আপনি কি জলের তলায় কাঁদতে পারেন?

Crying Underwater : শুনতে অবাক লাগলেও, কিছু অশ্রু বাষ্পীভূত হয়ে যায়।

inscript
৩ মিনিট
আপনি কি জলের তলায় কাঁদতে পারেন?

লুকিয়ে কাঁদার কিছু সুবিধা আছে তা অনস্বীকার্য। প্রবল কষ্ট বা দীর্ঘকালের যন্ত্রণা যখন সবটুকুকে ছেয়ে ফেলে, কোনও না কোনও ভাবে সেই কষ্টকে তরল করে দেয় মস্তিষ্ক। তরল দুঃখেরা কোথায় যায়? দু'চোখ বেয়ে নামে, কষ্ট কোথাও যায় না, সামান্য লাঘব হয় মাত্র। এই কষ্ট লাঘবের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়েন বলে লুকোতে চান। নিভৃতি খোঁজেন। সিঁড়িঘরে লুকিয়ে কাঁদেন, গোপন চিলেকোঠায় সেঁধিয়ে কাঁদেন, একলা ঘরে বন্দি হয়ে কাঁদেন, যাতে সেই নিজস্ব চোখের জল কেউ দেখতে না পান। জল ঢাকতে যদি জলের আশ্রয় নেন, তাহলে কেমন হবে? ধরুন সাঁতার কাটতে কাটতে প্রবল কান্না পেল, জলের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে কি কাঁদতে পারবেন আপনি?

আমাদের চোখ সবসময়ই অশ্রু আবৃত। এই অশ্রু তেল, জল এবং শ্লেষ্মা দিয়ে তৈরি। কেউ আবেগপ্রবণ হলে তখন তাদের চোখ অতিরিক্ত অশ্রু বের করে ফেলে অন্যদের জানাতে চায় যে তারা কষ্টে আছেন, যন্ত্রণায় আছেন বা প্রচণ্ড আনন্দ পেয়েছেন। এন্ডোরফিন হরমোন যেমন শরীরে সুখের অনুভূতি তৈরি করে এবং ব্যথা কমায়, অক্সিটোসিন হরমোন তেমন মানুষকে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে, সম্পর্কের বন্ধন অনুভব করায়, বিশ্বাস ও ভালোবাসা তৈরি করে। আমাদের কান্না শরীরের মধ্যে এই রাসায়নিকগুলিকে মুক্ত করে। তাই কাঁদলে একটু ভালো বোধ হয়। সুতরাং কান্না নানাবিধ উপায়েই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। চোখ সুস্থ রাখার জন্য চোখের জল অত্যাবশ্যক, এমনকী আপনি যখন রাতে ঘুমোন বা সাঁতার কাটেন, তখনও।

কান্না চোখকে আর্দ্র ও সুস্থ রাখে

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চোখের পাতায় এই ছোট্ট গর্ত আছে আপনারও? কী কাজ এই ছিদ্রের জানেন?

Hole in Eye: প্রতিটি চোখের নীচের পাতার ভিতরের কোণ থেকে ২ মিলিমিটার দূরে একটি ছোট্ট বাদাম আকৃতির গর্ত রয়েছে।

চোখের উপরের পাতায় এবং ভ্রুর নিচে থাকা অশ্রু গ্রন্থি বা বা ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড থেকে অশ্রু উৎপন্ন হয়। অশ্রুর প্রধান কাজই হলো চোখকে লুব্রিকেটেড এবং সুরক্ষিত রাখা। অশ্রু চোখকে শুষ্ক হতে দেয় না, সারাক্ষণই আমাদের চোখ জুড়ে আলতো করে কান্নার স্তর থাকে। যখনই আমরা চোখের পাতা বন্ধ করি, চোখের এই তরল সামান্য সামান্য পরিমাণে বেরিয়ে চোখ আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। যদি কেউ আরামদায়ক কন্ট্যাক্ট লেন্স পরেন, সেক্ষেত্রে এই লেন্সগুলি আসলে চোখের জলের এই স্তরেই ভাসতে থাকে। যদি চোখে খুব কম অশ্রু থাকে তাহলে কনট্যাক্ট লেন্সগুলি চোখে সেঁটে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টা বেশ অস্বস্তিকর।

আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, আমরা কম কাঁদি। কিন্তু অশ্রুগ্রন্থিরা তখনও চোখকে আর্দ্র রাখার কাজ করে যায় যাতে যখন ঘুম থেকে আমরা উঠব তখনও যেন চোখের ফোকাস ক্ষমতা ঠিকঠাক কাজ করে এবং আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই। যাদের চশমা প্রয়োজন সেটি একেবারেই পৃথক বিষয়। চোখের পাতা যাতে সহজেই খোলা বন্ধ করা যায়, চোখ যাতে না চুলকায় তার নেপথ্যেও চোখের জলের ভূমিকা আছে। চোখের মধ্যে পড়া ধুলো, বালি, ধোঁয়া, খুব ক্ষুদ্র পোকা সবকিছু ধুয়ে বের করে দেয় অশ্রু। কারও যদি গাছপালা বা পোষা প্রাণীর প্রতি অ্যালার্জি থাকে, তখন অশ্রুই এই বিরক্তি দূর করতে সাহায্য করে। এমনকী কনজাংটিভাইটিস হলে চোখের জলই জীবাণুগুলিকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। রক্ত ​​প্রবাহ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি চোখে বয়ে নিয়ে যায় এই অশ্রুই। এ তো গেল অশ্রুর গুণ ব্যাখ্যা। গোড়ার প্রশ্নটি তো ছিল, জলের নিচে কাঁদতে পারবেন কি?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘুম ভেঙেই চোখ লাল! কনজাংটিভাইটিস কি সত্যিই ছোঁয়াচে?

Conjunctivitis Symptoms: মূলত দুই ধরনের সংক্রমণ হতে পারে চোখে। ব্যাকটেরিয়া এবং/অথবা ভাইরাসের।

আসলে আপনি যখন জলের নিচে সাঁতার কাটছেন, তখনও আপনার চোখে জল রয়েছে। আপনি জলের নীচে কাঁদতেই পারবেন কিন্তু বাইরের প্রবল জল দ্রুত সেই অশ্রু ধুয়ে ফেলবে। বেশিরভাগ জল, যেখানে মানুষ ডুব দেয় তাতে সাধারণত ক্লোরিন, ব্যাকটেরিয়া বা বালির মতো জিনিস থাকে যা চোখের অস্বস্তি বাড়ায়। তাই চোখ খোলা রেখে সাঁতার কাটলে আমাদের অশ্রু গ্রন্থিগুলি এই সব বালি, ক্লোরিন ধুয়ে ফেলতে অশ্রু তৈরি করে। সাঁতারের গগলস পরলে বা জলের নিচে চোখ বন্ধ করে রাখলে তাই চোখ রক্ষা পায় বেশি, আরামও পায় ঢের।

এই কান্না যায় কোথায়?

শুনতে অবাক লাগলেও, কিছু অশ্রু বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আমাদের চোখের কোণে অশ্রু নালী রয়েছে যা অশ্রু প্রবাহের জন্য খানিক নালার মতো কাজ করে। এই নানা অশ্রুদের আমাদের নাকে এবং তারপরে গলায় নিয়ে যায়, সেখানে আমরা কান্না গিলে ফেলি। খুব কান্নাকাটি করলে তাই নাক দিয়েও জল গড়ায়। এই নালির কারণেই মাঝে মাঝে যখন চোখের ড্রপ নিই আমরা জিভে সেই ড্রপের স্বাদ মেলে।

কোনও কোনও শিশুর জন্মের সময় অশ্রু নালী বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তে তাদের সমস্ত কান্না গাল বেয়ে প্রবাহিত হয়। সবসময়ই তাদের চোখ জল থইথই, দেখে মনে হয় যেন কাঁদছে। অথচ কোনও মন খারাপ নেই। চিকিত্সকরা এই শিশুদের অশ্রুনালী খুলতে সাহায্য করেন। আবার কখনও কখনও অশ্রু গ্রন্থি কম অশ্রু উৎপন্ন করে। সাধারণত বয়স হলে এমনটা হয়। কম কান্না মানেই চোখ জ্বলা, চুলকানি ভাব। এই কারণেই কেউ কেউ কৃত্রিম অশ্রুর ড্রপ ব্যবহার করে চোখকে আর্দ্র রাখেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।