খেলা দেখতে এসে রানি মজলেন প্রেমে! বিশ্বের প্রাচীনতম সেই ক্লাব আছে কলকাতাতেই

Calcutta Polo Club: অনেকেই হয়তো জানেন না, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পোলো ক্লাব কলকাতায় অবস্থিত।

Arunava Nag Roy
৪ মিনিট
খেলা দেখতে এসে রানি মজলেন প্রেমে! বিশ্বের প্রাচীনতম সেই ক্লাব আছে কলকাতাতেই

বনেদিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার এক অপূর্ব সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে কল্লোলিনী তিলোত্তমায়। এই শহরের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে খেলা। ভারতীয় ফুটবলের মক্কা বলা হয় কলকাতাকে। কলকাতার দুই ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের দ্বৈরথ সর্বজনবিদিত। সমগ্র এশিয়াতে জনপ্রিয় এই লড়াই। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। আমাদের কলকাতাতেই অবস্থিত ইডেন গার্ডেনস। ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যশালী স্টেডিয়াম এটি। তৃতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামও বটে। কলকাতায় এহেন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যিনি ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা জানেন না। সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতা শহরে ক্রিকেট এবং ফুটবলের একটি ‘কালচার’ আছে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, এই শহরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরেকটি খেলা। খেলাটি হলো পোলো।

অনেকেই হয়তো জানেন না, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পোলো ক্লাব কলকাতায় অবস্থিত, ক্যালকাটা পোলো ক্লাব। এই খেলাটির উদ্ভাবন করা হয়েছিল সমাজের সম্ভ্রান্ত এবং উচ্চবর্গের মানুষের জন্য। ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে খুব জনপ্রিয় এই খেলাটি। রাজা চার্লস, প্রিন্স ফিলিপ, প্রিন্স হ্যারি, প্রিন্স উইলিয়াম- এঁরা প্রত্যেকেই এই খেলাটি প্রফেশনাল স্তরে খেলেছেন। শোনা যায়, রাজা পঞ্চম জর্জের সোনার তৈরি পোলো স্টিক ছিল। তবে ইংরেজদের মধ্যে জনপ্রিয় এই খেলাটির জন্ম আসলে হয়েছিল পূর্ব ভারতের মণিপুরে। শোনা যায়, ১২১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবক এই পোলো খেলতে গিয়েই ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। পরবর্তীকালে আকবরের সময় পোলো খেলার বিস্তৃতি ঘটে ভারতে। সম্রাট আকবর পোলো খেলার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম তৈরি করেন এবং সেগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়। এভাবেই জন্ম হয় আধুনিক পোলো খেলার। মণিপুরের রাজপরিবারে পোলো বা ‘পুলু’ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে এলে তারা এই খেলাটি দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং নিজেদের দেশেও এই খেলার বিস্তার ঘটায়। খেলোয়াড়রা অত্যন্ত দামি লিনেনের জামাকাপড় পরে, দামি ঘোড়ায় চেপে এই খেলাটি খেলতেন বলে ক্রমে এই খেলাটি সম্ভ্রান্তদের খেলা বলে পরিচিত হতে শুরু করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তিলোত্তমা কলকাতাকে নাকি বলা হত 'ব্ল্যাক টাউন'! নেপথ্যে কোন কারণ

The Black Town: ১৮৪৫ সালে গভর্নর এক কমিটি বসিয়েছিলেন শহরের অবস্থা সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ব্ল্যাক টাউনে নাকে রুমাল গুঁজে পায়ে হেঁটে চলতে হয়েছে তাঁদের।

ব্রিটিশরা ভারতীয়দের থেকে পোলো খেলা শিখে গিয়েছিল। সেই সময় ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা। স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীতে একটি পোলো ক্লাব তৈরি করার কথা চিন্তা করতে থাকে ব্রিটিশরা। ১৮৬২ সালে ব্রিটিশরা বিশ্বের প্রথম পোলো ক্লাব নির্মাণ করেন কলকাতায়। দুই ব্রিটিশ মেজর, ক্যাপ্টেন রবার্ট স্টুয়ার্ট এবং জো শেরার উদ্যোগ নেন কলকাতার বুকেই একটি পোলো ক্লাব তৈরির। যেখানে শুধু পোলো খেলাই নয়, থাকবে এই খেলা অনুশীলন করার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামোও। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। কলকাতার রেস কোর্সের বুকেই গড়ে উঠল আস্ত একটি ক্লাব, ক্যালকাটা পোলো ক্লাব। তৎকালীন সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলিতে এই খেলাটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে ভারতে এই খেলা কেবলমাত্র নবাব বা রাজপরিবারের মানুষদের কাছেই সমাদৃত ছিল।

