ক্রিকেটারের ধর্ম কী? জানা কি খুব জরুরি?

Mohammed Shami: আহমেদাবাদ টেস্টে শামিকে 'উত্যক্ত' করতে ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান।

Swastik Chowdhury
৫ মিনিট
ক্রিকেটারের ধর্ম কী? জানা কি খুব জরুরি?

বিষ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে বিষাদ। প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আগে এমনটা ছিল না। এমনটা হওয়ার কথাও নয়। তবু, সবকিছু যে নিয়ম মেনে হয় না। সুলতান নিরুদ্দেশ, এখন শুধু চোখরাঙানি আর বিদ্বেষ। একটা প্রজন্ম বড় হতে হতে দেখেছে বাবরি ধ্বংস বা গুজরাত। কিন্তু খেলার মাঠে ঘামে যখন ঘাসের গন্ধ মিশে যায়, কাঠের উইকেটগুলো যখন ইঁট দিয়ে ঠুকে অনেকটা গভীরে শেকড় পায়, তখন কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়ত মাঠমুখী ছেলের দল। আনসারি, ডিঙাপাড়ার কানু, রফিক, জগাই। শরদসংঘের মাঠে টুর্নামেন্ট ফাইনাল। ৬-এর পল্লীর ছেলেগুলোকে না হারালে যে সম্মান থাকবে না! তারপর ম্যাচ জিতে জার্সি ওড়ানো। মায়ের হাতে সেলাই করে দেওয়া জার্সির পিছনের ডাকনাম থেকে কখন যে একটা সুতোয় টান পড়েছে খেয়ালই নেই। তারপর কাদা মাখা শরীরে একসঙ্গে পুকুরে ঝাঁপ। পুরো পুকুর দাপাদাপি। জল ঘোলা হয়ে যাওয়া। কখনও বা পড়ন্ত বিকেলে মাঠে ঘুড়ি আর লাটাই নিয়ে দৌড়। আজ আর খবর নেই আমাদের দোস্তোজির। আমার ঘুড়ি কেটে কাঁটাতার পেরিয়ে চলে গেছে সেই নিরুদ্দেশের ঠিকানায়। এদেশে এখন শুধু চোখরাঙানি আর বিদ্বেষ।

ক্রিকেট রোমান্টিসিজমের সাক্ষী ছিলেন ওয়াসিম আক্রম। অবাক চোখে দেখতাম বাঁ হাত থেকে বেরনো গোলাগুলোর দিকে। অদ্ভুত বিস্ময়ে তাকিয়ে ভাবতাম রিভার্স সুইং এমনও হয়! আমার দেশ সামনে পড়লে সভয়ে দেখতাম লাহোরের সুলতানকে। তখন এত বাণিজ্যিক ক্রিকেট বিশ্লেষণ বা অবিরত হয়ে চলা হাইলাইটসের প্রাচুর্য ছিল না। টিভি খুলে যা দেখা, ওই ৫০ ওভারেই। তবে খবরের কাগজে পিছন পাতায় ছবি দেখে দেখে তখন খুব পরিচিত তিনি। বল চোখে দেখার আগেই ছিটকে দিত অফ স্ট্যাম্পের বেল। বহু পরে জেনেছি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেন ডেভিডের মতো ব্যক্তিত্বও তাঁকে সেরার তালিকায় রাখেন। আরেকজনকে দেখেও অমন বিস্ময় লাগত। ভয় লাগত। সূর্যগ্রহণ দেখতে গিয়ে চোখে লেগে যাওয়া ধাঁধার মতো খানিক। আমার শহরকে সে স্তব্ধ করে দিতে পারে। ষাটহাজারি ইডেন চিৎকার করছে তাঁর ইয়র্কার দ্রাবিড়ের লেগস্টাম্প ছিটকে দেওয়ায়। স্বয়ং ঈশ্বরের আগমন বার্তা ভেসে আসছে ইডেনের হাইকোর্ট এন্ড থেকে।

