সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই মুক্তি হাঁপানি থেকে, জেনে নিয়ে সতর্ক হন আজই

আপনি যদি হাঁপানির সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তাহলে আপনার কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা উচিত। হাঁপানি কিংবা অ্যালার্জি না হলেও মেনে চলুন এইসব পদ্ধতি। কারণ সাবধানের মার নেই।

Sayan Das
৪ মিনিট
সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই মুক্তি হাঁপানি থেকে, জেনে নিয়ে সতর্ক হন আজই

এই মুহূর্তে পরিবেশে দূষণ এতটাই মারাত্মক চেহারা নিয়েছে যে, সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে মুশকিল। হাঁপানির রোগে ভোগেন যাঁরা, তাঁদের পক্ষে এই পরিস্থিতি কষ্টকর। কোনও কোনও ঋতুতে এই সমস্যা আরও বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। ধোঁয়া-ধুলো এবং অন্যান্য নানা বিষয় আমাদের শ্বাসকষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলছে দিনে দিনে, কিন্তু এর সমাধানের উপায় কী? সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই হাঁপানির অসুখ এড়ানো সম্ভব।

হাঁপানি রোগের সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

শুধুমাত্র আমাদের চারপাশে ধোঁয়া-ধুলোই নয়, আরও অনেক কারণে আমাদের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও কর্মব্যস্ততার মাঝে আমাদের সারাদিন বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থেকে শুরু করে দূষিত গ্যাস এবং ধোঁয়ার মধ্যেই জীবন অতিবাহিত হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় হাঁপানি দেখা গেলে চিকিৎসার ভাষায় তাকে 'অকুপেশনাল অ্যাজমা' বলা হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের অনেক ক্ষেত্রে অ্যালার্জিও দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে প্রধানত কারণ হিসেবে পোকামাকড়, বিভিন্ন দূষিত খাবার, ফুলের রেণু, ধুলো কিংবা কোল্ড ড্রিঙ্ক থেকেও এই অ্যালার্জি হতে পারে। শুনলে অবাক হতে পারেন, তবে আমাদের ঘরে পোষা জীবজন্তুদের লোম কিংবা স্যালাইভা থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা অনেক সময় বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীকালে তা শ্বাসকষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

অ্যালার্জি সম্পর্কে আমাদের কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা অনেক সময় আমাদের হাঁপানি কিংবা অ্যাজমা হলে চিকিৎসকদের কোনওরকম পরামর্শ নিই না, বরং দিনে অনেকবার নিজেদের ইচ্ছেমতো ইনহেলার নিয়ে থাকি। তবে এটি আখেরে লাভের থেকে ক্ষতিই আরও বেশি করে। হয়তো ইনহেলার সাময়িকভাবে আপনাকে স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু পরবর্তীকালে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ঘনঘন ওষুধ না খেয়ে কীভাবে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়? এক্ষেত্রে নিয়মগুলি বলার আগে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, তা হলো, সবসময় চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। একই সঙ্গে যদি কয়েকটি পদ্ধতি মেনে চলেন, তবে তা আপনাকে স্বস্তি দেবে।

হাঁপানি কমানোর জন্য মেনে চলা কয়েকটি নিয়ম

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বদহজম কাটাতে মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন মারণ রোগ

যদি অতিরিক্ত অ্যাসিড না থাকে, তবে অ্যান্টাসিডে থাকা ক্ষার পাকস্থলীর ক্ষতি করে। শরীরের রক্তাল্পতাও দেখা দেয়।

আপনি যদি হাঁপানির সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তাহলে আপনার কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা উচিত। হাঁপানি কিংবা অ্যালার্জি না হলেও মেনে চলুন এইসব পদ্ধতি। কারণ সাবধানের মার নেই।

আমরা প্রত্যেকদিন অবসর সময়ে মোবাইল ঘাঁটা থেকে শুরু করে টিভি দেখার মতো কাজ করে থাকি। তবে তা থেকে কিছুটা সময় বের করে প্রতিদিন ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। এই ধরনের অভ্যেস যদি আপনি প্রতিদিনের জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তাহলে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ এবং বের হওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা আপনাকে সুস্থ থাকতে কিংবা হাঁপানি রোধ করতে সহায়তা করবে।

