সংকল্প জয়, প্রতিটি রান ধ্যান, ক্রিকেট ধর্মের সন্ন্যাসিনী জেমাইমা

Jemimah Rodrigues: জেমিমা, এক পায়রার নাম, যে আগুনের মধ্যেও শান্তি খুঁজে নেয়। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে আজ সে শুধু ব্যাটার নয়। বিশ্বাস, লড়াই আর পুনর্জন্মের প্রতীক।

Manisha Ghosh
৫ মিনিট
সংকল্প জয়, প্রতিটি রান ধ্যান, ক্রিকেট ধর্মের সন্ন্যাসিনী জেমাইমা

বাইবেলের ‘বুক অব যোব’-এর শেষ অধ্যায়ে একটা বাক্য বারবার উচ্চারিত হয়, “অ্যান্ড হি কলড দ্য নেম অব দ্য ফার্স্ট, জেমিমা” — দি বুক অব যোব ৪২:১৪

যোব সব হারানোর পরও বিশ্বাসের জোরে, আশীর্বাদ হিসেবে পেয়েছিলেন তিন মেয়েকে। তাদের মধ্যে প্রথম মেয়ে, জেমিমা। যার অর্থ পায়রা, শান্তির প্রতীক।

শতাব্দী কেটে গেছে। আজকের পৃথিবীতে, ধর্ম আর রাজনীতি প্রতিদিন নতুন করে সংজ্ঞা বদলাচ্ছে। 'শান্তি' শব্দটার সঙ্গে ক্রমে গেঁথে যাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার তলোয়ার। যে দেশে মেয়েদের রাতে একা বেরোনো অন্যায়, যেখানে ধর্ম মানে ভোটব্যাঙ্ক, আর রাজনীতি কেবল বিভাজন চায়; এক রাতে সেই দেশেরই এক মেয়ে সেঞ্চুরি করে। তারপর উদযাপন নেই। কেবল উবু হয়ে সে বসে ক্রিজে। হেলমেটের নিচে ঘাম। চোখে উচ্ছ্বাস নেই, শুধু প্রার্থনা। ক্যামেরা জুম করে ধরল মেয়েটির মুখ। ধারাভাষ্যকার বললেন, “মেয়েটি জানে, এটি কেবল খেলা নয়।” ওই রাতে ভারত হারাল অস্ট্রেলিয়াকে, ইতিহাসে নাম উঠল। খেলা শেষের আগে মেয়েটির ব্যাট একবারও থামেনি। তিনি জানেন তাঁকে কেবল ফিনিশিং লাইনে স্কোয়ার কাট মারলেই চলবে না, বাউন্ডারি হাঁকাতে হবে গোটা সমাজের ফিল্ডিংকে ডজ করে। তাই তিনি খেলার আগে প্রার্থনা করেন। না, ক্যামেরার সামনে নয়, নিজের মধ্যে। কেবল বলে চলে, "প্রভুই তোমার হয়ে যুদ্ধ করবেন; তুমি শুধু শান্ত থাকো" (“স্ট্যান্ড স্টিল, অ্যান্ড গড উইল ফাইট ফর ইউ” এক্সোডস ১৪:১৪)।

জেমিমা রড্রিগেজ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রিচা-জেমিমাদের লড়াই মাঠ পেরিয়ে সমাজে

Women Players Harrasment: অলিম্পিক পদকজয়ী অ্যাথলিট মেরি কম পর্যন্ত বলেছিলেন, মহিলারা মাঠে লড়াই করেন আর মাঠের বাইরে টিকে থাকার জন্য আরও বড় লড়াই করেন।

মেয়েটির প্রতিটি বাউন্ডারি আসলে এক নীরব প্রতিবাদ। মেয়েটির নাম জেমিমা, জেমিমা রড্রিগেজ। যোবের গল্প আসলে ধৈর্যের গল্প, পুনর্জন্মের গল্প। কিন্তু সেই গল্প আজকের ভারতবর্ষে এক ভিন্ন প্রেক্ষিতে ফিরে এসেছে এক তরুণীর ব্যাটে। যাঁর বিশ্বাস আর লড়াই যেন বাইবেলের অন্য পাঠ। আরও একবার মনে করাব, জেমিমা সেই সময় লড়ছেন যখন ঈশ্বরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবছে একদল লোক আর অন্য দল ভাবছে প্রতিরোধই প্রার্থনা। মুম্বইয়ের খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মানো জেমিমা, ক্রিকেটের মাঠে এসে এক নিঃশব্দ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, বিশ্বাস কি কেবল মন্দির বা গির্জায় থাকে,পরিশ্রমে কি ঈশ্বরপ্রাপ্তি নেই?