শোয়েব পরে কোনও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ঈশ্বরকে সেদিন বড় বেশি 'ক্যাজুয়াল' লাগছিল তাঁর। ইডেনের গর্জন উত্তরোত্তর মাত্রা ছাড়াচ্ছে। বাড়ছে উত্তেজনা। সব স্তব্ধ করে দেওয়া একটা ইয়র্কার। ভূপতিত সচিনের মিডল স্ট্যাম্প। সেদিন রাগ হয়েছিল, অভিমান হয়েছিল। কিন্তু সব কিছুর পরেও যেটা ক্রিকেটের অংশ ছিল না, তা হলো ধর্মবিদ্বেষ। উগ্র চিৎকারে জয় শ্রীরাম ধ্বনি। শোয়েব বলেছিলেন, সেদিন তিনি প্রত্যক্ষ করেন, কলকাতা ক্রিকেটের ঈশ্বরকে কতটা ভালোবাসে। এই শহর ভালোবাসা ফিরিয়েও দেয়। রাওলপিন্ডি এক্সপ্রেসের এক একটা অনবদ্য ঘাতক ডেলিভারি। গতির কাঁটায় ১৪০ ছাড়ানো গোলাগুলো যখন ব্যাটসম্যান স্পর্শ করতে পারেন না, স্বাভাবিক নিয়মেই তখন আসমুদ্র হিমাচল উঠে দাঁড়ায়। ভারতবর্ষ হোক কী শারজাহ, কেউই শ্রদ্ধা জানাতে বিস্মৃত হয় না। পরে আমার দলেও এল প্রতিভা। আর ভয় নয়। বেহালার ছেলে শিখিয়েছে ঔদ্ধত্যের সংজ্ঞা। দলে আছে জাহির খান কিংবা ইরফান পাঠান। নীল জার্সিও পাচ্ছে বিশ্বজুড়ে রাজত্বের আস্বাদ। কখনও পড়ছে, কখনও হোঁচট খাচ্ছে, দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে কিন্তু ময়দান ছাড়ছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্রিকেটার কবিগুরু! যে রবীন্দ্রনাথকে আজও চেনেই না বাঙালি

Rabindranath Tagore: রবীন্দ্রনাথ কিঞ্চিৎ ক্রিকেট খেলেছিলেন বটে, তবে তিনি ঠিক কোন সময়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন, তা নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই কোথাও।

ইতিমধ্যে, এইসব দেখতে দেখতে শহরের বুকে বড় হচ্ছে আরেকজন। ততদিনে মোরাদাবাদের পাট চুকিয়ে পাকাপাকি ভাবে সে চলে এসেছে কলকাতায়। টাউন ক্লাবে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়ে অল্পবিস্তর নজরে পড়েছে সিএবির সিলেক্টরদের। দেবব্রত দাস বুঝেছিলেন, এ ছেলের চোখে স্বপ্ন আছে। হাতে আছে অনবদ্য সুইং। আর আছে ইতিহাস গড়ার ক্ষমতা। এ কখনও টাকা উপার্জনের স্বপ্ন দেখে না। বল অফ স্টাম্প ছুঁলে এক অনাবিল হাসি খেলে যায় দাড়ি ভর্তি গালে। উজ্জীবিত হয়ে আবার রান আপ নেয়। সুযোগ আসে শতাব্দী প্রাচীন মোহনবাগান ক্লাবে খেলার। তারপর আসে ২০১২-১৩ রঞ্জি মরসুম। দুরন্ত পারফরমেন্স। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ গোটা ইনিংসে ১১উইকেট! ততদিনে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে চলে এসেছেন তিনি। ডাক পেয়েছেন আইপিএলেও। ২০১৩ থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ডান হাতের অবিশ্বাস্য সুইংয়ে ভর করে চলে স্বপ্নের উড়ান। কিন্তু সাফল্যের পিছনে এসেছে কাঁটা। ব্যক্তিগত জীবনে বহু সমস্যায় জর্জরিত শামি ফিটনেস টেস্টে ব্যর্থ হয়েছেন আফগানিস্তান টেস্টের আগে। বিবাহবিচ্ছেদ মামলা আদালতে পৌঁছয়। দিনের পর দিন কাটাছেঁড়া চলে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। প্রাণের চেয়ে প্ৰিয় মেয়ের থেকেও দূরে থাকতে হয় বাংলার সুলতানকে। আবার নীরবে মাঠে কামব্যাক করেন, দুরন্ত পারফরমেন্স উৎসর্গ করেন কন্যাকে। বিশ্বকাপে হাত থেকে ক্রমাগত বেরিয়ে যাওয়া আফগানিস্তান ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলকে ফিরিয়ে আনেন লড়াইতে। বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক! তবুও তাঁকে পরীক্ষা দিতে হয়। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খারাপ পারফর্ম করলে তথাকথিত 'ধর্মনিরপেক্ষ' দেশে প্রশ্ন ওঠে। টুইটারে ট্রেন্ড আসে। গুগলে সার্চ সাজেশন লিস্টে প্রশ্ন আসে তিনি 'পাকিস্তানি কিনা'।

