দশবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে! নীতীশ কীভাবে বারবার ফিরে আসেন?

Nitish Kumar 10th term: ৭৪ বছর বয়সি এই নেতা ইতোমধ্যেই বিহারের রাজনীতির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রীদের একজন। বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে তিনি মোট প্রায় ১৯ বছর রাজ্যের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

Tanvia Barua
৫ মিনিট
দশবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে! নীতীশ কীভাবে বারবার ফিরে আসেন?

বিহারের রাজনীতিতে আবারও এক বড় মুহূর্ত। নীতীশ কুমার দশমবারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে অনুষ্টিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএ-র শীর্ষ নেতৃত্বরা। নীতিশ কুমার (Nitish Kumar) বিহারের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তিনি প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ২০০০ সালে, কিন্তু স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসেন নভেম্বর ২০০৫ থেকে। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম দশক (২০০৫–২০১৫)।

ভারতের দীর্ঘমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় এখন নীতীশ কুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। সিকিমের পবন কুমার চামলিং (২৪ বছর), ওড়িশার নবীন পট্টনায়ক (২৪ বছর), পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতি বসু (২৩ বছর), অরুণাচলের গেগং অ্যাপাং (২২ বছর— এসব নামের পাশে এখন বিহারের নেতা হিসেবেও আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বহু রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও নিজের অবস্থান ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বের প্রতীক করে তুলেছে। বিহারের আগামী রাজনীতি কোন পথে এগোবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই নতুন মন্ত্রিসভার কাজকর্ম ও নীতিনির্ধারণের উপর।

৭৪ বছর বয়সি এই নেতা ইতোমধ্যেই বিহারের রাজনীতির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রীদের একজন। বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে তিনি মোট প্রায় ১৯ বছর রাজ্যের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০০০ সালে মাত্র ৮ দিনের জন্য প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। তারপর ২০০৫ থেকে শুরু হওয়া তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবেই চলছে। ২০১৪ সালে একবার তিনি পদত্যাগ করেছিলেন, তবে পরের বছরই আবার ফিরে আসেন ক্ষমতায়। বারবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদল করেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিহারের মুখ্য প্রশাসক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। নতুন সরকারে নীতীশ কুমারের সঙ্গে আরও ২৬ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

২০১৫ সালে নীতীশ কুমার মহাগঠবন্ধন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তখন তাঁর জোট ছিল RJD (রাষ্ট্রীয় জনতা দল), কংগ্রেস ও JDU (Janata Dal United)-কে নিয়ে একটি বিরোধী জোট যা বিজেপি-কে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল। তখন ভোটাররা নীতীশকে অস্থির রাজনৈতিক জোটের চেয়ে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেই দেখেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন বিহারের ভোটার তালিকায় 'নিবিড় সংশোধন' নিয়ে বিতর্ক?

Bihar: এই জরিপে উঠে এসেছে, বিহারের ৭১% এরও বেশি দলিত ভোটার, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ ভোটাধিকার হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

২০১৭ সালে মাত্র দু'বছর পর নীতীশ আচমকাই মহাগঠবন্ধন ভেঙে দেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র সঙ্গে যুক্ত হন। এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় জোটের সঙ্গে থাকা প্রয়োজন। যদিও এই পদক্ষেপ ভোটারদের মধ্যে কিছু দ্বিধা সৃষ্টি করেছিল; কারণ বারবার জোট পরিবর্তনকে অনেকেই বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন হিসেবে দেখেছিলেন কিন্তু নীতীশ তাঁর রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকেন।

২০২০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে NDA বিজয়ী হয় এবং নীতীশ আবারও মুখ্যমন্ত্রী হন। নীতীশের রাজনৈতিক কৌশলে সফলও হন, নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বের স্থায়িত্ব। ভোটাররা যদিও তাঁর জোট পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁকে সঠিক সময়ে সঠিক জোটের সঙ্গে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল।

২০২৫ সালে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে আবারও NDA বিজয়ী হয় এবং নীতীশ ১০ বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই দশকের মধ্যে বারবার জোট পরিবর্তন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ মনে করেন এটি কৌশলী রাজনৈতিক পরিকল্পনা, কেউ আবার মনে করেন এটি বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে ফলাফল দেখিয়েছে যে নীতীশের কৌশল তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতীশের বারবার জোট পরিবর্তন মূলত ক্ষমতা ধরে রাখার একটি কৌশল। কিছু ভোটারের কাছে এটা দ্বিধার কারণ হতে পারে, তবে অনেক ভোটাররা এখনও তাঁকে অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং স্থিতিশীল নেতা মনে করেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫-এর দশক নীতীশের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা ছিল। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, তিনি দেখিয়েছেন সঠিক কৌশল গ্রহণ, অভিজ্ঞতার ব্যবহার এবং জোটকে দক্ষভাবে পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব। যদিও বারবার জোট পরিবর্তন কিছু প্রশ্ন তুলে, বাস্তবতা হলো, এই কৌশলই তাঁকে ১০ বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে সাহায্য করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি দিদির মন্ত্রণাদাতা থেকে নিজেই ভোটপ্রার্থী! কেন মিলল না প্রশান্ত কিশোরের অঙ্ক?

