থেমে গেল পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘূর্ণন! উলটোদিকে ঘুরছে গ্রহের কেন্দ্র, কোন আশঙ্কার মুখে মানুষ?

Earth's Core Spinning: আমরা যে ভূপৃষ্ঠে বাস করি পৃথিবীর মূল অংশটি তার থেকে প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার গভীরে রয়েছে।

inscript
২ মিনিট
থেমে গেল পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘূর্ণন! উলটোদিকে ঘুরছে গ্রহের কেন্দ্র, কোন আশঙ্কার মুখে মানুষ?

ঘুরতে ঘুরতে থেমে গেছে! একদিন যদি পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থেমে যায় বা উলটো দিকে ঘোরা শুরু করে? খুব একটা অমূলক নয় এমন ভাবনা। আস্ত গ্রহটা না হোক কিন্তু গবেষণা বলছে, পৃথিবীর কঠিন অভ্যন্তরীণ স্থানটি আসলে যেটা গরম ফুটন্ত লোহার বল তার ঘূর্ণন থেমে গিয়েছে। ঘূর্ণন থামিয়ে বিপরীত দিকে ঘুরতে শুরু করেছে পৃথিবীর অভ্যন্তর। আমরা যে ভূপৃষ্ঠে বাস করি পৃথিবীর মূল অংশটি তার থেকে প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার গভীরে রয়েছে। গ্রহের মধ্যেকার এই গ্রহ স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারে কারণ এটি তরল ধাতবের মধ্যে ভাসছে। ঠিক কীভাবে এই অভ্যন্তরীণ মূলটি ঘোরে তা বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও বিতর্কের বিষয়। কিন্তু মোদ্দা কথা হলো, সে এবার উলটোদিকে ঘুরছে।

অভ্যন্তরীণ এই গোলক সম্পর্কে আমরা যা জানি তা মূলত ভূকম্পনের তরঙ্গ পরিমাপ করার মাধ্যমেই জানা। ভূমিকম্প বা কখনও কখনও পারমাণবিক বিস্ফোরণ দ্বারা সৃষ্ট তরঙ্গ পৃথিবীর মাঝখান দিয়েই যায়। নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণা গত ছয় দশক ধরে ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি থেকে ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণার লেখক, জিয়াওডং সং এবং চিনের পিকিং ইউনিভার্সিটির ই ইয়াং জানিয়েছেন যে, তারা দেখেছেন পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কোরের ঘূর্ণন ২০০৯ সালের দিকে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপরে বিপরীত দিকে ঘুরতে শুরু করে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, তাঁদের মতানুযায়ী পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাপেক্ষে ভিতরের অংশটি ঘূর্ণায়মান হয়, এটি সামনে পিছনে, দোলনার মতো দোলে। এই দোলের একটি চক্র প্রায় সাত দশক। মানে মোটামুটিভাবে প্রতি ৩৫ বছরে তা দিক পরিবর্তন করে। অর্থাৎ ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে দিক পরিবর্তন করেছিল। ফের ২০৪০- এর দশকের মাঝামাঝি দিক বদল হবে। এই বদলের ফলে মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়বে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর দ্রুততম ডুবন্ত শহর, প্রাণে বাঁচতে আস্ত রাজধানী অন্যত্র তুলে নিয়ে যাচ্ছে এই দেশ!

Indonesia Jakarta Sinking: দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাজধানী জাকার্তাকে গ্রাস করতে চলেছে সমুদ্র। ২০৫০ সালের মধ্যে।

গবেষকরা বলেছেন, এখনও অবধি মানুষের উপর এর প্রভাব বোঝার মতো কোনও উপায় নেই। কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত স্তরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্তরের সঙ্গেই ভূপৃষ্ঠের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের অন্য এক অংশ বলছেন, পৃথিবীর কেন্দ্র সম্পর্কে অনেক রহস্যই এখনও অজানা রয়ে গেছে। তথ্যের অভাবে তা নিয়ে কাজ করার পরিমাণও কম।

গত বছর প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে অভ্যন্তরীণ অংশটি আরও দ্রুত দোদুল্যমান, প্রতি ছয় বছর পর পরই সে দিক পরিবর্তন করে। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে দু'টি পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে ভূমিকম্পের তরঙ্গের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই তথ্য সামনে আসে। আরেকটি তত্ত্ব বলছে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অংশটি ২০০১ থেকে ২০১৩-র মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং তারপর থেকে তা স্থিরই রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একজন ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী তাঁর গবেষণা প্রকাশ করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ অংশের ঘূর্ণন প্রতি ২০ থেকে ৩০ বছরে হয়। কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যায় না কারণ তথ্যের অভাবে অভ্যন্তরীণ পৃথিবীর চিত্র এখনও অস্পষ্ট। তবে একটি তত্ত্ব বলছে, ভিতরের এই কোরটির ভিতরে আরও একটি লোহার বল থাকতে পারে, খানিকটা রাশিয়ান পুতুলের মতো।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?