শান্তিনিকেতনে শুধু ফান্ড বাগিয়ে, এসি গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়ানোই এনজিও-র কাজ!

NGO's in Shantiniketan: এমন অনেক এনজিও আছে যাদের বোলপুর বা শান্তিনিকেতনের ঠিকানা থাকলেও তাদের সেই অর্থে এখানে কোনও অস্তিত্বই নেই। যাকে বলে কাগুজে সংস্থা আর কী!

Ladly Mukhopadhaya
৫ মিনিট
শান্তিনিকেতনে শুধু ফান্ড বাগিয়ে, এসি গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়ানোই এনজিও-র কাজ!

দেখা গেছে, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কিছু মানুষ সমাজ বিবর্তনের ধারায় পিছিয়ে থাকা, মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিপীড়িত জনসমষ্টির জন্য কিছু উন্নতিসাধন করতে চায়। তা সে একজন স্বতন্ত্র ব্যাক্তিই হোক, কোনও সমষ্টিই হোক বা কোনও সংস্থাই হোক। এখানে যখনই কোনও সংস্থার বা সোসাইটির কথা চলে আসবে অর্থাৎ তার ডাকনাম যদি এনজিও হয় তখন বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব সেই উল্লিখিত সংস্থার ওপর বর্তায়, যা কিনা জনহিতৈষণায় সবিশেষ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে যেমন পরিবেশ রক্ষার কাজ থাকে, তেমনই শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন বা এই ধরনের নানা সামাজিক উন্নয়নের কাজ বা সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, উন্নত সমাজের সমর্থনে এই সংস্থাগুলির অভিপ্রায় সর্বদা ক্রিয়াশীল থাকে। এগুলো কোনও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয় না। সামাজিক নানাবিধ উদ্বেগের সমাধান করা বা সেই প্রশ্নে ক্রমাগত কাজ করে যাওয়াই এই সব সংস্থার মূল উদ্দেশ্য এবং যা একটি সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এই কর্মযজ্ঞ, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় সেল্ফলেস সোশ্যাল সার্ভিস।

তবে সব কি এভাবেই চলে? এর সরাসরি উত্তর হলো, না, চলে না। তার মানে এও বলব না যে, কেউই এই পথে থাকে না। এমন অনেকানেক এনজিও আছে যারা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে নিরন্তর। আবার কোনও কোনও সংস্থা নানাভাবে এই পদ্ধতির ঢালাও অপব্যবহারও করছে। এনজিওগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি নানা অর্থ অনুদান হিসেবে ব্যবহার হয়। এমনকী চাঁদা ও সদস্যদের থেকেও টাকা নেওয়া হয়। এখন সমস্যা হচ্ছে সেই অর্থের বিলিবন্টন নিয়ে প্রায়শই নানা প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, এই অনুদান ও সাহায্য কতটা তাদের কার্যক্রমে যথাযথ ব্যবহার হয়?

এ তো গেল অনুপুঙ্খ ভূমিকা। এই পর্যায় থেকেই এবার ঘুরে দেখব শান্তিনিকেতন। এই অঞ্চলের বিবর্তন ও উন্নয়ন কিংবা বলা যায় নানা ক্ষেত্রের অসামঞ্জস্যে এই ধরনের সংস্থাগুলির ভূমিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বোলপুর মহকুমায় সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শো বা তার অধিক এনজিও আছে। সংখ্যায় এত বেশি হওয়ার কারণ স্বভাবতই 'শান্তিনিকেতন'। কেননা এটা যেমন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তেমনই রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীও সারা পৃথিবীতেই সম্যক পরিচিত, সে কারণেও। এর ফলে দেশি ও বিদেশি অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। সেই জন্য এমন অনেক এনজিও আছে যাদের বোলপুর বা শান্তিনিকেতনের ঠিকানা থাকলেও তাদের সেই অর্থে এখানে কোনও অস্তিত্বই নেই। যাকে বলে কাগুজে সংস্থা আর কী! কারও একটা বাড়ি আছে কিন্তু আসা-যাওয়া নেই। কেউ কেউ ঘর ভাড়া নিয়েছে শুধুমাত্র ঠিকানার কারণে, শান্তিনিকেতনের কারণে। ওইটুকুই। তবে আর একটা কারণেও এরা এমনটা করে। তা হলো, বীরভূম অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের সারণি বা সূচিতে আনেকটাই নীচের দিকে। এও এক মস্ত প্রবঞ্চনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মদ, মাংস এবং ... হোটেল-রিসর্টময় শান্তিনিকেতন এখন যেখানে দাঁড়িয়ে

