প্রথম মুদ্রিত বাংলা বই কেন রোমান অক্ষরে ছেপেছিলেন পর্তুগিজরা?

Portuguese in West Bengal : বাংলা ভাষার ভেতর বেশ কিছু পর্তুগিজ শব্দের চল রয়েছে, এ-কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। আলমারি, চাবি, আলপিন, ফিরিঙ্গি, বারান্দা ইত্যাদি সবই পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।

Mukut Tapadar
২ মিনিট
প্রথম মুদ্রিত বাংলা বই কেন রোমান অক্ষরে ছেপেছিলেন পর্তুগিজরা?

পৃথিবীতে এমন কোনও ভাষা নেই যেখানে একটি ভাষার মধ্যে অন্য ভাষার শব্দ প্রবেশ করেনি। বাংলা ভাষাতেও অজস্র বিদেশি শব্দের ব্যবহার করা হয়। এক সময় বাংলায় বাণিজ্যের কারণে ইউরোপীয় বণিকরা যাতায়াত করত। পর্তুগিজ, ডাচ, ফরাসি, ব্রিটিশদের সংস্কৃতি ক্রমেই প্রবেশ করেছে বাংলার সংস্কৃতিতে।

পর্তুগিজরা প্রথম বাংলায় আসে ১৫১৭ সালে। গঙ্গার পশ্চিম দিকে হুগলিতে তারা নিজদের বাণিজ্যকেন্দ্র গড়েছিল। শুধু যে ছানা আর চিজ তৈরির কায়েদা তাদের থেকে বাংলার সংস্কৃতিতে এসেছে, এমনটা নয়। আরও অনেক উপাদানই তাদের কাছ থেকে বাংলায় প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে প্রধান হল বিদেশি শব্দ। যেমন, বাংলা ভাষার ভেতর বেশ কিছু পর্তুগিজ শব্দের চল রয়েছে, এ-কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। আলমারি, চাবি, আলপিন, ফিরিঙ্গি, বারান্দা ইত্যাদি সবই পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় আজও বসে শতাব্দী প্রাচীন কুম্ভমেলা।। কেমন তার আকার-প্রকার?

Tribeni, Anu Kumbhmela: কুম্ভতীর্থ, কুম্ভস্নান রূপে প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী কালে-কালে ধন্য হয়েছে কিন্তু ‘চণ্ডীমঙ্গল’ থেকে ‘মনসামঙ্গল’-এ গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গম ত্রিবেণীর নাম বাংলার এক আদি তীর্থক্ষেত্র হয়ে রয়েই গেছে।

বাংলা সাহিত্যে প্রথম ব্যাকরণ ছাপা হয় ইউরোপীয়দের হাত ধরে। আঠারো শতকে বাংলার ব্যস্ত দুটি বন্দর ছিল চট্টগ্রাম ও সপ্তগ্রাম। হুগলি-র সপ্তগ্রাম ছিল তখনকার বাংলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। ইতিহাসবিদ জাও-ডি-ব্যারোস ও হেজেসের ভ্রমণকাহিনি থেকে জানা যায় যে, সেই সময় বড়-বড় জাহাজ হাওড়ার বেতড় পর্যন্ত আসত। তারপর ছোট-ছোট জলযানে করে বিভিন্ন পণ্য বণিকেরা হুগলি নদীর ধারে সপ্তগ্রামে নিয়ে আসতেন। চালান করা হত সুতির কাপড়, মসলিন, মশলা প্রভৃতি পণ্য। পর্তুগিজরা বেতড়কে বলতেন 'বাটার'। হুগলিকে বলতেন 'ওগুলি'। পর্তুগিজ বণিকেরা চট্টগ্রামকে বলতেন বড় স্বর্গ বা 'পোর্ট-গ্রান্ডী'। সপ্তগ্রামকে বলতেন ছোট স্বর্গ বা 'পোর্ট পিকানো'। ক্রমেই, বণিক থেকে তারা হয়ে উঠেছিল জলদস্যু। বাংলার একাধিক জায়গায় তারা ক্যারাভেলে করে আক্রমণ চালাত। সকলেই জানেন হয়তো, মোঘলদের সঙ্গেও পর্তুগিজদের যুদ্ধ হয়েছিল।

টেরাকোটা শিল্পে পর্তুগিজ বণিকদের জাহাজ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান থেকে পালিয়ে এদেশে! ভারতীয় খাবারের সংস্কৃতিতে যেভাবে মিশে গেলেন পার্সিরা

Parsi cuisine: পার্সি পরিবারে নতুন কোনও সদস্যের জন্ম হলে জন্মদিনে সুজি, গোলাপজল দুধ আর শুকনো ফল দিয়ে তৈরি হয় রাভা বা সুজির পুডিং। বাড়ির অন্য কেউ খাওয়ার আগে এই পুডিং পড়শিদের বাড়ি বাড়ি বিলি করা হয়।

ভারতের গোয়াতে পর্তুগিজরা প্রথম ছাপাখানা চালু করে, যা মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বাংলা সাহিত্যে প্রথম ব্যাকরণ বইটি তারাই প্রথম ছেপে প্রকাশ করে। উপনিবেশবাদ অনুযায়ী, যারা ক্ষমতাবান তারা চিরকালই দমিত মানুষদের জানবার চেষ্টা করেছে, তাদের রীতিনীতি শেখবার আগ্রহ দেখিয়েছে, নিজেদেরই প্রয়োজনে। উপমহাদেশে পর্তুগিজরা প্রথম ছাপাখানা খুলেছিল মুঘল যুগে, সম্রাট আকবরের আমলে। পর্তুগিজ মিশনারিরাই প্রথম বাংলা ভাষায় মুদ্রিত গ্রন্থ রচনা করেন, এটি ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে, বইটি ছাপা হয়েছিল বাংলায় নয় রোমান অক্ষরে।

পর্তুগিজদের দ্বারা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গ্রন্থ হল 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থবেদ'। এরপর খ্রীষ্ট ধর্ম বিষয়ক লেখা, সংবাদ, ব্যাকরণ ও অভিধান নিয়ে আরও তিনটি বই পর্তুগাল শহর থেকে ছেপে বের হয়। প্রথম বইটি রচনা শুরু হয় ১৭৩৪ সালে। এবং বইটির প্রকাশকাল ১৭৪৩ সাল। যা বাংলা গদ্য-ইতিহাসের এক প্রাচীন নিদর্শন। বইটি রচনা করেন ম্যানুয়েল দা আস্‌সুম্পসাঁউ। এর অনেক বছর পরে পঞ্চানন কর্মকার বাংলা ও সংস্কৃত হরফের ছাঁচ নির্মাণ করলে হ্যালহেড বা হালেদ সাহেবের বাংলা বইটি মুদ্রিত হয়।

লিখেছেন
Mukut Tapadar
Mukut Tapadar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।