ভাঙছে হাসিনা-মমতার সম্পর্ক! মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দিল্লিকে কেন নালিশ বাংলাদেশের?

Mamata Banerjee on Bangladesh: মমতা বলেছিলেন, "যদি অসহায় মানুষ পশ্চিমবঙ্গের দরজায় কড়া নাড়তে আসে, আমরা অবশ্যই তাদের আশ্রয় দেব।"

inscript
৩ মিনিট
ভাঙছে হাসিনা-মমতার সম্পর্ক! মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দিল্লিকে কেন নালিশ বাংলাদেশের?

শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক অজানা নয়। একে অন্যকে শাড়ি উপহার, আম উপহার চলতেই থাকে। রাজনৈতিকভাবে পাতানো এই 'দিদি-বোন' সম্পর্ক কি ধাক্কা খেল এবার? কোটা আন্দোলনের জেরে সপ্তাহজুড়ে উত্তাল বাংলাদেশ। কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে পথে নামা ছাত্রছাত্রদীদের বিক্ষোভকে হাসিনা সরকার যে পথে দমন করেছে তাতে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়েই বড় অংশের দাবি ওঠে হাসিনা সরকারের পতনের। ছাত্র আন্দোলনের জেরে এত এত সাধারণ মানুষের মৃত্যু প্রশ্ন তুলে দেয় 'স্বৈরাচারী', ‘অগণতান্ত্রিক' হাসিনা সরকারের ভূমিকা নিয়ে। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সরকার এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের। হিংসা বিধ্বস্ত বাংলাদেশ থেকে 'অসহায় মানুষদের আশ্রয়' দেওয়ার বিষয়ে মমতার সাম্প্রতিক বিবৃতি ঘিরে অসন্তুষ্ট 'বন্ধু' হাসিনা। এতটাই অসন্তুষ্ট যে প্রতিবেশী দেশটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে অভিযোগ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ সম্মান জানাচ্ছি, তাঁর সঙ্গে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবু, আমরা এটি পরিষ্কার করতে চাই যে তাঁর মন্তব্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই, আমরা ভারত সরকারকে একটি চিঠি দিয়েছি।”

উত্তাল বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যু, সরকারি ভবনে ভাংচুর, আগুন, ইন্টারনেট বন্ধ, জরুরি পণ্যের জোগান কমে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই বাংলাদেশে বাড়তে থাকা হিংসা এবং বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে যদি কোনও মানুষ বিপদে পড়ে এরাজ্যে আসেন, তাঁদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের দরজা খোলা থাকবে এবং তাদের আশ্রয় দেবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১১ মাস জেলও খেটেছেন! তবু কেন বাংলাদেশের জনগণের মন রাখতে ব্যর্থ শেখ হাসিনা?

Bangladesh PM Sheikh Hasina: হাসিনা মইনুলকে বলেছিলেন, "আপনারা কাজটা ভাল করেননি। আমি দ্রুত ফিরে আসব এবং তখন আপনাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।"

Hundreds of students and others are returning to West Bengal/ India, from the trouble-torn Bangladesh.

I have asked our State administration to render all help and assistance to the returnees.

For instance, around 300 students arrived at Hilli border today and most of them left…

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশের কোটা ব্যবস্থা ঠিক কী? কেন এর বিরোধিতায় প্রাণ হারালেন পড়ুয়ারা?

Bangladesh Quota System: পড়ুয়ারা কিন্তু সবরকমের কোটা তুলে দেওয়ার পক্ষে নন। জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরি সংরক্ষণে সমর্থন রয়েছে তাঁদের।

বিদেশের কোনও ইস্যুতে মন্তব্য করা কেন্দ্রের বিষয়বস্তু তা উল্লেখ করেই শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে মমতা বলেছিলেন, "যদি অসহায় মানুষ পশ্চিমবঙ্গের দরজায় কড়া নাড়তে আসে, আমরা অবশ্যই তাদের আশ্রয় দেব।" মমতা আরও বলেছিলেন, "এটা আমার কথা নয়। রাষ্ট্রসংঘের সনদেই বিপদগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা বলা আছে। অশান্তি সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে উদ্বাস্তুদের স্থান দেওয়ার জন্য জাতিসংঘেরই প্রস্তাব রয়েছে।"

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। রাজভবন বলছে, বহিরাগত বিষয় নিয়ে কথা বলা কেন্দ্রের অধিকার। রাজ্যপালের কার্যালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, "বিদেশ থেকে আসা মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে একজন মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য বিবৃতি খুবই গুরুতর সাংবিধানিক বিধি লঙ্ঘন।"

জনসভায় মমতা আরও বলেছিলেন, "বাংলাদেশ নিয়ে কেউ প্ররোচণায় পা দেবেন না। ওখানকার পরিস্থিতির জন্য আমাদের সহমর্মিতা আছে। ছাত্রছাত্রীদের তাজা প্রাণ চলে যাচ্ছে।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই হাসিনা সরকারের দমনকে সমর্থন করে না। তাই কি সোজা দিল্লিতে নালিশ বাংলাদেশের সরকারের? বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে গুজব ছড়ানোর প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে কি কোথাও 'গুজব' ছড়ানোর গন্ধই পাচ্ছিল বাংলাদেশ? সরকারি সুত্রে জানানো হয়েছে, বুধ ও বৃহস্পতিবারও কার্ফিউ জারি থাকবে বাংলাদেশে। তবে বুধবার থেকে সীমিত সংখ্যায় অফিস খুলবে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও অফিসে ইন্টারনেট চালু হয়েছে।

বাংলাদেশের নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ডঃ মহম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক বিবৃতিকেও দেশবিরোধী বলে মনে করেছে বাংলাদেশ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যতই সুসম্পর্ক থাক, অন্যের দেশ নিয়ে 'নাক গলানো'-কে তাই হাসিনাবিরোধিতা হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। এবং স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে তাঁদের। কেন্দ্র বাংলাদেশ ইস্যুতে একটি বাক্যও খরচা করেনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।