সারে না সহজে, অর্ধেক আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ! কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

Untreatable Super Fungus Danger : মানুষও রীতিমতো আতঙ্কিত। তাহলে কি নতুন করে আবার মহামারীর প্রকোপে পড়তে চলেছে আমেরিকা?

inscript
৩ মিনিট
সারে না সহজে, অর্ধেক আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ! কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে রীতিমতো লাইন পড়ছে রোগীদের। ডাক্তাররাও হাঁপিয়ে উঠছেন রোগী দেখতে দেখতে। প্রায় প্রত্যেকেই একই রোগে আক্রান্ত। নতুন করে করোনা বাড়ল? মহামারীর আকার নিচ্ছে আবার? না, এই খেল করোনার নয়। বরং আমেরিকার নতুন ত্রাস এখন হয়ে উঠেছে সামান্য একটা ছত্রাক। আর সেটাই মার্কিন মুলুকের অর্ধেকেরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষও রীতিমতো আতঙ্কিত। তাহলে কি নতুন করে আবার মহামারীর প্রকোপে পড়তে চলেছে আমেরিকা?

বিজ্ঞানের ভাষায়, এই বিশেষ ছত্রাকের নাক ক্যান্ডিডা অরিস (Candida auris)। প্রায় ১৫ বছর আগে জাপানে প্রথমবার এই ছত্রাকের সন্ধান পান গবেষকরা। তখন থেকেই এই ছত্রাকজনিত রোগের ব্যাপারেও একটু একটু করে গবেষণা এগোতে থাকে। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (CDC) পরিসংখ্যান বলছে, ওই দেশে ২০১৬ সাল থেকে এই ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। তারপর থেকে যত দিন গিয়েছে, এর সংক্রমণ বেড়েছে। কিন্তু প্রথমে এত মারাত্মক আকার ছিল না। ২০২২ সাল থেকে রীতিমতো ভয়াবহ আকার ধারণ করে এই ছত্রাকটি। আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়তে থাকে।

কী এই ক্যান্ডিডা অরিস?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছত্রাকটি আসলে ইস্টেরই একটি বিশেষ প্রজাতি। কিন্তু এর মারণ ক্ষমতা আর ভয়াবহতা অনেকটাই বেশি। এখনও অবধি পৃথিবীর ৩০টিরও বেশি দেশে এর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এই মুহূর্তে আমেরিকার ৫০টি রাজ্যের মধ্যেই অর্ধেকেরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এটি। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে দেখলে এর ভয়াবহতা বোঝা যাবে। ২০১৯ থেকে ২০২১-’২২, এই ক’বছরের মধ্যে এই ছত্রাকের সংক্রমণ তিনগুণ হয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৩, সেখানে পাঁচ বছর পর ২০২২-এ সেই অঙ্কটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৭৭-এ! হিসেব বলে, ৪০ গুণেরও থেকে বেশি বেড়ে গিয়েছে এর সংক্রমণ। আর তার জেরেই বিপদে পড়েছে মার্কিন মুলুক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের প্রায় ৬ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যে সমীক্ষা চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের চিকিৎসকদের

Fungus Disease India : এবার করোনা নয়, আরও বেশকিছু রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। আর সেই গান পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।

কোথায় আঘাত হানে এই ছত্রাক?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্যান্ডিডা ছত্রাক মূলত মানুষের ত্বকে আক্রমণ করে। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করে, এবং মানুষের গোটা শরীরটাকেই নিজেদের ‘বাসা’ বানিয়ে ফেলে। এবং যেহেতু এটি ছত্রাকজনিত রোগ, তাই আক্রান্তের শরীর, কাপড় কিংবা অন্য ব্যবহৃত জিনিসের সংস্পর্শে এলেই তা ছড়িয়ে পড়ে।

কারা আক্রান্ত হন এই রোগে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঝড়বৃষ্টি হলেই বাড়ছে হাঁপানি? জানেন কোন কঠিন অসুখের শিকার আপনি?

আপনি কি জানতেন হাঁপানি বা অ্যালার্জির সঙ্গে বাজ ও ঝড় দোসর হয়ে আপনার শরীরের কতটা মারাত্মক ক্ষতি করছে?

আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানাচ্ছে, মূলত বয়স্ক মানুষ, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদেরকেই বেশি আক্রমণ করছে এই ছত্রাক। এই রোগের মর্টালিটি রেট প্রায় ৬০ শতাংশ! কাজেই, একেবারে হেলাফেলা করার নয়। এছাড়াও গবেষকরা বলছেন, বিভিন্ন সমস্যায় যাদের চিকিৎসা চলছে, তাঁরাও আক্রান্ত হতে পারেন। কীরকম? যারা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন; এর সঙ্গে যাদের শরীরে শ্বাসনালীর টিউব, ক্যাথিটার, ফিডিং টিউব লাগানো আছে, তাঁদেরও আক্রমণ করতে পারে এই ক্যান্ডিডা ছত্রাক।

রোগের লক্ষণ

বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে এই ছত্রাক আক্রমণ করলে। যে কোনও জায়গা দিয়ে এই ছত্রাক হানা দিতে পারে। শরীরের কোনও কাটা স্থান হোক কিংবা কান – এর প্রবেশের জায়গা ভিন্ন ভিন্ন। একবার এই ছত্রাক হানা দিলে বেশকিছু লক্ষণ দেখা যায়

১) জ্বর

২) তীব্র মাথাব্যথা, সঙ্গে বমি বমি ভাব

৩) শীত শীত ভাব, সঙ্গে চুলকানি, যা সহজে যায় না

সবচেয়ে বড় কথা, করোনা মহামারীর পর এই ছত্রাকের সংক্রমনের হার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বড় আঘাত হেনেছে করোনা ভাইরাস। তারপরই বিভিন্ন রোগ নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র আরও ধারালো করেছে। আরও বড় কথা হল, এখনও অবধি এই রোগের কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, ততই ভালো। নয়ত গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভেন্টিলেশনে যাওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।