দুর্গাপুজোর পর এবার গঙ্গাসাগর! ইউনেসকোর হেরিটেজ তকমার দৌড়ে কতটা এগিয়ে এই মেলা?

Gangasagar Mela 2023: ইতিমধ্যেই ইউনেসকোর কাছে গঙ্গাসাগর মেলার বিষয়ে আবেদনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে সবটা।

Ramen Das
৩ মিনিট
দুর্গাপুজোর পর এবার গঙ্গাসাগর! ইউনেসকোর হেরিটেজ তকমার দৌড়ে কতটা এগিয়ে এই মেলা?

কলকাতার দুর্গাপুজোর পর এবার বাংলার গঙ্গাসাগর! সাগরদ্বীপের এই পুণ্যক্ষেত্রের মাথায় উঠছে 'হেরিটেজ' (Heritage Gangasagar) মুকুট? ২০২৩-এর গঙ্গাসাগর মেলার শুরুর মুহূর্তেই এই প্রশ্ন উঠেছে ফের। রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরমহলে। বলা হচ্ছে, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অসাধ্যসাধন করতে পারে গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela)। পেতে পারে UNESCO-র 'হেরিটেজ' তকমা, যে সম্মান সম্প্রতি পেয়েছে কলকাতার দুর্গাপুজো। বিরাট সমারোহে সেই ইতিহাস সৃষ্টির উদযাপনও করেছে রাজ্য সরকার।

কেন গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা শুরু হয়েছে? কী কারণে ইউনেসকোর তরফে আসতে পারে স্বীকৃতি?

জানা গিয়েছে, কলকাতার দুর্গাপুজো এবং উৎসবকে ইউনেসকো 'হেরিটেজ' তকমা দেওয়ার পরেই গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও তোড়জোড় শুরু করে রাজ্য। কারণ হিসেবে উঠে আসে কুম্ভমেলার কথা, যেখানেও পুণ্যস্নান এবং পাপমোচনের আশায় উপস্থিত হন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। কয়েকদিন ধরে চলা গঙ্গাতীরের ওই মেলায় হাজির হন অগণিত মানুষ। সেই মেলাকে ইতিমধ্যেই তকমা প্রদান করেছে ইউনেসকো। দুর্গাপুজোর মতোই নয়া ইতিহাস রচিত করেছে কুম্ভ মেলা। আর এই মেলাকে হেরিটেজ তকমা পেতে দেখার পরই ইউনেসকোর কাছে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার।

গত নভেম্বরে গঙ্গাসাগর মেলাকে ইউনেসকোর 'হেরিটেজ' স্বীকৃতির দাবিদার করে তুলতে পদক্ষেপও করে রাজ্য। বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরকৃষ্ণ দ্বিবেদি। সেখানেই নির্দেশ দেওয়া হয় বিভিন্ন বিষয়ে। বিস্তারিত বিবরণ থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর মেলার তাৎপর্যের বিস্তারিত তুলে ধরা, একাধিক ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়ার কথা বলা হয় সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাদের উদ্দেশ্যে। এমনকী দৃশ্য-শ্রাব্য তথ্যচিত্র তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়, যা গঙ্গাসাগর এবং গঙ্গাসাগর মেলাকে তুলে ধরবে বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন গেরুয়াই বেছে নেন ভারতীয় সন্ন্যাসীরা

Indian sant : সাধুদের পোশাকের এহেন রং কেবল একটা মিথ নয়, নয় বেড়ানো অভ্যাসও নয়। এটির নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান

সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ইউনেসকোর কাছে গঙ্গাসাগর মেলার বিষয়ে আবেদনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে সবটা। আর এর পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই ওই মেলায় আসতে পারেন ইউনেসকোর প্রতিনিধিরা। তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই জুটতে পারে এই তকমা। ইউনেস্কোর কাছে আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে আগের এবং এখনকার গঙ্গাসাগর। একাধিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ এবং সামগ্রিক মেলা-ব্যবস্থাপনা; সবটাই উঠে এসেছে ওই আবেদনে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। মূল স্নানের দিন ১৪ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তির দিন। এর আগে পরে এবং স্নানের দিন উপলক্ষ্যে ভিড় জমবে গঙ্গাসাগরে। করোনা কাল ছাড়িয়ে এবছর বিরাট পরিমাণে ভিড় বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। আর এই সমস্ত দিকের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকছে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা।

কলকাতার বাবুঘাট থেকে মুড়িগঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১১টি জায়গায় বাফার জোন থাকবে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগরের পথে এই বাফার জোনেই থাকবে একাধিক ব্যবস্থা। শৌচালয় থেকে পানীয়, রাখা হবে নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থাও।

এদিকে ভিনরাজ্য-সহ একাধিক জায়গা থেকে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর পরিদর্শনে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম জলপথ। সেদিকের কথা মাথায় রেখে, মুড়িগঙ্গার দু'পারে অস্থায়ী, স্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১১টি জেটির বন্দোবস্ত করছে সরকার।

এর সঙ্গেই মেলায় আগতদের জন্য এবার নজিরবিহীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। মেলা অঞ্চলে প্রায় ৫টি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ১০০ জন চিকিৎসক এবং অন্যান্য ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৭০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে থাকছেন রাজ্যের তরফে, গঙ্গাসাগর মেলায়। থাকছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও।

অস্থায়ী শিবির তৈরি হচ্ছে মেলার কাছে। বিরাট এলাকা জুড়ে থাকার ব্যবস্থা রাখছে প্রশাসন। কপিল মুনির মন্দিরে পুজোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। করোনার পরের ভিড় মাথায় রেখেই আঁটঘাট বেঁধে তৈরি রাজ্য। রাজ্যের তরফে থাকছে অতিরিক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা। সরকারের তরফে বেলুড় মঠের কাছ থেকে, প্রায় ১০০-র বেশি বেসরকারি, সরকারি বাসের ব্যবস্থাও থাকছে এই মেলায়।

সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ছাড়িয়ে ফের বিশ্বজনীন হতে চলেছে বাংলার এক উৎসব। অনেকেই বলছেন, একই বছরে একটি উৎসবের সাফল্য আর একটি উৎসবের সাফল্য পাওয়ার লড়াই অভিভূত করেছে বেলুড়মঠের আধিকারিকদের। যা ইউনেসকোকে কেন্দ্র করে মাথাচাড়া দিয়েছে ফের।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।