বাহাত্তুরে বুড়ো হয়েও এত চনমনে! কী রহস্য লুকিয়ে মোদির জীবনযাপনে?

Narendra Modi Fitness Mantra: মোদি নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন। সপ্তাহে এক বা দুবার যোগনিদ্রায় যান!

inscript
৩ মিনিট
বাহাত্তুরে বুড়ো হয়েও এত চনমনে! কী রহস্য লুকিয়ে মোদির জীবনযাপনে?

বয়স ৭২। বাহাত্তুরে বিষয়টা গোলমেলে। এমনিতে আম আদমি হলে অনেকেই মারা যান এই বয়সে, অনেকেই রোগে, বার্ধক্যে জর্জরিত হয়ে সেঁধিয়ে যান ঘরে, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হারিয়ে ফেলেন সমস্ত উদ্যম। বাহাত্তুরে বুড়ো বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শীর্ণ, ন্যুব্জ, সাদা চুল দাড়ির দেহ। কিন্তু তিনি তো 'আম' নন। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। বয়স তাঁর ৭২ বছর, কিন্তু এদেশ সেদেশ ঘুরে, ভারতের জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে, সারাক্ষণ বিরোধীদের কোনও না কোনও বিপাকে ফেলার পরিকল্পনা করে চলেছেন যিনি তিনি নরেন্দ্র মোদি। মোদির কার্যশক্তি অনেক কম বয়সিদেরও লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। কীভাবে এত চনমনে প্রধানমন্ত্রী?

মোদি বলছেন, এই বিষয়ে তিনি বিশ্বে একমাত্র ব্যক্তি এমন নন। সারা বিশ্বে অনেক মানুষই আছেন যারা তাদের শক্তি, সময় এবং সম্পদের সম্পূর্ণ ব্যবহার করেন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। এক্ষেত্রে মোদি একা বা ব্যতিক্রমী নন। জীবনকে তিনি খুব তৃণমূল স্তরে প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তাঁর দাবি। মোদি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে আসার আগে কয়েক দশক ধরে তিনি দেশের প্রায় সমস্ত জেলা ঘুরেছেন। সেখানে জনগণের মাঝে মিশে সক্রিয়ভাবে কাজ করে গেছেন। এই সফরটিই তাঁর শক্তির চাবিকাঠি। কীভাবে? এই যে তিনি প্রতিটি জেলায় অন্তত একদিন করে থেকেছেন বলে দাবি, এই থাকাকালীন এমন অনেক মানুষের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় যারা তাঁকে অনুপ্রেরণা জোগান। এই মানুষদের অনেকেই নিজেদের কোনও না কোনও উদ্দেশের লক্ষ্যে নিবেদিত করেছেন। নরেন্দ্র মোদি তাদের কাছ থেকে কর্মশক্তি শিখেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভিজ্ঞতাই পুঁজি! ভারতের সব জেলায় একরাত থেকেছেন, দাবি নরেন্দ্র মোদির

PM Modi and RSS : ২০১৬ সালের পাওয়া শেষ হিসেব বলছে দেশে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শাখা রয়েছে ৫৬৮৫৯টি।

ব্যক্তিগত স্তরে শরীর ও মন চাঙ্গা রাখতে শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের বদলকে গুরুত্ব দেন মোদি। নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন। সপ্তাহে এক বা দুবার যোগনিদ্রায় যান! সক্কালবেলা উঠে হাঁটেন, সকাল ন'টার মধ্যে নিরামিশাষী মোদির প্রাতঃরাশ সারা হয়ে যায়। সাধারণ গুজরাতি খাবারই পছন্দ, তবে নিয়ম করে একবাটি দই খেতে ভোলেন না। আর খান হিমাচলের একটি বিশেষ মাশরুম, Macrula exulenta! গরম জল খান নিয়মিত। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে রাতে আক্ষরিক অর্থেই নাকে সরষের তেল দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপবাসে ভীষণ বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী মোদি গত ৩৫ বছর ধরে নবরাত্রির উত্সবে উপোস করছেন। সপ্তাহে একবার বা দুবার উপোস করার চেষ্টা তো করেনই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৯৭১-এ সংসার ছেড়েছিলেন মোদি! প্রধানমন্ত্রীর বাকি পরিবারের কথা কেন জানেই না দেশ

PM Modi Family: মোদি কান্নাস্নাত গলায় বলেছিলেন, "আমি উচ্চ পদে বসার জন্য জন্মগ্রহণ করিনি। আমার যা কিছু ছিল, আমার পরিবার, আমার বাড়ি... আমি তা দেশের জন্য ছেড়ে এসেছি..."।

তবে মোদি বলছেন, উচ্চাকাঙ্খা এবং লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য আছে। যখন কেউ উচ্চাকাঙ্খী হয়ে কাজ করেন তখন যদি তিনি কোনও উত্থান বা পতনের মুখে পড়েন, তারা অস্থির হয়ে যান। উচ্চাকাঙ্খা অবস্থান, ক্ষমতা, স্বাচ্ছন্দ্যর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কেউ যদি কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য কাজ করেন তখন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনও কিছু লাভ করার নেই। তাই এসব উত্থান-পতন তাদের প্রভাবিত করতে পারে না। লক্ষ্যে নিয়োজিত হওয়া মানে অবিরাম আশাবাদ এবং শক্তির উত্স খুঁজে পাওয়া।

মোদি বলছেন, লক্ষ্যে স্থির থাকতে গেলে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দরকার। নরেন্দ্র মোদি নিজে ১৯৭১ সালে পরিবার ছেড়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের মতাদর্শ অনুযায়ী একজন 'প্রচারক'কে পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই হয়। সবার আগে কাজ! গার্হস্থ্য এবং পারিবারিক ঝুট ঝামেলা, মায়া থেকে মুক্ত হয়ে তবেই সবটুকু দেওয়া যাবে সংঘের মত প্রচারের জন্য। আরএসএসের বিশ্বস্ত নরেন্দ্র মোদি তখন থেকেই নরেন্দ্র মোদি 'ব্রহ্মচারী' জীবনযাপন শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক বা পূর্ণ-সময়ের কর্মী হয়েছিলেন। তাই এখন এত যে শক্তি তিনি সঞ্চয় করেন, উৎপাদন করেন তা দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করাই আমার লক্ষ্য। কাজই তাঁকে শক্তি জোগায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।