Prashant Kishor’s Political Fail: ‘দিল্লি মডেল’ কপি করার চেষ্টাও অন্যতম ভুল। বিহারের পরিস্থিতি দিল্লির মতো নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি বোঝায় ঘাটতি ছিল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বিহারের ভোটের হাওয়া বদলে দিয়েছে মহিলা ভোটাররাও। মহাগঠবন্ধনের বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নীতীশ কুমারের প্রকল্পকে। বছরের পর বছর নীতীশ মহিলা শিক্ষার সুযোগ, স্বনির্ভরতা ও স্বাস্থ্যখাতের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। নবম শ্রেণির মেয়েদের সাইকেল কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা, মাধ্যমিকে ভালো ফল করলেই নগদ ১০ টাকা পুরস্কার। গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করতে স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী, প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদান।

২০২৫-এর নির্বাচনের আগে ১.২০ কোটি মহিলাকে ১০,০০০ টাকা ‘সিড ক্যাপিটাল’ দেওয়া হয়। এটি আসলে সরকারি ঋণ, তবে অনেকেই নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে বলছেন, “ফিরিয়ে দিতে হবে না।” ফলে মহিলাদের জীবনে সরাসরি আর্থিক স্বস্তি এসেছে। এটি এনডিএ-র পক্ষে সমর্থন জোগাতে বিশাল সুবিধা তৈরি করেছে। এই প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর কার্যকর হওয়ায় মহিলা ভোটারদের আস্থা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ‘জীবিকা’ সদস্যরা শুধু উন্নয়নেই নয়, ভোট প্রচারেও সক্রিয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে মহিলাদের ভোট সরাসরি নীতিশের জয় নিশ্চিত করেছে। তবে বিহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কিছু উন্নতি হলেও কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল নীতীশ কুমারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সাফল্যকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন, যা তাঁর মতে নীতীশের টিকে থাকার রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। জয়ন্ত ঘোষালের মতে, "নীতীশ কুমার ভাগ্যবান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কারণ তিনি কুর্মী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বিহারের খুবই ছোট অংশ কুর্মী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি— ৫ শতাংশও নয়।" তাঁর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে নীতীশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (OBC) সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই কৌশলই তাঁকে বিশাল সামাজিক সমর্থন এনে দিয়েছে। জঙ্গল রাজের ভয়াবহ স্মৃতি যেখানে মানুষের মনে ছিল, সেখানে নীতীশ উন্নয়নমূলক কাজ ‘পারসেপশন’ তৈরি করতে সক্ষম হন; যা তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে।"

জয়ন্ত ঘোষালেরও বিশ্লেষণে নীতীশের রাজনৈতিক দক্ষতার সবচেয়ে বড় দিক হলো জোট-রাজনীতিতে তাঁর অভূতপূর্ব অভিযোজন ক্ষমতা। অল্প ভোটব্যাঙ্ক থাকা সত্ত্বেও কখনও যাদবদের দল RJD-র সঙ্গে, কখনও আবার বিজেপির সঙ্গে জোট করে তিনি ক্ষমতায় টিকে গিয়েছেন— একে তিনি বলেন নীতীশের “সরভাইভালের রাজনীতি”। আবার বিজেপির সংগঠনক্ষমতা ও আসন সংখ্যা বাড়লেও এনডিএ জোটের মধ্যে এখনও নীতীশ কুমারই অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। জয়ন্ত ঘোষালের মতে, বিজেপিও জানে যে একেবারে সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি হয়ে বিহার দখল করার অবস্থানে তারা এখনও পৌঁছয়নি। তাই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে তারা নীতীশকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে।

জয়ন্ত ঘোষাল আরও বলেন, "নীতীশ কুমার এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছেন যে তাঁকে সরালে বরং বিজেপিকেই বিহারে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে— 'একজন বিহারী বাবুকে অপমান করা হচ্ছে'; এই বক্তব্য নিয়ে মানুষ প্রতিবাদ করতে পারে। আর এই সম্ভাবনাকেই নীতীশ কৌশলে কাজে লাগিয়েছেন।" সব মিলিয়ে, জয়ন্ত ঘোষালের মতে নীতীশ কুমারের সাফল্যের কারণ হলো, ক্ষুদ্র ভোটব্যাঙ্ক থেকে উঠে এসে বৃহত্তর সামাজিক জোট গড়া, OBC ও পিছিয়ে পড়াদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা, উন্নয়নধর্মী ভাবমূর্তি গড়ে তোলা, জোট রাজনীতিতে অসাধারণ টিকে থাকার দক্ষতা এবং নিজের রাজনৈতিক ‘অপরিহার্যতা’ ধরে রাখা। এই সব কারণেই নীতীশ কুমার আজও বিহারের রাজনীতিতে টিকে আছেন এবং দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পেরেছেন বলে মনে করেন জয়ন্ত ঘোষাল।

প্রসঙ্গত, গত দুই দশকে তিনি দেখিয়েছেন, কখন কোন জোটে থাকা উচিত, কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে হয় এবং কীভাবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় স্থায়িত্ব আনা যায়। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকাও স্পষ্ট করেছে যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তব প্রকল্পই ভোটারদের মন জয় করে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নীতীশ কুমারের নতুন মন্ত্রিসভা এইসব সমস্যার সমাধান করতে কতটা সক্ষম হবে, তার উপরই নির্ভর করছে বিহারের আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা। দশমবার শপথ নেওয়া নীতীশ কুমারের সামনে এখন সুযোগ— সমালোচনা পেরিয়ে বিহারকে স্থায়ী উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।