পোলোর জন্ম হলো পূর্ব ভারতে, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন পোলো ক্লাব কলকাতায় তৈরি হলো, কিন্তু তা সত্ত্বেও খেলাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হতে ব্যর্থ হলো। গতবারের অলিম্পিকসে প্রথমবারের জন্য অংশ নিয়েছিলেন কোনও ভারতীয় পোলো খেলোয়াড়, ফাওয়াদ মির্জা। ক'জন রেখেছে সেই খবর? বাঙালির কাছে আজও ঘোড়া বলতে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে নেতাজি আর রেসকোর্সের ঘোড়দৌড়। তবে এই পোলোর কারণে কিন্তু এক বাঙালি রাজকন্যা পেয়েছিলেন তাঁর ড্রিম ম্যান-কে। ১৯৩১ সালে কলকাতায় পোলো খেলতে এসেছিলেন একুশ বছরের এক তরুণ। তাঁর প্রেমে পড়লেন বছর বারোর এক কিশোরী। এই তরুণটি হলেন জয়পুরের মহারাজা সওয়াই মান সিংহ এবং কিশোরীটি হলেন তৎকালীন কোচবিহারের রাজকুমারী এবং পরবর্তীকালে জয়পুরের মহারানি, গায়ত্রী দেবী। দু'জনেই দারুন পোলো খেলতেন। ছয় বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর অবশেষে ১৯৩৭ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন তাঁরা। সাতের দশকে দেশে এমার্জেন্সির সময় এই গায়ত্রী দেবীর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর সংঘাত হেডলাইন কেড়েছিল সকল সংবাদপত্রের। গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছেন এই অভিযোগে মহারানি গায়ত্রী দেবীর প্যালেস খুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। যাক সেকথা, ফিরে আসা যাক পোলোয়।

কলকাতায় ১৮৬২ সালে চালু হলো প্রথম পোলো ক্লাব। কিন্তু জানেন কি, বিশ্বের প্রথম পোলো টুর্নামেন্টও কিন্তু চালু হয়েছিল এই শহরেই। সেই সময় কলকাতায় ব্যবসা করতে এসেছিলেন স্যর জোসেফ এজরা। এঁর নামেই বড়বাজার মার্কেটের কাছে রয়েছে ‘এজরা স্ট্রিট’। উনিশ শতকের সাতের দশকে কলকাতায় পোলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন এই ইহুদি বণিক। ব্যবসার পাশাপাশি পোলোর নেশায় চেপে ধরে তাঁকে। ১৮৮০ সালে স্যার জোসেফ এজরা ঠিক করেন, একটি পোলো টুর্নামেন্ট করাবেন। আয়োজিত হয় বিশ্বের প্রথম পোলো টুর্নামেন্ট এজরা কাপ। সেই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের খ‍্যাতনামা ব্যক্তিত্বরাও নিজেদের দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট খেলতে আসতেন কলকাতায়। কয়েকটি বাঙালি দলও খেলত এই টুর্নামেন্টটি। বলাই বাহুল্য, দলগুলির পৃষ্ঠপোষকতা করতেন কয়েকজন এক উচ্চবিত্ত বাঙালি। তবে এজরা কাপ ছাড়াও বিশ্বের আরও ১০টি ঐতিহাসিক পোলো ট্রফি যেমন- কারমাইকেল কাপ (১৯১০) এবং স্টুয়ার্ট কাপ (১৯৩২)- এগুলিরও জন্ম কলকাতাতেই। ১৯০৭ সালে অল ইন্ডিয়া পোলো অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সারা ভারতব্যাপী পোলো টুর্নামেন্ট প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়। সেই টুর্নামেন্টটি খেলা হয় ক্যালকাটা পোলো ক্লাবে।

বর্তমানে স্যর জোসেফ এজরাও নেই, নেই সমাজের উচ্চবিত্তদের পোলোর প্রতি তেমন আকাঙ্ক্ষা বা উদ্যোগও। তবে সময়ের সঙ্গে কি কালের অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছে ক্যালকাটা পোলো ক্লাব? এর উত্তর ‘হ্যাঁ’-ও, আবার ‘না’-ও। ভৌগোলিকভাবে বলতে গেলে চৌরঙ্গী রোডের ওপর এখনও টিমটিমে বাতি জ্বালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে ১৬০ বছর পুরনো ক্যালকাটা পোলো ক্লাব। তবে সেই জৌলুস বা উন্মাদনা এখন আর নেই। হারিয়ে না গেলেও হারিয়ে যেতে বসেছে পোলোর প্রতি বাঙালির উৎসাহ। গুটিকয়েক মানুষ আজও প্রশিক্ষণ নিতে যান পোলোর। তবে বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামোর অভাবে একটু একটু করে মুছে যাচ্ছে ক্যালকাটা পোলো ক্লাব। বাঙালি ক্রিকেট-ফুটবলকে হৃদয়ের অন্তপুরে বসিয়ে রাখলেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পোলোর থেকে। এটাই বাস্তব।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।