অটিজমের মোকাবিলায় সমন্বয় বজায় রাখুন, পাবেন সুফল, বলছে সমীক্ষা

Susen
৫ মিনিট
অটিজমের মোকাবিলায় সমন্বয় বজায় রাখুন, পাবেন সুফল, বলছে সমীক্ষা

সুসেন: শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশিষ্ট সমাজসেবী সংগঠন উত্তরণের উদ্যোগে এবং প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে শিশুদের অটিজম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বেশ কিছু জরুরি তথ্য।

তুষার, ২ বছরের শিশু -এখনও কোনও কথা বলে না। যদিও সে সবকিছু শুনতে পায়। তার বাবা-মা খুবই চিন্তিত কেননা ঐ বয়সে তার বড় বোন অনেক কিছুই বলতে পারত, তুষার বাবা-মা বা অন্য কারোর দিকে চোখ রেখে তাকায় না, সে কোনও খেলার জিনিস পছন্দ করে না, তবে প্লাসটিক পেপার নিয়ে থাকতে ভালোবাসে। সে টেলিভিশন দেখতে চায় তবে একই ছবি বারবার দেখতে পছন্দ করে। আর কাজে বাধা দিলেই ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

তিন বছরের শুভম,বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা-মা খুবই চিন্তিত কেননা বাবা-মা ছাড়া অন্য কেউ তার ভাষা, তার প্রয়োজন বুঝতে পারে না; একই শব্দ বারবার বলতে থাকে কিন্তু তার প্রয়োজনীয় জিনিস নির্দিষ্ট ভাবে বলে চেয়ে নেয় না। প্রয়ােজন হলে সে নিজেই তা জোগাড় করে অথবা বড়দের কারাের হাত ধরে টেনে এনে নিয়ে নেয়। সে কোনও সময় স্থির হয়ে বসে না বরং সারাদিন ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং এক জায়গায় বসলেই দুলতে থাকে। হঠাৎ কখনও চেয়ার-টেবিলে উঠে নিজেই কোনও জিনিস পাড়তে গিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত লাগে। কোথাও কেটে বা ফেটে গেলেও তার ভ্রুক্ষেপ থাকে না।

চিত্র ঋণ : Googleপাঁচ বছরের নীলাঞ্জনা,বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। সে সব কথা আগে বলত কিন্তু এখন যেন অনেক কথা ভুলে যাচ্ছে বড় হওয়ার সাথে সাথে; সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে চায় না; কখনই কারাের চোখের দিকে চেয়ে কথা বলে না, প্রায়শই অকারণে হাত তালি দেয় অথবা শরীরটাকে অস্বাভাবিক রকমের বাঁকাচোরা করতে থাকে, একইরকম ভাবে এরকম আচরণ করে একটানা অনেক সময় ধরে।

উপরের তিনজন শিশুর মধ্যে লক্ষ্য করলেই বােঝা যাচ্ছে তাদের ব্যবহার এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক নয়। এই ধরণের ঘটনা কিন্তু সংখ্যায় খুব একটা কম নয় প্রায় প্রতি ১০০০ (এক হাজার) শিশুর মধ্যে ৬ - ৭ জন, সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। ওই সমীক্ষাতেই পাওয়া তথ্যসূত্রে দেখা গিয়েছে সেরিব্রাল পলসি (C.P.বা Cere bral Palsy) বা ডাউনস সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) -এর থেকেও এই রােগের সংখ্যাটা বেশি, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা যথেষ্ট কম। শিশুদের এই ধরণের অসুখকে অটিজিম (Autism) বলে।

অটিজিম (Autism) কি ? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক সুপর্না বসু মল্লিক জানাচ্ছেন--

শিশুদের বৃদ্ধিজনিত (Developmental) সমস্যা যা বােঝা যায় সাধারণত ১/২ (দেড়) বছর থেকে ৩ বছরের মধ্যে যেখানে শিশুটি দেরিতে অথবা অস্বাভাবিকভাবে কথা বলে বা ওই ধরণের অঙ্গভঙ্গিতে অন্যের সঙ্গে সংযােগ স্থাপন করে। তার সামাজিক ব্যবহারও অন্য শিশুদের মত নয়।

