কেন ভারতীয় পুরুষরা আক্রান্ত হচ্ছেন স্তনের ক্যান্সারে? কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

Male Breast Cancer: পুরুষদের স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার কোনও উপায় নেই, ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক উপায়েই কমানো যেতে পারে।

inscript
৪ মিনিট
কেন ভারতীয় পুরুষরা আক্রান্ত হচ্ছেন স্তনের ক্যান্সারে? কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

ব্রেস্ট ক্যান্সার। সাধারণত মহিলাদের মধ্যেই অতি পরিচিত ধরনের এক ক্যান্সার! তবে পুরুষদের যে এই রোগ থেকে কোনও বিপদ নেই, তা একেবারেই না। মহিলারা এখনও স্তনের ক্যান্সার নিয়ে সচেতন নন। যার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ সমাজলালিত মহিলাসুলভ লজ্জা। স্রেফ সময়ে ধরা না পড়ার কারণে বহু মহিলা স্তন ক্যান্সারে প্রাণও হারিয়েছেন। একই সমাজ পুরুষদেরও লজ্জিত হতে শিখিয়েছে এই রোগ নিয়ে। পুরুষের স্তনের ক্যান্সার শুনে লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই তা প্রকাশ করেন না, যার ফল হয় বিপজ্জনক। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি বলছে, পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিরল। সমস্ত স্তন ক্যান্সারের ১% এরও কম পুরুষদের মধ্যে ঘটে। তবে ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের মধ্যে আক্রমণাত্মক স্তন ক্যান্সারের প্রায় ২,৩৫০ টি নতুন ঘটনা সামনে আসে। আর মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার ইদানিংকালে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার কী?

পুরুষ স্তন ক্যান্সার এমন এক বিরল ক্যান্সার যা পুরুষদের স্তনের টিস্যুতে কোশের বৃদ্ধির ফলে দেখা যায়। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য বলছে, সাধারণত বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেই এটি ঘটে। তবে যেকোনও বয়সেই এখন এই স্তন ক্যান্সার ঘটতে পারে। বয়ঃসন্ধির সময়, মহিলাদের স্তনের টিস্যু বেশি বৃদ্ধি পায়। পুরুষরা তা পায় না। যেহেতু প্রত্যেকেই দেহেই অল্পবিস্তর পরিমাণে স্তনের টিস্যু থাকেই জন্ম থেকে তাই যে কারও স্তন ক্যান্সার হতে পারে।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার সাধারণত দুই ধরনের হয়: ডাক্টাল কার্সিনোমা এবং লোবুলার কার্সিনোমা। প্রথমটিতে, ক্যান্সার কোশগুলি দুগ্ধনালির মধ্যে শুরু হয় এবং তারপরে স্তনের টিস্যুর অন্যান্য অংশে ওই দুগ্ধনালিগুলির বাইরে বৃদ্ধি পায়। এটি পুরুষের স্তন ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, বুকের দুধ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে এমন গ্রন্থিগুলিতে ক্যান্সার শুরু হয়। এই গ্রন্থিগুলোকে লোবিউল বলা হয়।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি অনুসারে, এই বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের প্রায় ২,৭৯০ টি নতুন ঘটনা ধরা পড়েছে এবং প্রায় ৫৩০ জন পুরুষের স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তথ্য বলছে, স্তন ক্যান্সার শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে প্রায় ১০০ গুণ কম সাধারণ। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে এটি প্রায় ৭০ গুণ কম সাধারণ।

ভারতে, পুরুষের স্তন ক্যান্সারের ঘটনা ১.০৩% কিন্তু ভারতে তিনটি গবেষণা ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল প্রকাশ করেছে। বেঙ্গালুরুর কিদওয়াই মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট অফ অনকোলজির সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট চিকারাদ্দি এসবির একটি সমীক্ষা বলছে, সমস্ত স্তন ক্যান্সারের হার ০.৪%। রাই বি এট আলের একটি গবেষণা বলছে পুরুষের স্তন ক্যান্সারের ঘটনা ০.৫%। আর কাশ্মীরের শাহ পি এট আল সমীক্ষা বলছে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের হার ৪.১%।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহিলাদের জন্য কতটা নিরাপদ সারভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকা? আতঙ্ক বাড়াবে ভ্যাকসিনের এই রহস্য

Cervical cancer Vaccination : এই ভ্যাক্সিনের ট্রায়ালের পরীক্ষায় মারা যান সাতজন কিশোরী। যার মধ্যে পাঁচ কিশোরী অন্ধ্রের এবং বাকি দুইজন গুজরাতের।

