তামা দিয়ে তৈরি ধারালো দাঁত! জানেন, রক্তকৃমির এক কামড়েই কী হতে পারে আপনার?

Bloodworm Metal Teeth: এদের এই ধাতব চোয়াল এতটাই শক্ত যে রক্তকৃমির জীবদ্দশায়, মানে পাঁচ বছর পর্যন্ত এর কোনও ক্ষয় হয় না!

inscript
৩ মিনিট
তামা দিয়ে তৈরি ধারালো দাঁত! জানেন, রক্তকৃমির এক কামড়েই কী হতে পারে আপনার?

পৃথিবীর নিরীহতম প্রাণীটিও যদি দাঁত নখ বের করে ধেয়ে আসে, অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর হবে না। সে যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, দাঁত চিরকালই ভয়ের। আর সামান্য সেই প্রাণীর দাঁত যদি হয় ধাতব! সম্ভব নাকি! রক্তকৃমির পাল্লায় পড়লে সম্ভব অসম্ভবের দ্বিধা ঘুচে যাবে। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার (১৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত প্রসারিত। দেহ প্রকাণ্ড নয়, মাংসল-গোলাপী রঙ দেখে তাদের এতটা ভয়ঙ্কর মনে হবেই না। স্রেফ ধাতব দাঁত দেখলে রোম খাড়া হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত যারা নানা অণুজীব চাষের জন্য খনন করেন বা যারা জেলে, তাদের রক্তকৃমির কামড়ের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যারা জীবনে একবার না একবার রক্তকৃমির কামড় খেয়েছেন তাদের সেই অভিজ্ঞতা মর্মান্তিক। জানলে আশ্চর্য হতে হয় যে, রক্তকৃমি তাদের শিকারের কঙ্কালের বহির্ভাগে অবধি কামড়ে দিতে পারে। কামড়ে ধরে থেকে রক্তকৃমি নিজেদের বিষ ঢুকিয়ে দেয় যার ফলে আক্রান্ত মানুষটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন। মনে করা হয় যে, রক্তকৃমির তামার দাঁতগুলি রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য এক অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। যার ফলে সাধারণত দেহে বিষ প্রবেশ করতে যে সময় লাগে তা অনেকটা দ্রুত হয়ে যায় এই দাঁতের কারণে।

মানুষের কামড় খাওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও ২০২২ সালের একটি ঘটনা বলছে এক সামুদ্রিক বাস্তুবিজ্ঞানী যে কামড় খেয়েছিলেন সেই বিষাক্ত অভিজ্ঞতা শুনলে রক্তকৃমিদের নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে। ওই বিজ্ঞানী একটি গবেষণার কাজ করার সময়ই রক্তকৃমির কামড় খেয়েছিলেন। কামড় খাওয়া জায়গাটিতে প্রায় সারাটা দিন ব্যথা, চুলকানি এবং অসাড়তা অনুভব করেন। মৌমাছি হুল ফোটালে যেমন তীব্র জ্বলে, জায়গাটি অবশ হয়ে পড়ে খানিক তেমনই। তারপর ক্ষতের জায়গাটি ফুলে অদ্ভুত ঘা হয়ে যায়।

কামড়ানোর আট দিন পরে অবস্থার কোনও হেরফের না দেখে আক্রান্ত বিজ্ঞানী চিকিত্সকের কাছে যান। কামড়ের ফলে বিষয় ভিতরে ঢুকেছে কিনা, এটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ কিনা, বা বিষ আর ব্যাকটেরিয়া দু'টির সংমিশ্রণ কিনা ঠিক পরিষ্কার ছিল না। তার অন্যতম কারণ এই জাতীয় কামড়ের ঘটনা বিরল। আরও বেশ কিছু কামড়ের ঘটনা পেলে ভালোভাবে বোঝা যেত রক্তকৃমির কামড় আসলে মানুষের দেহে কী কী প্রভাব ফেলে।

ব্লাডওয়ার্ম বা রক্তকৃমি হলো গ্লাইসেরা গোত্রের কৃমির একটি রূপ এবং অগভীর সামুদ্রিক পরিবেশেই এদের দেখা পাওয়া যায়। আদতে কৃমি হলেও এদের দৈহিক গঠন কিন্তু সাংঘাতিক! রক্তকৃমির চোয়াল ১০ শতাংশ তামার স্ফটিক দ্বারা গঠিত। এদের এই ধাতব চোয়াল এতটাই শক্ত যে রক্তকৃমির জীবদ্দশায়, মানে পাঁচ বছর পর্যন্ত এর কোনও ক্ষয় হয় না! থ্রিলার সিনেমায় বা কল্পবিজ্ঞানের কাহিনিতে যে ধাতব দাঁতের কথা আমরা হামেশাই দেখতে পাই, বুঝতে অসুবিধা হয় না তার নেপথ্যে রয়েছে ঠিক কোন প্রাণীরা।

প্রাণীজগতে কিন্তু ধাতু বিরল। মূলত এর কারণ হচ্ছে অনেকটা পরিমাণে ধাতু পাওয়া প্রাণীদের ক্ষেত্রে সহজ নয়। ব্লাডওয়ার্ম বা রক্তকৃমির ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টা আলাদা! সমুদ্রের পলির মধ্যে এরা লুকিয়ে থাকে আর চারপাশের পরিবেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে তামা শোষণ করতে পারে। কিন্তু সেই তামা দিয়ে কীভাবে দাঁত বা চোয়াল তৈরি হয় এই নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। তবে ২০২২ সালের একটি গবেষণায় এর একটি দিশা মিলেছে। ওই গবেষণা বলছে, একটি মাল্টি-টাস্কিং প্রোটিন রয়েছে যা রক্তকৃমির ধাতব দাঁত তৈরির নেপথ্যে কাজ করে। এই প্রোটিনের বেশিরভাগটাই গ্লাইসিন এবং কিছুটা হিস্টিডিন দিয়ে তৈরি। তামা থেকে তৈরি দাঁতগুলি মূলত শিকারকে কামড়ানো এবং অন্য প্রাণীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্যই ব্যবহৃত হয়। হ্যাঁ, মাঝেমাঝে মানুষকেও পঙ্গু করে ফেলে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।