ভারতের প্রাচীন 'পচিসি' থেকেই লুডো খেলার উৎপত্তি?
Ludo : ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যযুগীয় ভারতে পচিসি-র সব থেকে উৎসাহী খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সম্রাট আকবর। আগ্রা ও ফতেপুর সিকরি-র প্রাসাদে পচিসি-র জন্য একটি দরবারও নির্মিত হয়েছিল।

‘লুডো’ খেলাটি বৈদিক সভ্যতার অংশ না হলেও, বাংলার জনপ্রিয় এই খেলার প্রাচীন রূপ আসলে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশ। প্রাচীন সময়ে, কাপড় বিছিয়ে লুডো খেলা হত। লুডো খেলা হত, বিভিন্ন ধরনের বোর্ডগুলোতেও। লুডোর প্রাচীন রূপ হল পচিসি। মহাভারতেও কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে লুডো খেলার প্রচলন ছিল। সকলেই হয়তো জানেন, মহাভারতে যুধিষ্ঠির ও শকুনি নিজেদের মধ্যে বহু মূল্যবান সম্পদ বাজি রেখে পাশা খেলেছিলেন। এবং সে পাশা খেলাই পালটে দিয়েছিল সম্পূর্ণ আর্যাবর্তের নিয়তি।
মনে করা হয়, লুডো খেলার একটি প্রাচীনতর রূপ হল পাশাখেলা! মহাভারতে, যুধিষ্ঠির খেলায় পরাজিত হয়ে খেলার পূর্ব শর্তানুযায়ী ভাইদের ও স্ত্রীকে নিয়ে বনবাসে চলে গেছিলেন। যদিও লুডো খেলার ক্ষেত্রে এমন কোনও শর্ত এখন আর থাকে না। বরং অনাবিল এক ভালো-লাগা জড়িয়ে থাকে এই খেলাটির সঙ্গে। হার-জিতের ক্ষেত্রে খেলার উভয় পক্ষই খুঁজে পায় খেলার আনন্দকে।
ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যযুগীয় ভারতে পচিসি-র সব থেকে উৎসাহী খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সম্রাট আকবর। আগ্রা ও ফতেপুর সিকরি-র প্রাসাদে পচিসি-র জন্য একটি দরবারও নির্মিত হয়েছিল। তৎকালীন ভারতের সাধারণ মানুষজনও এই খেলাটির প্রতি খুবই আগ্রহী ছিল, এ-কথা ইতিহাসবিদ আবুল ফজল লিখেছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Snake and Ladder Ludo: সাপ সিঁড়ির ইতিহাস এবং ‘মোক্ষপটে’র ধারণা প্রথম সকলের সামনে আসে দীপক সিংখাদার হাত ধরে।

লুডো খেলার বোর্ড

সাপ লুডো
খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে ইলোরা গুহায় লুডোর প্রাচীন রূপের এক চিত্ররূপ দেখতে পাওয়া যায়। হিমাচল প্রদেশের নূরপুরের একটি চিত্রকর্মেও শিব-পার্বতীকে লুডোর প্রাচীন রূপ 'চৌপড়' খেলতে দেখা যায়। বহু শতাব্দী পূর্বে, জৈন সন্ন্যাসীরা 'মোক্ষপটম' খেলতেন, যা মোক্ষ থেকে দূরে সরে যাবার ধাপগুলোকে নির্দেশ করে। আধুনিক সময়ে এই খেলা বিশ্ব জুড়ে পরিচিত একটি অন্যতম বোর্ড গেম!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
History of Chess: সম্মুখ সমরে ব্যবহৃত চতুরঙ্গ সেনা (পদাতিক, অশ্বারোহী, গজানীক এবং রথারোহী) ক্ষুদ্রকায় হয়ে উঠে আসে চতুরঙ্গের চৌষট্টি চৌখুপি জুড়ে যার মধ্যে দিয়ে আসলে প্রকাশ পায় রাজশক্তির গরিমা।

পাথরের তৈরি লুডো-র গুটি
বর্তমানে, লুডো বিশ্বের অন্যতম বিনোদন এ-বিষয়ে সন্দেহ নেই। অঞ্চল ভেদে লুডোর ভিন্নতাও লক্ষ করা যায়।বাংলায় লুডো তিন রকম, যথাক্রমে,
১. ঘর লুডো
২. সাপ লুডো
৩. পৃথিবী ভ্রমণ লুডো
১৮৯৬ সালে আলফ্রেড কলিয়ার নামে একজন ইংরেজ 'রয়্যাল লুডো'-র পেটেন্ট-এর জন্য আবেদন করেন, এবং তিনি দাবি করেন যে, এই খেলাটি আসলে তাঁর আবিষ্কার। তখন থেকেই 'পচিসি' পরিবর্তিত হয় 'লুডো'-তে। খেলাটির বেশ কয়েকটি পাশ্চাত্য সংস্করণ আছে, যেমন 'পারচিস' (স্পেন), 'পারকুয়েস' (কলম্বিয়া)। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর এক্সট্রা ম্যুরাল স্টাডিস- এর সমন্বয়কারী কুরুশ দালালের বক্তব্য, লুডো একটি বহু প্রাচীন খেলা, অনেকেই জানেন না এই খেলাটি আসলে ভারত থেকেই উৎপত্তি হয়েছে!