অনেকের বাড়িতেই কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে অন্যান্য একাধিক জীবজন্তু পোষ্য হিসেবে থাকে, এক্ষেত্রে তাদের লোম কিংবা স্যালাইভা থেকে আমাদের অ্যালার্জি পর্যন্ত হতে পারে। যদি আপনার এই সমস্যাটি থেকে থাকে, তবে তাদের খুব একটা কাছে না যাওয়াই ভালো।

তৃতীয়ত, যদি মরশুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার হাঁপানি রোগ বৃদ্ধি পায়, তাহলে সচেতন থাকুন। যদি আপনার শীতকালে 'ঠান্ডা' লাগার ধাত থাকে, তবে সাবধান থাকা উচিত। এক্ষেত্রে শীতকালে গরম পোশাক সবসময় নিজের কাছে রাখুন এবং গরমকালে এয়ার কন্ডিশনড ঘরেও বেশিক্ষণ থাকা উচিত না। এক্ষেত্রে সময় রাখুন নির্দিষ্ট। এমনকী, বর্ষাতেও আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বৃষ্টিতে ভেজার হাত থেকে বাঁচতে হবে এবং যদি কোনওমতে জলের ফোঁটা শরীরে প্রবেশ করে, তবে ঘরে প্রবেশ করে তৎক্ষণাৎ পোশাক পরিবর্তন করে নেবেন।

এছাড়াও আমাদের মধ্যে অনেকেরই গ্রীষ্মকালে ফ্রিজের ঠান্ডা জল না হলে একপ্রকার চলে না। তবে আপনি যদি হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে এই মুহূর্ত থেকে এই অভ্যেসটি থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ঠান্ডা পানীয় কখনওই আপনার শরীরের জন্য উপযোগী নয়।

মেনে চলুন আরও কয়েকটি নিয়ম

হাঁপানি কিংবা অ্যাজমা রোগীদের রাস্তাঘাটে বেরিয়ে যদি আচমকা সমস্যা বৃদ্ধি পায়, সেক্ষেত্রে সবসময় ব্যাগে ইনহেলার রাখা বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে যতটা কম সম্ভব, এটি ব্যবহার করা উচিত।

আমাদের মধ্যে আরও একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, দিনের যে কোনও সময়, বিশেষত মাঝরাতে যদি শ্বাসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, তবে আমরা অনেকেই চা কিংবা কফি খেতে পছন্দ করি। আমরা অনেকেই ভাবি যে, চা-কফি খেলে আমাদের শারীরিক সমস্যা কমে যাবে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে চা-কফি পান আমাদের সমস্যা আরও বৃদ্ধি করে। যদি গভীর রাতের দিকে এই সমস্যা আপনাকে কষ্ট দেয়, তবে একগ্লাস জল নিন এবং সেখানে কিছুটা নুন দিয়ে পান করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার শরীরে কোনওরকম সমস্যা সৃষ্টি হবে না এবং হাঁপানির সমস্যা কিছু সময়ের মধ্যে কমে যাবে।

আরও একটি ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে, যার সম্পর্কে বলে রাখা ভালো। উল্লেখ্য, সরষের তেলের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই পরিচিত। হাঁপানির ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার অনস্বীকার্য। কম পরিমাণ সরষের তেল নিয়ে যদি বুকে মাসাজ করা যায়, তবে হাঁপানি থেকে স্বস্তি মেলা সম্ভব। তবে এসব পদ্ধতি আপনাকে স্বস্তি দিলেও সর্বদা ডাক্তারি পরামর্শ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

শেষে একটি কথা বলতে হয় এবং সেটি হলো, যদি গর্ভাবস্থায় কোনও মহিলা ধূমপান করে থাকেন, তবে তার শিশুর হাঁপানি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে আপনি যদি সুস্থ এবং স্বাভাবিক বাচ্চা প্রত্যাশা করে থাকেন, তবে তৎক্ষণাৎ ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।