মমতার সরকারকে টোকা মারা সোজা নয়! মেনে নিলেন অমিত শাহ-ও?

Kanad Dasgupta
৩ মিনিট
মমতার সরকারকে টোকা মারা সোজা নয়! মেনে নিলেন অমিত শাহ-ও?

এমনও হয়? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি৷ অনেক কেন্দ্রীয় সংস্থাই তাঁর নিয়ন্ত্রণে৷ এর মধ্যেই রয়েছে সিবিআই-ও৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেই তিনি বঙ্গ-সফরে এসেছেন৷ আর এই সফর চলাকালীনই এক মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূল ক‌ংগ্রেসের যোগ থাকার অভিযোগ এনে ওই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করলেন খোদ অমিত শাহ-ই!

সিবিআই অমিত শাহ-র দফতরের অধীনে হলেও বিধি বলছে, তিনি সরাসরি কোনও ঘটনার তদন্তে সিবিআইকে নিয়োগ করতে পারেন না। এজন্য হয় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন অথবা আদালতের নির্দেশে কোনও ঘটনার তদন্তভার সিবিআই হাতে নিতে পারে।

কিন্তু এসবই তো টেকনিক্যাল বিষয়৷ মোদ্দাকথা হলো, অমিত শাহ নিজে যে ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন, ঘটনাচক্রে সেই ঘটনার তদন্তের ভার সত্যিই যদি সিবিআইয়ের হাতে যায়, কারও কারও মতে, সেই তদন্ত কখনওই নিরপেক্ষ থাকবে না৷ অনেকেই মনে করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থায় চাকরি করা গোয়েন্দাদের মেরুদণ্ডের সবলতা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে৷ সাধারণ কোনও তদন্তও মানুষের সন্দেহের উর্ধ্বে উঠতে পারে না৷ আর এক্ষেত্রে তো সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন স্বয়ং অমিত শাহ৷

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালেই কাশীপুরে রেল কলোনির পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিজেপি যুব মোর্চা নেতা অর্জুন চৌরাসিয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তৃণমূলকেই নিশানা করে পদ্ম শিবির অভিযোগ এনেছে, অর্জুনকে খুন করার পর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আর বেনজিরভাবে সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিয়ে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ কলকাতায় দাঁড়িয়ে কাশীপুর এলাকার বিজেপি যুবনেতা অর্জুন চৌরাসিয়ার খুনের পিছনে তৃণমূলের যোগ থাকার ইঙ্গিত দিয়ে শাহ বলেছেন, "এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হওয়া দরকার।" এর ঠিক আগে শাহ বলেছেন, "অর্জুন চৌরাসিয়ার রাজনৈতিক হত্যা হয়েছে। জঘন্যভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল তৃণমূল সরকারের বর্ষপূর্তি হয়েছে। তার পরের দিনই রাজ্যে রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা ঘটল। সারা বাংলায় বিরোধী নেতাদের বেছে বেছে হত্যা করার একের পর এক উদাহরণ সামনে আসছে।" একই সঙ্গে শাহ জানিয়েছেন, রাজ্যের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এই খুনের ঘটনাকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন শাহ যে, শুক্রবার উত্তরবঙ্গ থেকে শহরে ফিরেই তিনি যান কাশীপুরে। সেখানে চৌরাসিয়া পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরেই শাহ বলেন, ‘‘এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।"

প্রশ্ন উঠেছে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই যেখানে ন্যূনতম তদন্তের আগেই এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত আছে বলেছেন, সেখানে কোন সিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করার সাহস দেখাবে? রাজনৈতিক মহলের অভিমত, তদন্ত শুরুর আগেই কলকাতা পুলিশের তদন্তকে রাজনৈতিক কারণেই নস্যাৎ করতে চাইছেন শাহ৷ প্রকৃত তদন্ত হোক, তা চাইছেন না তিনি৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইছেন, যেভাবেই হোক, তদন্তে নামুক সিবিআই৷ নিহত অর্জুন চৌরাসিয়ার পরিবারও সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে। সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতে মামলাও করছে গেরুয়া শিবির৷ কারণ, রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের অনুমতি না দিলে, আদালত সেই কাজ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শাহ৷ সিবিআই তদন্ত দাবি করে আদালতে গেলেই উপযুক্ত রায় পাওয়া যাবে, এমন ইঙ্গিত দিয়েও এদিন অমিত শাহ বলেন, ‘‘গত কয়েকদিনে অনেকগুলি ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দেশের কোথাও এত কম সময়ের মধ্যে এতগুলো সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার নজির নেই। এটাই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মতো আদালতেরও রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা নেই।’’

ওদিকে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের শাসক দলের তরফে বলা হয়েছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে চক্রান্তে নেমেছেন স্বয়ং শাহ৷ তদন্তকে প্রভাবিত করতে চাইছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ নিজের মন্ত্রকের অধীনস্থ সিবিআইকে ব্যবহার করেই শাহ ফাঁসাতে চান তৃণমূলকে৷ তৃণমূল বলছে, বড় চক্রান্ত হচ্ছে রাজ্যের শাসক দল ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে৷ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই চক্রান্তের মাথা৷

আর সাধারণ মানুষ বিস্মিত, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পদমর্যাদার অবমাননা করে স্রেফ বিজেপি নেতার মতো কাজ করে গেলেন কেন? বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিকে তিনি নিজেই যেখানে নস্যাৎ করলেন, সেখানে এমন কেন্দ্রীয় গা-জোয়ারির নজির কেন রাখলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।