কোন পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষদের বয়স গড়ে প্রায় ৭২, যে সময়ে তাদের এই ক্যান্সারটি ধরা পড়ছে। যদি কোনও পুরুষ ইস্ট্রোজেন-সম্পর্কিত ওষুধ খান, যেমন প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় হরমোন থেরাপির জন্য ব্যবহৃত হয় এই ওষুধ ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাঁর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বুকের কাছাকাছি অংশ যদি মাত্রাতিরিক্ত বিকিরণের কাছে বেশিক্ষণ থাকে তাহলে পুরুষের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্থূলতার কারণেও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে কারণ এর ফলে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায়।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের আরেকটি কারণ হল ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম। এই সিন্ড্রোম থাকা পুরুষদের দেহে X ক্রোমোজোমের একাধিক অনুলিপি থাকে। সেভাবেই তাঁদের জন্ম হয়। ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম অণ্ডকোষের বিকাশকে প্রভাবিত করে। এটি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটায়, যা পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লিভারের সিরোসিসের মতো কিছু ক্ষেত্রে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঘেঁটে যায় যার ফলে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণগুলি মহিলাদের মতোই। বুকের ওই অংশে ব্যথাহীন পিণ্ড, বা বুকের চামড়ায় পরিবর্তন, ফোলাভাব বা ত্বকের রঙের পরিবর্তন হতে পারে। বুকের অংশে ত্বকের লাল হওয়াও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। কিছুক্ষেত্রে বুক থেকে সামান্য রক্তক্ষরণও হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুই স্তন কেটে কলাপাতায় মুড়ে তুলে দিয়েছিলেন হাতে! দলিত নাঙ্গেলি কেন প্রতিবাদেরই ছদ্মনাম?

Breast Tax: নিজের স্তন দুটো কেটে কলা পাতায় মুড়িয়ে এনে স্তন শুল্ক দিয়ে নাঙ্গেলি বলেন, "যে জিনিসের জন্য আমাকে অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হয়, সেই জিনিসই আমি রাখব না।"

ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, বুকে ঘা বা আলসারের পাশাপাশি স্তনবৃন্তের আকার বা চেহারায় পরিবর্তনও এর লক্ষণ। উল্টানো স্তনবৃন্ত বা স্তনবৃন্তে ফুসকুড়িও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

কীভাবে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব?

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার কোনও উপায় নেই, ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক উপায়েই কমানো যেতে পারে।

যদি পরিবারে BRCA1 এবং BRCA 2-এর মতো কিছু ডিএনএ পরিবর্তন ঘটে তাহলে সেই পরিবারের পুরুষের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জেনেটিক পরীক্ষা এবং ব্রেস্ট স্ক্রিনিং করা এক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই পরীক্ষা করানো দরকার।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে অস্ত্রোপচার। সবচেয়ে সাধারণ অস্ত্রোপচার হচ্ছে মডিফায়েড র‍্যাডিকেল ম্যাস্টেক্টমি। এতে, স্তনবৃন্ত সহ সম্পূর্ণ স্তন এবং কখনও কখনও বুকের নীচের কিছু পেশি এবং বগলের নীচের লিম্ফ নোডগুলি বাদ দেওয়া হয়।

অন্যান্য চিকিত্সার মধ্যে আছে -

রেডিয়েশন থেরাপি: অস্ত্রোপচারের পরে রেডিয়েশন ক্যান্সারের সেই কোশকে মেরে ফেলতে পারে যা অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায় না। টিউমার সঙ্কুচিত করার জন্য অস্ত্রোপচারের আগেও রেডিয়েশন দেওয়া যেতে পারে। কেমোথেরাপির সঙ্গেই রেডিয়েশন দেওয়া যেতে পারে।

কেমোথেরাপি: ক্যান্সারের কোশগুলিকে মেরে ফেলার জন্য অ্যান্টিক্যান্সার ওষুধের ব্যবহার হয় কেমোথেরাপির মাধ্যমে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি ক্যান্সারের কোশের বৃদ্ধি বা পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে কাজ করে।

হরমোন থেরাপি: ক্যান্সারের চিকিত্সা হিসাবে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে হরমোনের কার্যকলাপে বাধা দেওয়া বা হরমোন উত্পাদন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। হরমোন থেরাপি শুরু হওয়ার আগে, ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টর উপস্থিত আছে কিনা তা দেখতে হরমোন রিসেপ্টর পরীক্ষা করেন ডাক্তাররা।

যে পুরুষদের জেনেটিক মিউটেশন আছে, তাদের ৩৫ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত। বছরে একবার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন আর ৫০ বছর বয়সে গিয়ে একবার ম্যামোগ্রাফি করানোও অত্যন্ত জরুরি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।