Shantiniketan Hotels & Resorts: আমোদগেঁড়ে শহুরে বাঙালি এই অঞ্চলে পৌঁছেই মদের দোকানে ছোটে। ক্যানাল পাড়ে, সামান্য বেঁচে থাকা জঙ্গলে, খোয়াইয়ের আনাচেকানাচে, কোপাইয়ের ধারে চলে মোচ্ছব।

আসলে, চাইলে অনেক কিছুই করা যায়। সরকার সব কাজ করতে পারে না বা করে না। তার জন্য যে সদিচ্ছা প্রয়োজন তার বিন্দুমাত্র নেই প্রশাসনের। কিন্তু এনজিও-গুলি? তারা শুধু ফান্ড গুটিয়ে এসি গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়াবে? মিথ্যে সাজানো ছবি তুলবে আর মনগড়া রিপোর্ট দেবে ফান্ডিং এজেন্সিকে?

সে এক মারাত্মক মিথ্যার বেসাতি। অথচ চাইলে বা সদিচ্ছা থাকলে এতদঞ্চলে কাজের অভাব নেই। অভাব আর অভাব! প্রান্তিক গ্রামগুলো ধুঁকছে। শিক্ষার আলো নিভু নিভু। আদিবাসীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও বিস্তৃত রূপ ধারণ করেছে। প্রয়োজনের তুলনায় স্কুলের সংখ্যা যেমন কম তেমনই বছর বছর স্কুলগুলোয় লাফিয়ে লাফিয়ে ছাত্রছাত্রীরা অন্তর্হিত (ড্রপআউট) হচ্ছে। এনজিও সংস্থাগুলোর কি কোনও পর্যবেক্ষণ আছে এই বিষয়ে? এর নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম আছে কিন্তু তা নেহাতই অপ্রতুল।

কেন শিক্ষার এমত হাল বীরভূমে? প্রথমত সরকারের তৈরি বিদ্যালয়ে সাঁওতালি ভাষার মাধ্যমে পড়ানোর শিক্ষক নেই। ওদিকে শিক্ষক সংখ্যা এমনিতেই খুবই কম। আর দ্বিতীয় কারণটি হলো, প্রান্তিক সমাজের মানুষজন মনে করছে লেখাপড়া করে কী হবে। চাকরি তো আর পাব না! তার থেকে জমিতে কাজ করলে সংসারে সামান্য হলেও আয় বাড়বে। এখানেই এনজিও সংস্থাগুলি কাজ করতে পারত। এদের মধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি কাজ, যা করতে পারে এনজিও সংস্থারা। এরপরও দুই একটা সংস্থা আছে যারা লাগাতার পরিশ্রম করে কচিকাঁচাদের লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করছে। এদের অনেকের আবার যথেষ্ট অর্থ নেই, বিদেশের ফান্ড নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। যদি এমন দশটা উদ্যোগ শুরু হয়ে থাকে, অর্থাভাবে এখন সাকুল্যে চার পাঁচটি স্কুল চলছে। তাতে সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছনো যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পর্যটনের বহর প্রবল! তবু ভালো হাসপাতাল, রাস্তা নেই সাধের শান্তিনিকেতনে

Shantiniketan: আড়কাঠি বালিমাফিয়া ক্রমাগত বালি তুলে পাচার করছে। এখানেও ব্যবহৃত হচ্ছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্ম।

এরপরও বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগের কথা বলতেই হয়। মঞ্জুশ্রী সোরেন যেমন দীর্ঘদিন ধরে একটি স্কুল ও আদিবাসীদের জন্য একটি হস্টেল চালাচ্ছেন। শান্তিনিকেতনের প্রখ্যাত রবীন্দ্র অধ্যাপক মার্টিন কেম্পশেন চালাচ্ছেন প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের জন্য একটি স্কুল। এদিকে কলকাতা থেকে এসে শ্যামাশ্রী বোস মজুমদার সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে দু-চারজন সাঁওতাল মেয়েদের পড়াশোনায় সাহায্য করছেন বাড়িতে রেখে। কিন্তু ওই যে লিখেছি, প্রয়োজনের তুলনায় তা প্রকৃতই অপ্রতুল।

