বিষাক্ততম সাপের কামড়ে মৃত্যু, ২০ বছরের এই তরুণ না থাকলে তৈরিই হতো না প্রতিষেধক

Snake Antivenom: রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় জিভ নাড়াতে বা গিলতে পারছেন না কেভিন।

inscript
৩ মিনিট
বিষাক্ততম সাপের কামড়ে মৃত্যু, ২০ বছরের এই তরুণ না থাকলে তৈরিই হতো না প্রতিষেধক

একটা মৃত্যুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে অনেকগুলি জীবন। কথাটা খানিক নিজের জীবন দিয়েই প্রমাণ করে গেছিলেন বছর কুড়ির এক তরুণ। নেশা সাপধরা। আর নেশার তাড়াতেই জীবনে বাঁচার শুরুতেই শেষ, যাপনের শুরুতেই মৃত্যু। তবে তাঁর মৃত্যু বাঁচিয়ে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ জীবন। ১৯৫০ সালে এই তরুণ শিক্ষানবিশ হারপেটোলজিস্ট এবং সাপ শিকারি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সাপ জ্যান্ত ধরেছিলেন অ্যান্টিভেনম তৈরির গবেষণায় ব্যবহার করার জন্য। পরিণতি হয়েছিল মর্মান্তিক।

কতই বা বয়স তখন, কুড়ি ছুঁয়েছে সবে। সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া ছেলেটির শখই হচ্ছে সাপ ধরা। তাও যে সে সাপ না। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপগুলিই টানত তাঁকে। কেভিন বুডেন এই অল্প বয়স সত্ত্বেও তাই হয়ে উঠেছিলেন অভিজ্ঞ সাপ শিকারি। স্থানীয় নানা কাগজপত্রে তাঁর বিষাক্ত সাপ ধরার শখের কথা ফলাও করে ছাপা হতো। এক বছরে ৫৯টি সাপ ধরেছিলেন কেভিন। অথচ মাত্র পাঁচবার সাপে ছোবল মারে তাঁকে। সেই পাঁচবার অবশ্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে তাঁর। শেষবার আর ফেরা হয়নি।

২০ বছর বয়সে, কেভিন বুডেন এবং তাঁর দুই সহকর্মী একটি তাইপান সাপ ধরার চেষ্টায় কুইন্সল্যান্ডে গিয়েছিলেন। তাইপান হচ্ছে একটি দ্রুত, অত্যন্ত বিষাক্ত এবং মারাত্মক সাপের প্রজাতি। এই সাপেদের বিষের কোনও অ্যান্টিভেনম ছিল না। সাপের সন্ধানে নেমে কেভিন বুডেন একটি ৬ ফুট লম্বা তাইপান ধরে ফেলেন। যখন সাপটিকে ধরে একটি ব্যাগে ভরতে যান, কোনও মতে ফসকে পালাতে যায় সেটি। পালানোর চেষ্টাতেই সাপটি মোক্ষম এক কামড় বসিয়ে দেয় কেভিনের হাতের বুড়ো আঙুলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চিকিৎসার নামে খুন হয়েছে শ'য়ে শ'য়ে মুরগি! সাপের কামড়ের এই টোটকা শুনে শিউরে উঠবেন

Chicken Anus in Snake Bite Treatment: মুরগিগুলিকে ধরে একের পর এক তাদের মলদ্বারগুলিকে ভালোভাবে প্রসারিত করে সাপে কাটার জায়গাগুলিতে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

মাথা ঠান্ডা রেখে ওই অবস্থাতেই কেভিন অন্য হাত দিয়ে সাপটিকে ধরে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেন। সাপটিকে ওই অবস্থাতেই ধরে মূল রাস্তার দিকে এগিয়ে যান কেভিন। মনে রাখতে হবে, তাইপান যে সে সাপ নয় কিন্তু! এমন একটি মারাত্মক সাপ ধরে রেখেছিলেন কেভিন যার কোনও অ্যান্টিভেনম কোনওদিন তৈরিই হয়নি। তক্ষুনি চিকিৎসা না হলে প্রাণ যেতে পারে কেভিনের। জরুরি চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের কাছে যেতেই হবে কেভিনকে। কিন্তু রাস্তায় উঠে নিজের কথা ভাবা দূর, পথে এক ট্রাক চালককে থামিয়ে সাপটিকে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন কেভিন। কারণ এই তাইপানটি ছিল সেই সময় অবধি ধরা পড়া একমাত্র জীবিত এই গোত্রের সাপ। এই সাপটি জ্যান্ত অবস্থাতেই অ্যান্টিভেনম গবেষকদের কাছে পৌঁছনো দরকার ছিল।

যে সাপটি ধরেছিলেন এবং গবেষকদের কাছে পাঠিয়েছিলেন কেভিন তা মেলবোর্নে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ১৯৫৫ সালে একটি অ্যান্টিভেনম তৈরিতে বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এই সাপটি। তবে কেভিনের অবস্থা ছিল শোচনীয়। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেনোমোলজিস্ট ব্রায়ান ফ্রাই ৮০ বছর পরে ওই বিষের নমুনা দেখেছিলেন। তখনও সেই বিষয় ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর ভয়ঙ্করতম দ্বীপ এটিই! ১১ হাজার বছর ধরে এখানে কেবল বাস বিষাক্ত সাপেদের

Brazil’s Snake Island: যে সাপগুলি ইলহা দা কুইমাদা গ্র্যান্ডে আটকা পড়েছিল তাদের কোনও স্থল শিকারি ছিল না, যার ফলে তারা দ্রুত প্রজনন করতে পারে।

অ্যান্টিভেনম নেই জেনেও কোনও সাপ ধরতে যাওয়া কী ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জিং যে কোনও মানুষই বুঝবেন। যে সাপের বিষ থেকে প্রথম অ্যান্টিভেনম তৈরি হবে সেটি বিশ্বের সেই সাপ, যার ধারে কাছে যাওয়াটাই কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কেভিন এই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। হাসপাতালে আসার পর কেভিনের ডাক্তাররা দেখেন, নিজের সাপে কামড়ের বিষয়টি চেয়েও এই সাপটিকে নিয়েই বেশি চিন্তিত তিনি। কেভিনের বিশ্বাস ছিল, এই সাপের কামড়ে যারা মারা গিয়েছেন, তারা বিষের চেয়েও বেশি মারা গিয়েছেন ভয়ের তাড়নায়। বুড়ো আঙুলটি কেটেও ফেলতে চাননি কেভিন কারণ সেটি সেই যন্ত্রণার চিহ্ন বয়ে চলেছে।

কেভিন বুডেনকে টাইগার স্নেক অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছিল, যা সাপের বিষকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু স্নায়ুতন্ত্রের উপর তাইপানের বিষের প্রভাব ঠেকাতে পারেনি এই অ্যান্টিভেনম। হলুদ তরল বমি করতে শুরু করেন কেভিন। শুরু হয় মারাত্মক মাথাব্যথা এবং পেশিও দুর্বল হতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় জিভ নাড়াতে বা গিলতে পারছেন না কেভিন। মুখ কালো, যেন কী যেন এক শক্তি ভতর থেকে টেনে নিয়েছে সব রস।

চিকিত্সকরা প্রথমে ভেবেছিলেন কেভিন সুস্থ হয়ে উঠবেন কিন্তু পরের দিনই তিনি মারা যান। তাঁর এই মৃত্যু অ্যান্টিভেনমের জন্ম দেয়। তারপর থেকে তাইপানের কামড়ে আর কোনও মৃত্যু ঘটেনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।