ভোর চারটে। মুম্বই লোকালের ট্রেনের প্রথম হুইসেল। ছোট্ট একটা মেয়ে, কাঁধে ব্যাট, পাশে দুই দাদা, এনক আর ইলাই। পুরুষ ঠাসাঠাসি কামরায় চাপা পড়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া মেয়েটি তখনও জানত না ভারতে মেয়েদের ক্রিকেট বলে কিছু আছে। আনন্দের সঙ্গে, প্রতিদিন মাঠে যেত। দু-ঘণ্টা ফিল্ডিং করত, যাতে দশ মিনিট ব্যাট করতে পারে। একদিন কোচ বললেন, “আজ মেয়েদের ট্রায়াল আছে, খেলবি?” সে বাড়ি ছুটল, ক্রিকেটের সাদা পোশাক পরে ফিরেও এল। পাশে বাবা ইভান রড্রিগেজ। গ্রাউন্ডে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হাসাহাসি। আট বছরের মেয়ে, আর প্রতিপক্ষ নাকি বছর চব্বিশ পঁচিশের ক্রিকেটাররা। ভাই ফিসফিস করে বলেছিল, “দাদা, ওকে একবার বল করতে দাও, তখন সবাই জানবে।”

দ্বিতীয় বলেই উইকেট। মাঠ নিস্তব্ধ। সেখান থেকেই শুরু এক নতুন গল্পের। ইভান রড্রিগেজ ছিলেন স্কুল কোচ, নিজেও খেলেছিলেন ক্লাব ক্রিকেটে। মেয়ের চোখে ছিল তাঁর প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, “যখন মাঠে থাকি, আমি শুধু কোচ। বাবা নই।” মেয়েটির পা নড়ত না। রীতিমতো মার খেয়েছে ছোটবেলায়। পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার দিকেই ছিল তাঁর বেশি টান। স্কুলের মাঠে কখনও ক্রিকেট, কখনও হকি, কখনও ফুটবল, আবার কখনও বাস্কেটবল। জেমিমা মহারাষ্ট্রের মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৯ হকি দলে খেলেছেন সেন্টার-ফরওয়ার্ড হিসেবে। তাঁর দ্রুত দৌড় আর নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন জাতীয় হকি কোচ জোয়াকিম কার্ভালহো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাঠে জয়, সমাজে লড়াই; খেলাধুলোর মেয়েরা যে লড়াই লড়ছে

Women Sports: বিজয়ীদের নাম উচ্চারণ করে মনে মনে খালি গর্ব অনুভব করলেই তো আর হবেনা। যারা জেতেনি, যারা খেলা শুরু করলেও চালিয়ে যেতে পারেনি, এমনকি যারা খেলেওনি, তাদের কথাটা ভাবতে গেলে মনটা বিষণ্ণ হয়ে আসে।

জেমিমা রড্রিগেজ

ক্রিকেট তখনও তাঁর জীবনের কেন্দ্রে আসেনি। স্টিক হাতে গোল করার আনন্দই ছিল প্রথম প্রেম। তবু ধীরে ধীরে ব্যাটের প্রতি টান বাড়ে , কারণ মুম্বই শহরে ক্রিকেট খেলার সুযোগ অনেক বেশি, প্রতিযোগিতাও নিয়মিত। জেমিমা নিজেই একবার বলেছিলেন, “আমি এখনও দুটোই ভালবাসি, একদিন দুটোতেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করব।” মুম্বইয়ের ভান্ডুপ থেকে বান্দ্রা। সব পরিবর্তনই হয়েছিল একটাই কারণে। যাতে জেমিমা ভালোভাবে খেলতে পারেন। এই শাসনের মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল শৃঙ্খলার বীজ।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি জায়গা করে নেন মুম্বই অনূর্ধ্ব ১৯ দলের স্কোয়াডে। প্রথম বড় মঞ্চ। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অধিনায়ক। একইসঙ্গে খেলতে থাকেন অনূর্ধ্ব ২৩ ও সিনিয়র দলে। ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে পান। ২০১৬-১৭ মরশুমে তিনি দশ ইনিংসে করেন ৬৬৫ রান,পরের মরশুমে (২০১৭–১৮) সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১৩ রানে, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি শতরান এবং একটি ডবল সেঞ্চুরি। বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর।

সেই দ্বি-শতকই ছিল ভাগ্য পাল্টানোর মুহূর্ত। তাঁকে ভারতীয় দলে ডাকা হয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঝলমলে পারফরম্যান্সে তিনি হয়ে ওঠেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অচিরেই নীল জার্সির ডাক আসে। এরপরই প্রথম আন্তর্জাতিক সফর, গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচেই ৩৭ রান। মিতালি রাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পাঁচ নম্বর ম্যাচে ৩৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংস। এরপর ২০১৮ সালের মার্চ। মুম্বইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম অর্ধশতক, ৫৭ বলে ৫০। সেই ম্যাচেই গড়লেন রেকর্ড। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে পরপর তিনটি জয়। তারপর থেকে তিনিই ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একদিন আমিও স্মৃতি মন্ধনা হব

Smriti Mandhana: ওয়ান ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হোক বা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা টেস্ট ক্রিকেট, স্মৃতির রেকর্ড সর্বত্র। তিন ফরম্যাটেই তাঁর নাম জড়িয়ে আছে একাধিক বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে।

