ব্রাজিলের মডেলের ছবি হরিয়ানার ২২টি ভোটার কার্ডে! যেভাবে ‘এইচ-বোমা’ ফাটালেন রাহুল

Rahul Gandhi’s ‘H-Files’: এই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তিনি প্রকাশ করেছেন একটি নথি, নাম দিয়েছেন ‘এইচ-বোমা’('H-Files'অর্থাৎ Haryana Files)। রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, হরিয়ানায় অন্তত ২৫ লক্ষ নকল ভোটার ভোট দিয়েছেন।

inscript
৩ মিনিট
ব্রাজিলের মডেলের ছবি হরিয়ানার ২২টি ভোটার কার্ডে! যেভাবে ‘এইচ-বোমা’ ফাটালেন রাহুল

হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ফের বিতর্কের ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালে হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। তবে রাহুলের অভিযোগ, ভোটচুরি করে সেই নির্বাচন জিতেছে পদ্মশিবির। শুধু অভিযোগ তোলেননি, সঙ্গে উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। বুধবার তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, “হরিয়ানার আসল ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসই জয়ী হয়েছিল।”

কখনও সীমা, কখনও সুইটি, কখনও আবার সরস্বতী! ভোটার তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নাম। তবে সব নামের পাশে এক জনেরই ছবি। কে সেই রহস্যময়ী নারী? কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের দাবি, ওই ছবি ব্রাজিলের এক মডেলের! দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, অন্তত ২২টি ‘ভুয়ো’ ভোটার কার্ডে ওই মডেলের ছবি ব্যবহার করে ‘জালিয়াতি’ করেছে বিজেপি।

এই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তিনি প্রকাশ করেছেন একটি নথি, নাম দিয়েছেন ‘এইচ-বোমা’('H-Files'অর্থাৎ Haryana Files)। রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, হরিয়ানায় অন্তত ২৫ লক্ষ নকল ভোটার ভোট দিয়েছেন। হরিয়ানার মোট ভোটার প্রায় দু’কোটি অর্থাৎ, রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২.৫ শতাংশই অস্তিত্বহীন বা নকল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুলের অভিযোগে কমিশনের অস্বীকার! জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে?

Commission denies Rahul's allegations: রাহুল গান্ধী আগের সাংবাদিক সম্মেলনেও অভিযোগ করেছিলেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে মেশিন পড়তে পারে এমন ভোটার তালিকা চাওয়া সত্ত্বেও তা তাঁকে দেওয়া হয়নি।

রাহুলের প্রকাশ করা তথ্যানুযায়ী, হরিয়ানায় অনেক জায়গায় একই ব্যক্তির নাম, ছবি ও ঠিকানা বারবার ব্যবহার করে ভোট দেওয়া হয়েছে। কিছু ভোটার একাধিক কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। কিছু আসনে পোস্টাল ভোট ও সাধারণ ভোটের ফলাফলে অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা গিয়েছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, “হরিয়ানায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা— সব জায়গায় কারচুপি হয়েছে। এটা শুধু একটি রাজ্যের ব্যাপার নয়, পুরো দেশের গণতন্ত্রের প্রশ্ন।”

রাহুল গান্ধী বলেন, “হরিয়ানার প্রতিটি জেলার তথ্য আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। আমাদের হাতে স্পষ্ট প্রমাণ আছে, কংগ্রেসই প্রকৃত বিজয়ী ছিল। কিন্তু ইভিএম ও ভোট গণনার কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।” তিনি দাবি করেছেন, কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী গণনা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে হঠাৎ ফল উল্টে যায়।

রাহুল গান্ধীর ফের অভিযোগ তুলেছেন ইলেকশন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধেই। তাঁর কথায়, “কমিশন জানত কী হচ্ছে। বিজেপি এবং কমিশনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল। গণতন্ত্রকে কলুষিত করার জন্য হরিয়ানায় এক সুপরিকল্পিত খেলা হয়েছে।” তিনি আরও বললেন, “ইলেকশন কমিশন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা চাই, কমিশন হরিয়ানার ভোটার তালিকা ও ইভিএম গণনা প্রকাশ্যে আনুক। যদি ওরা সৎ হয়, তাহলে লুকোচুরি কেন?” রাহুলের দাবি, “দেশের মানুষকে জানাতে হবে, কীভাবে ভোট চুরি হয়, কারা করে, আর কারা সেটাকে ঢেকে রাখে।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুলের তীর জ্ঞানেশের দিকে, কেন বিদ্ধ হলেন অনুরাগ ঠাকুর?

Anurag Thakur accuses Rahul Gandhi: তীর যখন নির্বাচন কমিশনের দিকে, তখন খামোখা সেই তীরকে নিজেদের দিকে কেন টেনে নিয়ে গেল বিজেপি?‌‌ কেন বিজেপির অন্দরে অতিতৎপর হয়ে উঠল? ঠাকুরঘরে কে বলার আগেই আমি কলা খাইনি আর্তি কেন ধ্বনিত হলো?‌‌

রাহুলের এই বক্তব্যের পরেই বির্তক আরও বেড়েছে। কংগ্রেস নেতারা একে 'ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার কালো অধ্যায়' বলছেন। বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “রাহুল গান্ধী প্রতিবার হারের পর নতুন গল্প বানান। এবারও ব্যতিক্রম নয়।” ইলেকশন কমিশন এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

২০২৪ সালের হরিয়ানা ভোটে বিজেপি দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করে। কিন্তু ফল ঘোষণার দিন থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল কংগ্রেস। রাহুলের বক্তব্য, “হরিয়ানার ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথমবার। পোস্টাল ব্যালটের ফল এবং ভোটবাক্সের ফল একে অপরের সঙ্গে মেলেনি। এটা যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ সংকেত।”

বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষা প্রথমদিকে কংগ্রেসের পক্ষে গেলেও, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় বিজেপি সরকার গঠন করছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, “আমরা ভোটে জিতেছিলাম। কিন্তু ভোটের হিসাব বদলে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের উপর আঘাত।”

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাহুল গান্ধীর এই ‘এইচ-বোমা’ এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেস ইতোমধ্যেই দাবি করেছে— তারা শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেবে এবং হাই কোর্টে যাচাইয়ের আবেদন করবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।