এই ক্ষেত্রে প্রশ্ব ওঠে কখন অটিজিম সন্দেহ করবেন ? চিকিৎৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের পরামর্শ

১) 12 মাস বয়সের মধ্যেও যদি শিশুটি কোনও রকম মুখে শব্দ না করে।

২) 12 মাস বয়সের মধ্যেও আঙ্গুলের ইশারায় বা হাবেভাবে কিছু চায় না |

৩) 16 মাস বয়সের মধ্যেও একটাও শব্দও উচ্চারণ করে না।

৪) 24 মাস বয়সের মধ্যে দু’টো শব্দের কোনও বাক্য গঠন করতে পারে না।

৫) ২৪ মাসের মধ্যে তার কথা কিছুই বােঝা যাচ্ছে না।

৬) স্থির ভাবে কোনও জিনিসে মনােনিবেশ করতে পারছে না। [

৭) যে কোনও বয়সে এমনটা যদি হয় যা বলতে শিখেছিল বা সামাজিকতা শিখেছিল তা যেন ক্রমশঃ ভুলে যাচ্ছে।

অটিজিম রােগটির ব্যপ্তি কতটা ? চিকিৎসক সঞ্জয় সূদের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী

মনে করা হয় প্রতি ১১০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু এই রােগে আক্রান্ত ; তবে অধুনা রােগ নির্ণয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ধরা হচ্ছে প্রতি ৮৮ জনে ১ জন শিশু আক্রান্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সমীক্ষায় জানানো হচ্ছে প্রতি ৩৮ জন শিশুর যারা স্কুলে যাচ্ছে তাদের ১ জন এই রােগে আক্রান্ত, নয়া দিল্লির অন্য একটা হিসাব বলছে ২৫০ জনে ১ জন এই সমস্যায় প্রভাবিত। ছেলেদের মধ্যে প্রবণতা মেয়েদের থেকে প্রায় চার গুণ।।

অটিজিম আক্রান্ত শিশুদের লক্ষণগুলি কি কি ? সমীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাঃ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন--

ক) সংযােগস্থাপনে সমস্যা । (i) কথা না বলা ( Non-verbal) - তার নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না। কখনও যেন মনে হয় সে শুনতেই পাচ্ছে না, যদিও কানে শুনতে তার কোনও অসুবিধা নেই। বাচ্ছাটা কখনও অন্যকে বােঝাতে পারে না সে কি চাইছে। তার প্রয়ােজনীয় জিনিস বড়দের কাউকে হাত ধরে টেনে এনে চাইতে থাকে অথচ মুখে চাইতে পারছে না। সে যে জিনিসটা চাইছে তার দিকে আঙ্গুল না দেখিয়ে সে তার বাড়ানাে হাতের দিকেই চেয়ে থাকে।

(ii) কথা বলা (verbal) - কথা শিখতে ও বলতে দেরী হচ্ছে। কিছু কিছু শব্দ বা কথা বলতে পারছিল আগে কিন্তু এখন ক্রমশঃ তাও ভুলে যাচ্ছে। একই শব্দ বা একই কথা বারে বারেই বলে চলেছে। তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় “তােমার নাম কি ?” সেও বলবে “তােমার নাম কি?” সে হয়ত কিছু বলতে শিখেছে কিন্তু একদমই কথা ঢালিয়ে যাবার ক্ষমতা হচ্ছে না। কখনও দেখা যাচ্ছে ‘‘আমাকে বলতে গিয়ে সে “তােমাকে” বলছে ।

খ) সামাজিক সংযোগস্থাপনে সমস্যা?