২০১৯ সালে কিয়া সুপার লিগে ইয়র্কশায়ার ডায়মন্ডসের হয়ে ৫৮ বলে ১১২। সবই এক নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু, এই সংগ্রামই তাঁকে ‘মেন্টালি টাফ’ করে তুলেছে ততদিনে। এর পর ২০২০ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ দলে যোগ দেওয়া থেকে ২০২১ সালে, ইংল্যান্ডের দি হান্ড্রেডে নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের হয়ে ৯২ রানের ইনিংস। ২০২১-২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ধারাবাহিক রান। যাত্রা ছিল অব্যাহত।

জেমিমা রড্রিগেজ

তবে সব লড়াইয়েই উত্থান-পতন থাকে। ২০২২ সালে জেমিমা বাদ পড়েন ওয়ান ডে ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে। নিজেই বলেছেন, অট্টহাসিতে তিনি কান্না চেপে রাখতেন তখন। মা লেভিতা রদ্রিগেজ সাহস জুগিয়েছিলেন,'সঠিক সময় আসবে'। সেদিন তিনি ভেঙে পড়েছিলেন, কেঁদেছিলেন। তারপর এক সপ্তাহ বিরতি। নিজেকে আবার গড়ে তোলা। এর পর আর ফেরায় কে? ঘরোয়া লিগে, দারুণ পারফরম্যান্স। মহিলা টি–২০ চ্যালেঞ্জ, শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ। সেই ম্যাচ শেষেও তিনি বলেছিলেন, “আমি খেলা শেষে কয়েক ঘণ্টা জার্সি খুলিনি, নিজের ঘরে আছি অনুভব হয়েছিল।” এ প্রত্যাবর্তন কেবল খেলায় ফেরা নয়, সর্বস্বজোড়া আত্ম-উদঘাটন।

ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের রাতে এক ইনিংসেই হাজারও প্রশ্নের দিয়ে দিলেন জেমিমা। ভারত তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু এবার কেউ বলবে না, “মেয়েরা ভাগ্যের জোরে উঠেছে।”এবারের ভারত জিতেছে ঘাম, বিশ্বাস, আর এক মেয়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে। অস্ট্রেলিয়া, সাত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাঁদের ৩৩৮ রানের পাহাড়টা নতজানু হলো এক তরুণীর সাহসের সামনে। হরমনপ্রীতের সঙ্গে ক্রিজে আসেন জেমিমা। একটি কভার ড্রাইভেই যেন জানিয়ে দেন, “আমরা জিতবই।” জুটি তুলে নেয় ১৬৭ রান। জেমিমার প্রতি শট ছিল প্রার্থনার মতো সুন্দর, প্রতি রানেই উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল বিশ্বাস।

৮২ রানে হিলি ক্যাচ ফেললেন, ১০৬ রানে ম্যাকগ্রা, যেন ঈশ্বরও চান, গল্পটা এখানেই শেষ না হোক। শেষের ১৮ বলে দরকার ২৩ রান। রিচা ঘোষ দু'টি ছক্কা মারলেন, গ্যালারি গর্জে উঠল। তারপর ৪৮তম ওভারে জেমিমার দু’টি নিখুঁত চার। ভারত এক ধাপ এগিয়ে গেল ইতিহাসের দিকে। শেষ ওভারের স্কোয়ার ড্রাইভ, তারপর স্কোয়ার কাট। বল বাউন্ডারিতে পৌঁছতেই ভারত জিতে যায়। জেমিমা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন মাঠে। চোখ বন্ধ করে বলেন, তিনি একা জেতেননি, যিশু তাঁর জন্য লড়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আজ তাঁর শতরানের জয় নয়, ভারতের জয়। মেয়েদের জয়।

ভারতের ক্রিকেটে এখন নতুন সময়। স্মৃতি মন্ধনা, হারমনপ্রীত কৌর, দীপ্তি শর্মা,সবাই নিজের পথে ইতিহাস লিখছেন। কিন্তু জেমিমার গল্প আলাদা। তিনি বিশ্বাসে ক্রিকেট খেলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি একবার বলেছিলেন, “যখন আমি খেলি, তখন আমার মনে হয় আমি উপাসনা করছি।” ক্রিকেট তাঁর কাছে খেলা নয়। ধর্ম, বিশ্বাস। এই দেশে, যেখানে ঈশ্বরকেও রাজনৈতিক প্রতীক বানানো হয়, সেখানে জেমিমার প্রার্থনা ব্যাটের শব্দে অনুবাদ হয়। সেই রাতে অন্তত একজন মেয়ে দেশকে মনে করিয়ে দিয়েছিল— শক্তি মানে চিৎকার নয়, বিশ্বাস। জেমিমা, এক পায়রার নাম, যে আগুনের মধ্যেও শান্তি খুঁজে নেয়। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে আজ সে শুধু ব্যাটার নয়। বিশ্বাস, লড়াই আর পুনর্জন্মের প্রতীক।

লিখেছেন
Manisha Ghosh
Manisha Ghosh
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।