বিজেপির ভেতর ক্রমে গুরুত্ব হারাচ্ছেন শুভেন্দু? ছোট ঘটনায় তুঙ্গে জল্পনা

দিল্লির বিজেপি কী ঝেড়েই ফেলল শুভেন্দু অধিকারীকে? দলে তাহলে গুরুত্ব কমছে বিরোধী দলনেতার?

ত্রিপুরার ভোটে দলের 'স্টার ক্যাম্পেনার' বা তারকা প্রচারকের তালিকায় নাম নেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতার। দলের সহ-সভাপতি তথা রাজ্য শাখার প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ভিন রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে খাতায়-কলমে রাজ্য ছাড়া করার সংবাদে নিশ্চিতভাবেই উল্লসিত হয়েছিলেন দলের শুভেন্দু-গোষ্ঠী। এবার সেই শুভেন্দু অধিকারীকেই 'তারকা' মর্যাদা না দিয়ে ম্যাচ ড্র করে দিলেন শাহ-নাড্ডা।

রাজ্য বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী-সহ ৭ বিজেপি বিধায়কের সাসপেনশন যেদিন প্রত্যাহৃত হল, সেদিনই বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, ত্রিপুরার ভোটে দলের তারকা প্রচারকের তালিকায় রাখা হয়নি বিরোধী দলনেতাকে। শুভেন্দুর নাম না থাকলেও বাংলা থেকে ওই তালিকায় আছেন দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া বিস্ময়করভাবে রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। বাংলার পাঁচ নেতাকে 'স্টার ক্যাম্পেনার' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও কেন বাদ পড়লেন দিল্লির গুড বুকে থাকা শুভেন্দু অধিকারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল চরমে।

আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে হম্বিতম্বি বিধানসভায় দিশেহারা, কেন নেতৃত্বহীন বঙ্গ বিজেপি?

বঙ্গ-বিধানসভার গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে জোরদার হট্টগোল হয়েছিল। শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। ওই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ ৭ বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এই শাস্তির প্রতিবাদে বিধানসভার বাদল অধিবেশন বয়কট ঘোষণা করে বিজেপি। এই ইস্যুতে মামলাও করেন বিজেপি বিধায়করা। তবে কোনও লাভ হয়নি। গত কয়েক দিন ধরে বিধানসভা চত্বরে ধরনায় বসেন ওই বিধায়করা। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু-সহ ৭ বিজেপি বিধায়কের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়।

রাজ্যে 'লড়াই' করে বিধানসভায় ফের প্রবেশাধিকার পেলেও নিজের দলই শুভেন্দুকে ত্রিপুরায় প্রবেশের অনুমতি দিল না। গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অন্যরকম এই বার্তা দিয়ে শুভেন্দুকে কার্যত 'সতর্ক'-ই করল বলে বঙ্গ-বিজেপির একাংশ মনে করছে। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, ওই তালিকায় নাম না থাকার অর্থ, দলে শুভেন্দুর গুরুত্ব কমছে। যে কোনও রাজনৈতিক দলই কোনও নির্বাচনে বা উপ-নির্বাচনে প্রচারের জন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ, বিশিষ্ট তথা জনপ্রিয় নেতাদের সেখানে পাঠায়। এদের বলা হয় 'তারকা-প্রচারক'। এই তালিকায় যাঁরা ঢুকতে পারেন, দলেও তাঁদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। আগামী ২৩ জুন ত্রিপুরার চার কেন্দ্র, আগরতলা, টাউন বারদোয়ালি, সুরমা ও যুবরাজনগরে উপনির্বাচন হবে। চার কেন্দ্রেই প্রার্থী রয়েছে শাসক বিজেপির। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া ডা. মানিক সাহা নিজে প্রার্থী হয়েছেন টাউন বারদোয়ালি কেন্দ্র থেকে। এই চার কেন্দ্রে প্রচারের জন্যই তৈরি হয়েছে বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকা। আর সেখান থেকেই বাদ পড়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা।

এই তালিকায় বাংলা থেকে দিলীপ, সুকান্ত, লকেট, নিশীথ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় রয়েছেন। তালিকায় রূপা কীভাবে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়েও বিজেপির অন্দরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হওয়ার রূপা কার্যত ঘরেই উঠে গিয়েছিলেন। বিচ্ছিন্নভাবে এমন কিছু মন্তব্যও করেছেন, যা দলের অস্বস্তি বৃদ্ধি করে। সেই রূপা দিল্লির কাকে ধরে তারকা-প্রচারকের তালিকায় নাম তুললেন, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

তবে যাবতীয় জল্পনা একাই শুষে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ চর্চা তুঙ্গে, বঙ্গ বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করে সংগঠনকে দুর্বল করার যে অভিযোগ শুভেন্দু-বিরোধী গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে দিল্লিকে জানাচ্ছিল, সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। স্পষ্ট হয়েছে, মোদি-শাহর তথাকথিত 'কাছের লোক' শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল দিল্লি। এখন মুখরক্ষায় শুভেন্দু-লবি যে সাফাই-ই দিক, বাস্তব এটাই, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব 'তারকা' হিসেবে গণ্যই করেননি শুভেন্দু অধিকারীকে। এখন দেখার, অন্য কোনও পথে ধরাধরি করে ওই তালিকায় শুভেন্দু নিজের নাম ঢোকাতে পারেন কি না!

 

More Articles

;