'দেশ বদল রাহা হ্যায়'। আমাদের নস্টালজিক শৈশব কেটে গেছে। বাতাসে ক্রমাগত মিশছে সাম্প্রদায়িকতার ঝাঁঝালো বিষবাষ্প। প্রতিটা নির্বাচনে নেতাদের অমোঘ বাণীতে অনুস্মারক 'হিন্দু খতরে মে হ্যায়'। দেশের জার্সি পরে জাতীয়তাবাদের প্রমাণ দিতে হয় অর্শদীপ সিংহ, মহম্মদ সিরাজকে। হোটেলে ঢোকার মুখে তিলক না পরার ভিডিও ভাইরাল করে তাঁদের জন্যও অঘোষিত হুমকির দেওয়াল লিখন, পারফরমেন্স খারাপ হলে দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এই আবহেই কিছু দলনেতা থাকেন, বা পরিস্থিতির চাপে দায়িত্ব নিতে হয় তাঁদের। সবচেয়ে বৃহত্তম ও ক্ষমতাশালী ক্রিকেটবোর্ডের আগেও তারা সরব হতে পারেন সতীর্থের জন্য। ধর্মের নামে অশালীন আক্রমণের নো-বল যে ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে দেয় 'বিরাট' ছক্কায়। শক্তিশালী বোর্ড প্রমাদ গোনে। সরে যায় বেপরোয়া নির্ভীক ক্যাপ্টেনের ছায়া। আরব সাগরের তীরে বহু ঢেউ ভাঙে গড়ে। আহমেদাবাদ টেস্টে শামিকে 'উত্যক্ত' করতে ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান। দেশের প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য উপস্থিতির পরে এহেন ঘটনা! সর্বশক্তিমান বোর্ড নীরব।

এখন এসব অনভিপ্রেত 'ছোট্ট ঘটনা'য় সমাজমাধ্যমে চক্ষুলজ্জার অস্তিত্ব বড়ই বিরল। কোনও প্রেস বিবৃতির আশা করা সমাজে সদর্থক ভূমিকা রাখে না। বর্তমান অধিনায়কও নাকি এসব ঘটনা কিছুই জানেন না। অগত্যা পারফরমেন্সই শেষ কথা। অনবদ্য ইনসুইং ছিটকে দিল ক্যামেরুন গ্রিনের অফস্টাম্প। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের বুকে বদলে গেল জয়ধ্বনি। মুম্বইবাসীর প্রবল 'শামি শামি' চিৎকারে কান পাতা দায়। একদিকে ঘৃণা আছে, অন্যদিকে ভালোবাসার উদযাপন। উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষ আছে, আছে সব ভুলিয়ে দেওয়া ক্রিকেট প্রেম। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির মতো হাজারও কঠিন সমস্যা ঢাকতে উত্যক্ত করা, ক্ষেপিয়ে দেওয়ার নোংরা রাজনীতি আছে, পাশেই আছে ঘৃণার বিরুদ্ধে হাতে হাত রেখে লড়াই। অসহায় দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দোস্তোজির ঘুড়ি আজ অনেক দূর চলে গেছে। তবু জানি লাটাইয়ে সুতো আছে। কাঁধে হাত রেখে বচ্চন স্টাইলে ছবিও আছে, সময়ের ভারে যা একটু রঙচটে পুরনো হয়েছে। পয়সা বাঁচানো চলছে। খুব শিগগিরই মান-অভিমানের পালা শেষ হবে। আবার কাঁধে হাত রেখে নীল শরতের আকাশে বিশাল ঢাউস ঘুড়ি উড়বে, উড়বেই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।