শ্যামাশ্রী বোস মজুমদার

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাউল কম, শান্তিনিকেতন দাপাচ্ছে বাবুর বাড়ির 'ফাউল'-রা

Santiniketan Baul: এখন শান্তিনিকেতন ও তার আশেপাশে জায়গা করে নিয়েছে সমস্ত বাবুর বাড়ির বখে যাওয়া ছেলেমেয়েরা। তাদের পিঠে দোতারা আর সঙ্গে গাঁজার থলি। গান কিছু হচ্ছে না, বাউল চর্চাও হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা আগেই বলেছি। এনজিও সংস্থাগুলো ইতিউতি রক্তদান শিবির আর এক-আধটা চোখ দেখানোর ব্যবস্থা করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? এই সমগ্র এলাকায় ভরসা শুধুমাত্র বোলপুর আর সিয়ান হাসপাতাল। সে দু'টির অবস্থা নিদারুণ। অত্যন্ত কম সংখ্যক ডাক্তার, যন্ত্রপাতি নেই বললেই চলে। অথচ রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে বা তার পরবর্তীতে ছিল বেশ কিছু ক্লিনিক। সেগুলোর অধিকাংশেরই অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে। এক্ষেত্রেও এনজিও সংস্থাগুলোর বিশেষ কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

আরেকটি দিক হলো, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে যথাযথ রাখার ব্যবস্থা করা। তার জন্য চাই সচেতনতা ও গাছকাটা প্রতিহত করা। যে কাজ এইসব সংস্থা চাইলেই করতে পারত। নতুন প্রজন্মের আদিবাসীরাও কিন্তু প্রয়োজন ছাড়াই উচ্চমানের জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে চুরি করে গাছ কেটে দেদার বিক্রি করছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল প্রতিটি নির্বাচনের আগে ঢালাও গাছ কাটে তহবিল গড়তে, পকেট ভর্তি করতে। ফলে এক চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে শান্তিনিকেতনের পরিপার্শ্বের গ্রামগুলোতে। এর কোনও প্রতিকার নেই। বালি চুরি মাটি চুরি তো দৈনন্দিনের ঘটনা।

এত কিছু বলার পরেও বলতে হবে 'আমার কুটির'-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কথা। গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথের ভাবধারায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের এক গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। সুরুলের জমিদারদের কাছ থেকে বিনা পয়সায় পেয়ে একশো একর জমির ওপর এই আশ্রম গড়ে তোলেন সুষেন মুখোপাধ্যায়। পরবর্তীতে যোগ দেন বিপ্লবী পান্নালাল দাশগুপ্ত। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আশ্রমে তখন দিনে চাষবাস ও ব্লক প্রিন্টিং ও রাতে দরিদ্র কৃষকদের পড়াশোনা চলত। এই আশ্রম সম্পর্কে লোকমুখে প্রচলিত ছিল যে, এখানে "পাত পাড়লেই ভাত"। একটা সময় ব্রিটিশ সরকার 'আমার কুটির' বন্ধ করে দেয়। ১৯৭৮ সালে এই আশ্রম সোসাইটি রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসে। এখন অবধি নানা প্রকল্প নিয়ে দিব্য চলছে। এখানে তাঁত বস্ত্র থেকে চামড়ার সামগ্রী সবই প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ডিজিটালি স্বাক্ষর করারও উদ্যোগ নিয়েছে। মনে রাখতে হবে, এটা এমন একটি সংস্থা যারা কোনও সরকারি বা বেসরকারি অনুদান নেয় না। সম্পূর্ণত স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি সংস্থা যার ওপর প্রায় দুশোর বেশি পরিবার নির্ভরশীল। তাহলে? চাইলে করা যায়। ওই যে লিখেছি, আসল হলো সদিচ্ছা। এটাই মোদ্দা কথা।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।