বিপ্লবী ছাত্র থেকে সশস্ত্র মাওবাদী কমান্ডো! কেন কেশব রাওয়ের মৃত্যু মাওবাদীদের জন্যে বড় ধাক্কা?

Basavaraju: দান্তেওয়াড়া-নারায়ণপুর- বিজাপুরের সীমানায় কেশব রাওয়ের আসার খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। ভোররাত থেকে শুরু হয়েছিল এই অভিযান।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
বিপ্লবী ছাত্র থেকে সশস্ত্র মাওবাদী কমান্ডো! কেন কেশব রাওয়ের মৃত্যু মাওবাদীদের জন্যে বড় ধাক্কা?

মৃত্যু হল মাওবাদী নেতা নাম্বাল কেশব রাও ওরফে বাসবরাজের। ২১ মে বুধবার, মোট ৩০ জন মাওবাদীকে নিকেশ করছে যৌথ বাহিনী। কেশব রাওয়ের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। এই অভিযানকে 'যুগান্তকারী ' বলে আখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকেই মনে করছেন, কেশব রাওয়ের হত্যা মাওবাদীদের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার সমান। কিন্তু কেন? খোলসা হওয়া দরকার।

বুধবার সকালে ছত্তিশগড়ে এনকাউন্টার অভিযান শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণপুর জেলার আবুজাহমাদ জঙ্গল এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। নারায়ণপুর, বিজাপুর, দান্তেওয়াড়ার ডিআরজি-ও এই অভিযানে শামিল ছিলেন। জঙ্গলে ঢুকে মাওবাদী নেতাদের সাথে গুলির লড়াই চলে। দান্তেওয়াড়া-নারায়ণপুর- বিজাপুরের সীমানায় কেশব রাওয়ের আসার খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। ভোররাত থেকে শুরু হয়েছিল এই অভিযান।

কেশব রাও ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। ধারণা করা হয় যে, ১৯৮৫ সালে আত্মগোপনে চলে যান। ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলামের বাসিন্দা। তিনি ওয়ারাঙ্গলের রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ছিলেন। তেলেঙ্গানার একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে-কে জানিয়েছেন-

"তিনি আরইসি ওয়ারেঙ্গলের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তিনি র‍্যাডিক্যাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ব্যানারে নির্বাচনও লড়েছিলেন।" সে সময় তিনি তাঁর ছোট বেলায় রাখা নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন-

তখন পুরো ওয়ারেঙ্গল উগ্রপন্থী সংগঠন দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তিনি ১৯৮০ সালেও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। কর্মকর্তার কথায়, "তখন থেকেই বড়ো বড়ো অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। পিপলস ওয়ার গ্রুপের পদেও উন্নীত হয়েছিলেন।" ২০০৪ সালে পিপলস ওয়ার গ্রুপ (পিডব্লিউজি) এবং মাওবাদী কমিউনিস্ট সেন্টার একত্রে হয়ে সিপিআই (মাওবাদী) গঠন করে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও বলেন- বাসবরাজের মৃত্যু ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র জন্য একটি বড়ো ধাক্কা। কারণ, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের উত্তর ও দক্ষিণ কমান্ডের মধ্যে সংযোগকারী ছিলেন। মুপ্পালা কেশভ রাও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর, বাসবরাজ সম্পাদকের পদ পান। তেলেঙ্গানার আরেক পুলিশকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে-কে বলেছেন, "তিনিই একসময় নকশালবাড়ি সংগঠনকে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের সাথে যুক্ত করেছিলেন। দলকে এক ছাতার নিচে আনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছিলেন। বাসবরাজ তাঁরই পথ অনুসরণ করেছিলেন।”

ওই গোয়েন্দারাই কথায়- তিনি সংগঠনের যোদ্ধা নেতা ছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই সংগঠন করেন। তাঁর মৃত্যু সংগঠনের বড়ো ক্ষতি এবং এর ফলে দল ভেঙেও যেতে পারে। তাঁর কথায়, কর্মীদের একত্রিত করতে পারে এমন কেউ আর সংগঠনে নেই। তিনি দাবি করেছেন, “তাঁকে ছাড়া মাওবাদীদের পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব।” ২০১১ সালে ৫৬ বছর বয়সে কিষাণজির (মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও) হত্যা তারপর এখন বাসবরাজের মৃত্যু তেলুগুর সংগঠনকে আরও দূর্বল করবে। গত কয়েক বছরে তেলেঙ্গানা থেকে কোনও নতুন সদস্য খুঁজে না পাওয়া এবং পুরনো ক্যাডারের মৃত্যু- সংগঠনের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বলে মনে করছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ছত্তিশগড়ের এই অভিযান শেষ হতেই অমিত শাহ এক্সে পোস্ট করে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "গত তিন দশকের নকশাল বিরোধী ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতাকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়েছে আমাদের বাহিনী। এই যুগান্তকারী কাজের জন্য আমাদের সাহসী নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।" তিনি আরও লেখেন, অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট-এ ছত্রিশগড়, তেলঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রে ৫৪ জন নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর কথায়, "মোদি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ - ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করা হবে।"

উল্লেখ্য, দু'সপ্তাহ আগেই ৩৬ গড়ের বিজাপুরে এনকাউন্টারে ১৫ জন মাওবাদীকে নিকেশ করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ প্রচেষ্টার ফলে নকশালপন্থী সংগঠনগুলির দখল দুর্বল হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।