের চাষ দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঘটা বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। জুন -জুলাই থেকে বীজ বপন শুরু হয় খারিফ ফসলের। ভালো চাষের ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম খানিক কমতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও মাঝে মাঝেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাবে।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?