তার দিকে চেয়ে হাসলে সে প্রত্যুত্তরে হাসছে না। চোখের দিকে তাকিয়ে কখনই কথা বলতে আগ্রহী নয়। তার সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে অভ্যস্ত নয় বরঞ্চ একা একাই খেলতে ভালােবাসে। কোনও কাজেই বড়দের সাহায্য নিতে চায় না। বােকা বােকা শূণ্যে তাকিয়ে থাকে প্রায়শই, শুধুমাত্র নিজের পছন্দের জিনিসের দিকেই তাকিয়ে থাকে। যেন নিজস্ব একটা জগতে সে বিচরণ করে। পরে একটা খেলনা রাখা হছে - বাচ্ছাটা খেতে পাচ্ছে - অথচ সে দিকে আগ্রহ নেই। বড়দের আচরণ দেখেও নকল করতে চায় না।

গ) অস্বাভাবিক ব্যবহার : স্বাভাবিক পড়াশােনায় তার মন নেই। পারিপার্শ্বিক অবস্থায় বা কোনও বিপদের সম্মুখীন হয়েও সে যেন অবিচল থেকে যায় - একটা ছুটন্ত গাড়ীর সামনেও সে আপন ইচ্ছাতেই ছুটে যায় অথবা আগুনের ওপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে অথবা বিপদের কথা তার মাথাতেই থাকে না। তাকে উপহাস করলে বা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করলে সে যেন গুরুত্বই দেয় না। অনেক সময়েই অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে, যেমন হাততালি দিচ্ছে তাে দিচ্ছেই, পা দোলাচ্ছে তাে দোলাচ্ছেই। সে অন্যের সঙ্গে কোনও রকম খেলাধূলা করতে চায় না। কোনও খেলনা পেয়েও নয়। বেশীর ভাগ সময়ই খেলনা ছুঁড়ে ফেলে নয়ত আছড়ে ভেঙে ফেলে। নকল করে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে অভ্যস্ত নয়। প্রায়ই দেখা যায় ছােটো ছােটো কোনও বস্তুকে একই ভাবে, একইরকমে সাজাতে থাকে বারে-বারেই। কখনও কখনও এই সমস্ত বাচ্ছারা ভীষণ ছটফটে, সব সময় ছুটে চলেছে নিজস্ব ভঙ্গিতে, নিজস্ব ভাবনায়। প্রত্যেকদিনে একই রুটিন ধরে চলে - পরিবর্তন করলেই বাধা দেয় - পারিপার্শ্বিক অবস্থা পাল্টালেই বিরক্ত হয়। ঘ) অটিজিম বাচ্ছাদের মধ্যে এটাও কখনও কখনও দেখা যায় ।আঙ্গুলের ওপর ভর করে চলতে থাকে, সব জিনিসই মুখে দেয়, কামড়ে জিনিস নষ্ট করে; কখনই আঘাতে যেন ব্যথা অনুভব করে না। সব জিনিসে গন্ধ শুকতে থাকে। শব্দ শুনলেই কানে দু’হাত চেপে ধরে যেন শব্দ পছন্দ করছে না, কোনও আলাে জ্বলতে দেখলে যেন ঘাড় বেঁকিয়ে অন্যভাবে আলাের দিকে তাকায়। খাবার। সময় যেন কতকগুলাে নির্দিষ্ট জিনিসই খেতে চায়। কেউ কেউ সব সময় লাফাতে থাকে অথবা শুধুই ঘুরপাক খেতে থাকে।

যৌথ প্রচেষ্টা বা teamwork -এর ভিত্তিতে বাবা-মায়েরা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে ও চিকিৎসকদের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সাহায্যে একমাত্র এই Autism আক্রান্ত শিশুদের অন্তত ভাল রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ এই রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারা জীবনের অসুখ। জানাচ্ছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল রায়।

তথ্য্যসূত্র - অটিজম সংক্রান্ত সামাজিক সমস্যার সমীক্ষা -উত্তরণ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

চিকিৎসকদের মতামত - প্রশ্নের ভিত্তিতে প্রতিবেদকের নেওয়া।

লিখেছেন
Susen
Susen
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।